এ শহর ছেড়ে তোর চলে যাবার কথা শুনে
বৃহ, ২০১০-০৪-১৫ ১৯:১৭ আর মাত্র কটা দিন, সন্তানদের লেখাপড়ার পাট চুকিয়ে নতুন সংসারে ছেড়ে দিয়ে এ শহর ছেড়ে চলে যাবি, বাপদাদা আর শ্বশুরশাশুড়ির জন্মভিটায়
যেখানে তোর ছাত্রীজীবন গড়ে উঠেছিল আমকাঁঠালের ছায়ায় আর পদ্মানদীর
তুখোড় ঢেউয়ে সাঁতার কাটতে কাটতে; তুই ফিরে যাবি তোর আদি জন্মস্থানে
পাওয়ার আগেই গৃহে ফিরে যাবি, আমি তো এমন তোকে চাই নি কোনোদিন
ইচ্ছেরা খড়ের আগুনে পুড়িয়েছে আমাকে। তোর গৃহের আশায় দুপুরের গনগনে সূর্য মাথার চাঁদিতে অনর্গল গলে পড়েছে। দরজার কলিংবেলে দ্বিধান্বিত আঙুলের ডগা অনেকক্ষণ উদ্যত থেকে শেষমেষ ঢলে পড়ে নিচে নেমে গেছে কতোদিন- কী জানি, ভেতর থেকে তোর দীর্ঘায়িত ‘কে’ শব্দে আমার আড়ষ্ট মুখ চিরতরে মূক হয়ে যায় যদি। তবু তোর নিঃশ্বাসের শব্দ নিয়েছি প্রাণ ভরে, তোর শরীরের ঘ্রাণ দেয়াল ভেদ করে আমার বুক বরাবর ঢুকে যেতো প্রতিটি ফিরতি পথে।
এভাবে একটা জীবনও যদি পার হয়ে যায় আরেকবার তোকে না দেখে- অথচ এই শহরেই কোথাও না কোথাও তুই আছিস- তোর শোবার বিছানা পেরিয়ে বারান্দা পেরিয়ে বিপুল জনারণ্য পেরিয়ে ছুটে আসা বুকের ঢিপঢিপ দু’হাতে জড়িয়ে ধরে আমি অবিরাম বেঁচে উঠবো অনাগত দিনের ভেতর
এই শহরের কোথাও না কোথাও তুই বেঁচে থাকবি; তুই নেই জেনেও প্রতি ভোরে রাস্তায় পায়চারি করবার কালে চারদিকে তোকে খুঁজবো; আর প্রতিটি পদক্ষেপে বায়ু থেকে বুক ভরে তোর শরীরের ঘ্রাণ নেবো; একদিন গিজগিজে দুপুরে রমনার মাটিতে কান পেতে শুনবো- দূরে কোথাও, এলিফ্যান্ট রোডের কিনার ধরে ধরে, নরম নরম পা ফেলে তুই হাঁটছিস নিরুদ্দেশ। রোদের আগুনে আমার দীর্ঘশ্বাস পুড়ে যাবে, তুই আমাকে খুঁজে পাবি না, যেমন আমিও তোকে পুরো জীবনের জন্য হারাবো- একদম কাছাকাছি, একই শহরে থেকেও।
এই শহরের একটি কোণে বাসা বেঁধে তুই থেকে যা প্রিয়পাখি গাংচিল। পদ্মা শুকিয়ে গেছে তোর যৌবনের মতো; আমকাঁঠালের ছায়াতে বিষম ভাগাভাগি; কানামাছি খেলবার বিরান চত্বর তোকে কে দেবে? গ্রামের মানুষ তোকে চিনবে না। এতোসব দুঃখ আর কষ্ট সইতে কেন তুই গ্রামে ফিরে যাবি, প্রিয়পাখি গাংচিল?
তোর আরেকটা সংসার হবে। ফুটফুটে বউয়েরা। দাদী হবি। পানদানি থাকবে তোর। টুকটুকে ঠোঁট। এমন বোশেখে তোর বাসায় চাঁদের হাঁট। কেন তুই ফিরে যাবি হারানো ঠিকানায়, এসব ফেলে?
