কবির নায়িকা

রক্তিম
- (রক্তিম)
অদ্ভুত আলোমুখ সেই বনলতা সেন
কবিতার ওপারে নিরবে দাঁড়িয়েছেন।
চুল তার ঘন বরষার কালো মেঘ
চলার ছ্ন্দ যেন নবজন্ম নদী বেগ।
গ্রীষ্মে ছড়ায় জুঁই বকুল রজনী সৌরভ
রাত জাগানিয়াতে শোনায় সঙ্গীত গৌরব।
আষাঢ়ের মেঘে যেন তার কাজল আঁখি
নিঃশব্দে এসে পরায় প্রেম বন্ধন রাখি।
কবিদের মানসচক্ষে সে যে অনন্ত যৌবনা
বিনা দর্শনে ছুঁয়ে ছুঁয়ে নিত্য করে উন্মনা।
জানি জানি তিনিই সেই কায়াহীন কাহিনী
তবু কবিকুল অহরহ চায় অনন্য সোহিনী।
কারোর নীরা নন্দিনী, জীবনানন্দের বনলতা
আখরে আখরে স্থিতি চিত্ত চিরন্তনী কবিতা।



অভিজিৎ 9 সপ্তাহ 6 দিন আগে
কবিতাটি পড়তে পড়তে মনে হলো, কবি যেন বাংলা কবিতার অমর নায়িকাদের একসঙ্গে বসিয়ে তাঁদের প্রতি নীরব প্রণাম জানিয়েছেন। বনলতা সেন, নীরা, নন্দিনী—এরা প্রত্যেকেই এক একটি যুগ, এক একটি অনুভূতির নাম। তাঁদের একসঙ্গে স্মরণ করার মধ্যে এক ধরনের নস্টালজিয়া আছে... বিশেষ করে "কায়াহীন কাহিনী" কথাটি আমার খুব ভালো লেগেছে।
এই একটি পংক্তিতেই যেন ধরা পড়েছে—কবির নায়িকারা বাস্তবের মানুষ হয়েও শেষ পর্যন্ত কাব্যেরই অধিবাসী। সহজ ভাষা, আর পুরো কবিতাজুড়ে বাংলা কবিতার ঐতিহ্যের প্রতি এক আন্তরিক ভালোবাসা অনুভব করা যায়। পড়তে পড়তে মনে হলো, এ যেন শুধু একটি কবিতা নয়, প্রিয় কবিদের প্রতি একজন কবির বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।
অভিজিৎ
ASIT KUMAR ROY 8 সপ্তাহ 2 দিন আগে
তোমারও কি জমেছে আজ মন জুড়ে মেঘ
হৃদয়ের অতলতলে গভীরে উতল আবেগ;
ফেলে আসা সবুজ দিন আবার খুলেছে দ্বার
স্বচ্ছ সরোবরে মিলেমিশে ছায়া ফেলে অবসর।
ক্ষণে ক্ষণে আকাশ বিদীর্ণ বজ্রপাতে
চূর্ণ-বিচূর্ণ মন জর্জরিত আঘাতে আঘাতে।
দিশাহারা পাখী খুঁজে পায়না তাঁর বাসা
হারিয়েছে প্রিয়জন যে ছিল আজন্ম আলো আশা।
চোখের তারায় যার জ্বলে থাকত ধ্রুবতারা
সে ঠিকানা ছিল পরম আশ্রয়, মায়া মমতায় ঘেরা।
আজো খুঁজে ফিরি সেই শান্ত শীতল স্নিগ্ধ ছায়া
ঝড়ের রাতে মনের মুকুরে ভেসে ওঠে তাঁর কায়া।
এ নয় নদীর ঠিকানাবিহীন চকিতেই থেমে যাওয়া
সে'যে হবে আরো পরিণত অন্তহীন দিশায় ধাওয়া।
পাখীর ঠোঁটে সে এনে দেবে নবজাতকের খবর
সজনে পাতায় তিরতির দোলা এই বুঝি অবসর।
নতুন মন্তব্য পাঠান