পত্র কবিতা - জন্মদিন

পত্র কবিতা - জন্মদিন
-
(রক্তিম)
আমিও আমার জন্মদিনে তোমায় খুঁজি। সেই আটপৌরে শাড়ি ঠোঁটের কোণে হাল্কা হাসি মেশানো কি এক চেনা গন্ধের মা'কে। বাঁশ বাগানের পাশ দিয়ে গেলেই মনে হয় মা ফিসফিস করে তুমি বলছ -রাতবিরেতে সাবধানে যাস বাবা কোথায় কি পোকামাকড় আছে বলাতো যায় না। পিছন ফিরে দেখি শুকনো পাতায় বাতাস খেলে বেড়াচ্ছে। ইচ্ছে করে পুকুরের জলে ডুব সাঁতারে নিজেকে কষ্ট দিই, যদি তুমি আসো। কপট রাগে বলবে এমন করার কোন মানে হয়না বাবা, আমিতো আছে সেই জন্মক্ষন থেকে। এযে নাড়ীর টান। তবে কেন এমন দুষ্টুমি করা। যেদিন তোমায় উড়োজাহাজে বেড়াতে নিয়ে গেলাম গৌহাটি তোমার চোখে অদ্ভুত আলো দেখেছিলাম ঠিক যেন কাঞ্চনঞ্জঙ্গার প্রথম সূর্য দেখা। বৃষ্টি দিনে ছাতা ধরিয়ে দিয়ে বলতে -ছাতা সাথে রাখো জলে ভিজলেই তোমার অসুখ করে জান না! হেসে বলতাম বেশ ভালো হয়, তুমি তাহলে আমার মাথার কাছে বসে থাকবে সারাক্ষন সব কাজ ফেলে।
ছবির ফ্রেম থেকে শুধু শুধু দেখলে হবে! বেড়িয়ে এসো মা। আজ আমার জন্মদিন চৈত্র মাসের শেষ শনিবার অমাবস্যার রাত। চলে এসো মা। অনেকদিন তোমার হাতে অমৃতময় পায়েস খাওয়া হয়নি। তোমার স্বপ্নিল যে তোমায় খুব কাছে পেতে চায়।



মধুছন্দা 2 সপ্তাহ 17 ঘন্টা আগে
খুব আন্তরিক
আকাশ নেরুদা 1 সপ্তাহ 5 দিন আগে
ভীষণ সংবেদনশীল , আবেগময় চিঠি ।
ASIT KUMAR ROY 1 সপ্তাহ 3 দিন আগে
আকাশের রং আর মানবের মন ক্ষনে ক্ষনে বদলায়।
হারিয়ে ফেলে নিজ অস্ত্বিত্ত্ব লোভ মোহের কুয়াশায় ।
তবু অন্তরে কেবা কি যেন কুরেকুরে খেয়ে নেয়
তাঁকে চিনিনা জানিনা তবু সে অজান্তে অন্তরে রয়।
সে কে? কেনই বা আসে? কি সে বলতে চায়
আমিই বা কে? কেনই বা অতীতে মন ফিরে যায়।
বুকের ভিতর অফুরান জিজ্ঞাসা উত্তর খুঁজে ফিরি
পুরানো প্রাসাদের দেয়াল চিত্রে কি উত্তর আছে?
কতক চিনি কতক চিনিনা বুকের ভিতর হাঁফ
ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় ছবি ছুঁয়ে দেখার ইচ্চায়।
স্পর্শের পলকে নিঃশ্বাস প্রশ্বাসের বদল আমি কে?
সমুখে এই অপরূপা! এইকি সেই অনামিকা আংশুকা।
বিদ্যুৎ তরঙ্গে বুঝি আমি নই বর্তমানের করনিক
সহস্র বছর আগের কোন এক সামান্য চিত্র-শিল্পী।
কোন এক অতৃপ্ত নায়িকার ছবি এঁকে চলেছি
ঘন নীলাভ চোখ রাজহংসী শরী্র ঘিরে নগ্নতা।
যে নগ্নতায় কামনার আগুন বিন্দুমাত্র থাকেনা
থাকে শুধু অনন্য হাসির পবিত্র কলুষবিহীন প্রেম।
কোন মন্ত্রবলে তুমি আংশুকা আর আমি অনিকেত
দুজনে দুজনার কাছাকাছি অথচ সমান্তরাল দুরত্ব।
ঘন নীল প্রেক্ষাপটে ফুটে উঠেছে অসাধারণ চিত্র
চিত্র থেকে প্রেমিকা উঠে এসে বলে -তুমি এসেছ?