এসব কিছুই হবে না। একদা নির্বর্ষ চৈত্রে সকল বাঁধ ভেঙে তোর ঘরে ঢুকে দেখবো- দেয়ালে একখানা ছবি ঝুলছে, তোর সুন্দরী পুত্রবধূরা ঝেড়েমুছে সাজিয়ে রেখেছে ফুলে। আর অনেক অনেকদিন আগে, তোর রক্তাক্ত প্রেমিকের সকল আকুতি দলিত করে তুই ফিরে গেছিস আগের ঠিকানায়।
রোদের আগুনে আমার দীর্ঘশ্বাস কেবলই পুড়তে থাকবে।
সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই
- খলিল মাহমুদ-এর অন্যান্য কবিতাপাতা
- এই পাতাটির ক্লিকসংখ্যা 410





প্রতীক 16 বছর 17 সপ্তাহ আগে
হ্যাভক - দারুণ লাগল
প্রবাল 16 বছর 17 সপ্তাহ আগে
এই শহরের একটি কোণে বাসা বেঁধে তুই থেকে যা প্রিয়পাখি গাংচিল। পদ্মা শুকিয়ে গেছে তোর যৌবনের মতো; আমকাঁঠালের ছায়াতে বিষম ভাগাভাগি; কানামাছি খেলবার বিরান চত্বর তোকে কে দেবে?
- অসামান্য
একটা হ্যাংওভারের মধ্যে নিয়ে যাচ্ছে
এ টু জেড চমত্কার
Suman 16 বছর 17 সপ্তাহ আগে
ek kothay oshadharon, r-o besi kore chai
সন্ন্যাসী 16 বছর 17 সপ্তাহ আগে
মন্তব্য করার কিছু আসলেই নেই। এমন দুর্দান্ত লেখার সামনে দাড়ালে মন্তব্য করতে আর ইচ্ছে করে না।
পথের শেষে যে শূণ্যতা, তাতে জমে আছে মেঘ... আমি সে মেঘের ওপারে যাবো
Ringa 16 বছর 17 সপ্তাহ আগে
ফারিহানদা, হেব্বি !!!
শিহাব 16 বছর 17 সপ্তাহ আগে
স্মতিজড়িত যাত্রা শরিক হলাম
অত্যন্ত সুলিখিত কবিতা
মৌসুমী 16 বছর 17 সপ্তাহ আগে
ফারিহানদা, অনেক অনেক ভাললাগা
Jonaki 16 বছর 17 সপ্তাহ আগে
Advut lekhati .......................
সুকোমল 16 বছর 17 সপ্তাহ আগে
ফিরিয়ে নিয়ে গেল কোনো পুরোনো দিনে
বড় মায়াময় লিখেছেন
খলিল মাহমুদ 16 বছর 16 সপ্তাহ আগে
প্রতীক
অনেক ধন্যবাদ।
____________
প্রবাল
আপনার মন্তব্যে খুব অনুপ্রাণিত হলাম। ধন্যবাদ।
____________________________________
Suman
অনেক ধন্যবাদ সুমন আপনাকে।
________________________
সন্ন্যাসী
মন্তব্য না করেই অনেক কিছু বলে গেলেন, আর নিয়ে গেলেন সবটুকু। ধন্যবাদ।
__________________________________________________________
Ringa
ধন্যবাদ রিঙ্গ।
_____________
শিহাব
শরীক হলেন জেনে ভালো লাগলো। ভালো থাকুন।
____________________________________
মৌসুমী
অনেক ধন্যবাদ মৌসুমী। ভালো থাকুন।
_____________________________
Jonaki
ধন্যবাদ জোনাকি। আশা করি ভালো আছেন।
_________________________________
সুকোমল
ধন্যবাদ সুকোমল। আশা করি আপনার সঙ্গেই আছি। ভালো থাকুন।
maganlal 16 বছর 17 সপ্তাহ আগে
anobodyo..........................................!!!
দূরের জোনাকি 16 বছর 16 সপ্তাহ আগে
সংক্ষিপ্ত মন্তব্য - SALUTES! SALUTES ! AND SALUTES......
খলিল মাহমুদ 16 বছর 16 সপ্তাহ আগে
আপনাদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা।
মধুছন্দা 16 বছর 16 সপ্তাহ আগে
ফারিহানদা, বউয়েরা পুত্রবধূ হয়েছে দেখছি
ফেমিনিস্ট ব্যাখায় যাবনা, খুব ভাল লাগল লেখাটা
সহজে মন ছুঁয়ে যায় এরকম লেখা
প্রতীক 16 বছর 16 সপ্তাহ আগে
ফারিহানদা আমার নাম হ্যাভক না, প্রতীক
আপনার কবিতাটা হ্যাভক
খলিল মাহমুদ 16 বছর 16 সপ্তাহ আগে
মধুছন্দা
হ্যাঁ, বউয়েরা তো পুত্রবধূই:) মন্তব্যের জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
প্রতীক
ভুলের জন্য দুঃখিত। ঠিক করে দিয়েছি। ধন্যবাদ।
নতুন মন্তব্য পাঠান