লেভেল ক্রসিংয়ে
সোম, ২০২৬-০৭-০৬ ০৪:২৭ লেভেল ক্রসিংয়ে বসে ছিল একটা কাক। অতি দীর্ঘ সময় গেট বন্ধ থাকলে ঘুম ঘুম ভাব আসে। টোটোর শানুগীতি গণসংগীত হয়ে ওঠে। কিছু তেঁতুলপাতা খসে পড়ে বাইকের চিবুক বিশ্রামের ঠাঁই এর ওপরে। অতি দীর্ঘ সময় গেট বন্ধ থাকলে সন্দিহান হয়ে ওঠে হৃদয়। হয়তো গেটম্যান স্নান করতে গিয়ে ভুলে গেলো জনতার কথা। অথবা কোনো কোকিলস্বরের মহুয়ায় আবিষ্ট হয়ে পড়ে রইলো কড়িকাঠের লম্বরেখায়। হয়তো হুট করে অভিকর্ষজ ত্বরণ কমে যাওয়ায় থমকে গেলো সময়। ট্রেনের গতিবেগ কমে গেলো নায়িকার বিষাদঘন কিউমুলোনিম্বাসে।
লেভেল ক্রসিংয়ে বসে থাকে একটা ফড়িং সারা রাত জুড়ে। এখন পাল্টে গেছে ট্রাফিক। রিক্সায় শাড়ি জড়িয়ে যাওয়ার ভয় নিয়ে বসে থাকে না আর রাই। নড়বড় করতে করতে এগিয়ে আসে অতিকায় ট্রাক, মাথায় দুটি শিং। মাথায় শিং গজালে গতিপথ এমনি এমনি সরে যায় পুকুরগুলির দিকে। জন্ম নেয় আত্মহত্যাপ্রবণতা। লেভেল ক্রসিং অনেকক্ষণ খুলছে না বলে কিছু অনুশীলন সমিতির সদস্য এগিয়ে যায় অকুস্থলে। গেটম্যানের উড্ডীন গামছা তাদের হতাশা বৃদ্ধি করে। প্রকৃতির পেঁপে খসে যায় , ঝরে পড়ে তরুক্ষীর। আমাদের পৃথিবী এক বিঘৎ অপেক্ষায় থাকে কখন খুলে যায় গেট। এই ক্ষণিকের অযাচিত একত্রিত হওয়া আমাদের ধাতে সইলো না। ভাঙা আয়নায় অবাঞ্চিত লিপস্টিকের দৃশ্য চুরি করা কিশোরের হাজতবাস হলো সে পৃথিবীতে। হঠাৎ বিরিয়ানি ডেলিভারি বয় আটকে যাওয়ায় কিছুক্ষণের সুবাস আমাদের সারমেয় উদরে ঘৃতসুন্দরী। চলে যাই , এমন হিদাস্পিসের যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে পরাজিত আলেকজান্ডারের মতো ঢুকে পড়ি বার্লির গন্ধের ম ম করা একটা বাস্তিল ঘরে। রুমাল রেখে এলাম ক্রসিংয়ের গেটে , যাতে সিট ধরে রাখা যায় পরবর্তী শোএর জন্য।
- sutanuti-এর অন্যান্য কবিতাপাতা
- এই পাতাটির ক্লিকসংখ্যা 211





এনা 1 সপ্তাহ 3 দিন আগে
অদ্ভুত অদ্ভুত
কাপাসতুলো 1 সপ্তাহ 2 দিন আগে
‘ভাঙা আয়নায় অবাঞ্চিত লিপস্টিকের দৃশ্য চুরি করা কিশোরের হাজতবাস হলো সে পৃথিবীতে। হঠাৎ বিরিয়ানি ডেলিভারি বয় আটকে যাওয়ায় কিছুক্ষণের সুবাস আমাদের সারমেয় উদরে ঘৃতসুন্দরী।’
incredible word-craft!
পৃথা 1 সপ্তাহ 2 দিন আগে
দুর্দান্ত লেভেলের ক্রিয়েশান
ASIT KUMAR ROY 1 সপ্তাহ 2 দিন আগে
লাল সিগন্যাল এখনো সবুজ হয়নি। তাই অপেক্ষার সময় বেড়েই চলেছে। নববধূর মন হাল্কা করতে সদ্য হওয়া বর বলে -সিগন্যাল পেরলেই তুমি হাল্কা হাসির গান গায়তে পারবে। একটু সবুর কর।
একটা এ্যাম্বুলেন্স একটানা হুটার বাজিয়ে চলেছে। যেন সিগন্যাল ম্যন
এখনি ক্রসিং গেট খুলে দিতে বাধ্য হয়। এই আষাঢ় মাসে ভরা বরষা হবার কথা ছিটে ফোঁটা কোথাও কখনো তাতে গরম আরও বাড়ে। বাসের ভিতর থাকা কচি বাচ্ছার কান্না কিছুতেই থামছেনা। তাঁর পিতার পরান উতলা বলে ওঠে - তুমি কেমন মা! বাচ্ছাকে থামাতে পারছনা। অবুঝ মা ফুঁসে ওঠে -এই ভিড় বাসে তুমি যেটা বলতে চায়ছ সেটা যে কিছুতেই সম্ভব নয়। সকলেই ভাবছে কখন আসবে সেই প্রতিক্ষিত সময়। বৈতরণী সবাই যে পার হতে চায়।
অবশেষে ঝুম ঝুম করে নূপুর বাজিয়ে সে আসে দূর থেকে শোনা যায় তাঁর সুতীব্র শঙ্খধ্বনি । সবাই যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে এইবার বুঝি এসে পড়বে সেই শুভলগন। সিটি বাজিয়ে চলে গেল লোকাল ট্রেন, কিন্ত সিগন্যাল গেট খোলা হোল না। তখনি আকাশ থেকে ঝমঝমিয়ে নামে বৃষ্টি। আষাঢ়ের বৃষ্টি যেন এই সময়ের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেছিল। এপার ওপারের সব যাত্রী যেন একটু স্বস্তি পায়। চকিতে এ্যাম্বুলেন্স থেকে সদ্যজাতর কান্না ভেসে এল। হুটারের সেই তীব্র ধ্বনি সহসা থেমে যেতে অদ্ভুত প্রশান্তি নেমে আসে পরিবেশে। কে যেন খবর ছড়িয়ে দিল লেট করা দুরন্ত নাকি এখনি পাশ করবে। এপারে ওপারে তখন দারুন ঝাপসা বৃষ্টি। মাদল বাজিয়ে ধামসা নৃত্যে ব্যস্ত। অপেক্ষা পর অপেক্ষা দুরন্ত এক অপেক্ষা।
kranti 5 দিন 4 ঘন্টা আগে
ভাল বা মন্দ জানিনা
তবে বেশ অদ্ভুত
kranti 5 দিন 4 ঘন্টা আগে
"নায়িকার বিষাদঘন কিউমুলোনিম্বাসে"
এটা কি ছিল?
নতুন মন্তব্য পাঠান