আমি তখন অনির্বাণ নই রাজাদেশ বহনকারী শিল্পী
নই সেই নায়িকার একান্তআপন নিভৃত মনের প্রেমিক।
পাখী ডাকা ভোর ব্রাম্ভ মুহূর্তে দিবাকরের অস্তিত্ব
হ্যাঁ আমি এসেছি কাল প্রাতেই চলে যাব যুদ্ধক্ষেত্রে।
সে যেন কবেকার কথা প্রাসাদ অলিন্দে প্রতিধ্বনি
সব কিছু যেন থমকে আছে ফ্লাশব্যকের চিত্রপট।
কে যেন ডাক দেয় যান্ত্রিক আলোয় চমক ভাঙে
সরোবরের জল আন্দোলিত তীরে তীরে বার্তা পৌঁছায়।
'' সাবজি '' এক লহমায় সম্বিত ফিরে পাই অনির্বাণ
দ্রুত চিত্র পাল্টে অতীত মুছে ঘরে ফেরে পথভোলা।
ASIT KUMAR ROY 1 সপ্তাহ 2 দিন আগে
এ আমার দেশ রক্তে কেনা দেশ
বুকের ভিতর মাদল বাজে
শত্রুরা সব সরে দাঁড়া।
সবাই মিলে জাগতে হবে
নিশান তুলে ধরতে হবে
সপাট জবাব দিতে হবে
তাদের কে সব চিনতে হবে
টুকরো হতে আমার দেশ
মদত দিচ্ছে যারা
কোনটা চরম সত্য মিথ্যা
সবাই সেটা ভালই চেনে জানে।
তাইতো বুকে রবি নজরুল
আঠেরো আগুন সুকান্তকে মেনে।
দিকে দিকে সজাগ থেকো
মুখ মুখোশে শরীর খেকো
ফুল কুঁড়ি সব দেয় ঝরিয়ে
স্বপ্ন ইচ্ছা আশা দেয় পুড়িয়ে।
শত্রুর দাঁত ভাঙতে হবে
সিংহ রবে গর্জাতে হবে।
সাজিয়ে নেবো আমার দেশ
আকাশ ভরা সূর্য তারা।
ASIT KUMAR ROY 1 সপ্তাহ 1 দিন আগে
মাগো তোর মেয়েকে ঘরেই থাকতে দে
পড়তে যেতে বলিস'না।
আমাদের স্বপ্ন দেখা বারণ
আমাদের গণ্ডীবদ্ধ জীবন
তাই আকাশ দেখতে বলিস'না মা।
ওদের চোখে অতৃপ্তির ঈর্ষা ঝরে
যেন হাতে পেলেই খাবে ছিঁড়ে।
তাই বাইরে যেতেই ভয় করে
পরান পাখী গুমরে মরে।
নিরাপদ তোর স্নেহের আঁচলে
রাখ চিরদিন ধরে।
আমাদের স্বপ্ন দেখা বারণ
আমাদের গণ্ডীবদ্ধ জীবন
তাই আকাশ দেখতে বলিস'না।
বন্ধু আমার হারিয়ে গেছে
ওদের চোখের ইশারায়।
আসবে বলে আসেনি জন্মদিনে
সে পথ হারাল কোথায়?
সে যে আমার খেলার সাথী
মনের কথা বলব কারে।
লাশ মিলেছে যার এঁদো পুকুরে
অকালে প্রাণ গেছে ঝরে।।
আমাদের স্বপ্ন দেখা বারণ
আমাদের গণ্ডীবদ্ধ জীবন
তাই আকাশ দেখতে বলিস না।
ASIT KUMAR ROY 1 সপ্তাহ 1 দিন আগে
তামান্না
- অসিত কুমার রায় (রক্তিম)
মাগো তোর মেয়েকে ঘরেই থাকতে দিস
লেখা পড়া করতে বলিস'না।
আমাদের স্বপ্ন দেখা বারণ
আমাদের গণ্ডীবদ্ধ জীবন
তাই আকাশ দেখতে বলিস'না মা।
ওদের চোখে অতৃপ্তির ঈর্ষা ঝরে
যেন হাতে পেলেই খাবে ছিঁড়ে।
তাই বাইরে যেতে ভয় করে
পরান পাখী গুমরে মরে।
নিরাপদ তোর স্নেহের আঁচলে
রাখ চিরদিন ধরে।
আমাদের স্বপ্ন দেখা বারণ...।।
বন্ধু আমার হারিয়ে গেছে
বাঁকা চোখের ইশারায়।
আসবে বলে আসেনি জন্মদিনে
পথ হারাল কোনসে অজানায়?
সে যে আমার খেলার সাথী
মনের কথা বলব কারে।
লাশ মিলেছে যার এঁদো পুকুরে
অকালে তাঁর প্রাণ গিয়েছে ঝরে।।
আমাদের স্বপ্ন দেখা বারণ...।।
ASIT KUMAR ROY 1 সপ্তাহ 1 দিন আগে
মাগো তোর মেয়েকে ঘরেই থাকতে দিস
লেখাপড়া করতে বলিস'না।
আমাদের স্বপ্ন দেখা বারণ
আমাদের গণ্ডীবদ্ধ জীবন
তাই আকাশ ভরা সূর্য তারা
দেখতে বলিস'না মা। দেখতে বলিসনা। মাগো...
ওদের চোখে অতৃপ্তির ঈর্ষা ঝরে পড়ে
যেন হাতে পেলেই পশুর মতো খাবে ছিঁড়ে ছিঁড়ে।
তাই বাইরে যেতে ভয় করে
পরান পাখী গুমরে মরে।
নিরাপদে তোর আঁচলে রাখ চিরদিন ধরে।
আমাদের স্বপ্ন দেখা বারণ...আমাদের গণ্ডীবদ্ধ জীবন
তাই আকাশ ভরা সূর্য তারা
দেখতে বলিস'না মা। মাগো... মাগো...
বন্ধু আমার হারিয়ে গেছে
বাঁকা চোখের ইশারায়।
আসবে বলে আসেনি তাই আমার জন্মদিনে
পথ হারাল কোন'সে অজানায়?
সে'যে আমার খেলার সাথী
আজো খুঁজি আঁতিপাঁতি।
মনের কথা বলব এবার কারে,
লাশ মিলেছে যার এঁদো পুকুরে।
অকালে তাঁর প্রাণ গিয়েছে ঝরে।।
আমাদের স্বপ্ন দেখা বারণ...
আমাদের গণ্ডীবদ্ধ জীবন
তাই আকাশ ভরা সূর্য তারা
দেখতে বলিস'না মা। দেখতে বলিসনা। মাগো
ASIT KUMAR ROY 1 সপ্তাহ 10 ঘন্টা আগে
সাগর জানো কাল সারারাত বৃষ্টির গান শুনেছি। রাগে অনুরাগের মিশ্রসুরে তান আলাপ বিস্তারে বিলম্বিত ঠায়ে দ্রুত ঝালার রূপে অরুপে। তুমি ছবি পাঠিয়েছ মুঠোফোনে নিবিড় সবুজ বনানী বৃষ্টির জলে ভিজে মিলেমিশে একাকার। দূরে বহুদুরে ঝাপসা বাড়িগুলো নিজেদের অস্তিত্ব তীব্রভাবে প্রকাশ করতে চায়ছে। ওদের কারো রঙ সবুজ কারো গেরুয়া কেউ হয়তো সাদা। তোমার এই ছবি যেন কোন টিলা বা পাহাড় থেকে তুলেছ? তুমি যে বলেছিলে, তুমি নীল সাগরে যাবে তবে কেন ধূসর পাহাড়ে বেড়াতে গেলে! নীল সাগরের নোনা জলে স্নান করে তুমি বারবার নতূন হয়ে যাও। বড় বড় ঢেউয়ের সাথে পাঞ্জা লড়ে যাও নির্বিকারে। বোঝাও বুঝিয়ে দাও জগত সংসার'কে এই বয়সে এটা তোমার কাছে কোন ব্যপারই নয়। বয়সটা শুধু সংখ্যামাত্র। তাহলে কি তুমি তোমার দিদির বাড়ি ঘাটশিলা গেছ? সেখান থেকে এই ছবি পাঠালে। শাল সেগুন মহুয়ার দেশে তোমার সেজদি বাড়ি। একবার নিয়ে গিয়েছিলে বেশ মনে আছে। তোমার প্রিয় সেজদি এখন কেমন আছে? থাক সে সব কথা।
তোমার শেষের অস্ত্রপচারের পর তুমি ঠিক আছো বলে মনে হচ্ছে। এই অঝোর ঝরা বৃষ্টিতে খুব ভিজেছ তাইনা! নইলে তুমি বৃষ্টি ভেজা ছবি তুলবে কি করে? এইতো তোমার দোষ কেমন একটা বেপরোয়া বহেমিয়ান চালচলন। অনেকেই হা হা হা করে ওঠে বলে এই বয়েসে অমন করতে নেই। তোমার মুখের হাসি বলে দেয় -আমার জীবন আমি বুঝে নেব। জীবনটাকে আমি এমনি করেই উপভোগ করতে চাই।'' মুখে প্রকাশ না করলেও তোমার বেপরোয়া বহেমিয়ান ভাব আমার ভীষণ ভালো লাগে। দূর থেকেই বলছি ভালো থেকো সুস্থ থেকো। হয়তো কোনদিন আবার দেখা হবে কোন এক সাদা পাল তোলা নীল বন্দরে।
ASIT KUMAR ROY 6 দিন 10 ঘন্টা আগে
তিলোত্তমা লিখেছে যে সে ভাল নেই
মনকষ্টের রক্তের কালিতে লিখেছে;
ঝরে যাওয়া বৃষ্টির দাগে দাগে লিখেছে
মা তুমি পথ ভ্রষ্টা।
তার জীবন এখনো মরুভুমির বালুচর
শুধু ক্লান্ত অবসাদ ঝরে ঝরে পড়ছে
বুকের পরে অক্ষরে অক্ষরে।
দিনে দিনে বিবর্ণ লিপি
জমে জমে আজ পাহাড়।
তুমি আজ চোরাপথে হারিয়ে গেছ মা।
তুমি পথ ভ্রষ্টা।
নির্যাতিতার যন্ত্রণা আজো বুঝতে পারনি;
সেই কিশোরীর আর্ত চিৎকার আমি শুনেছি।
শেষ চেষ্টার প্রতিবাদে যখন সে ভেবেছিল
তাঁর চিৎকার মাঠ ময়দানে খানা খন্দরে
পৌঁছে যাবে ইথার তরঙ্গে ভেসে ভেসে।
ঠিক তখনই ভারী পাথরে সব গল্প শেষ...
কিশোরীর স্বপ্ন দুমড়ে মুচড়ে ফুরিয়ে গেল;
আর সে কোনদিন ডাকবেনা তাঁর মাকে
-মা ওরা আমাকে নষ্ট করে দিয়েছে।'
আজ তুমি অপ্সরা'কে অবহেলা করছ!
আমায় সওদা করে আজ রাজার পাশে;
তুমি ভুলতে বসেছ,
নয়তো তোমায় ভুলিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
কিম্বা চকমকি আলোয় পথ ভুলে গেছ।
একদিন সত্যের আগুনে শপথ নিয়েছিলে
কি তুমি করবে? কি তুমি করতে পার?
তাইতো খোলা চিঠিতে সবটা জানালাম।
নিজের লক্ষে স্থির থেকো মা...
চোখে জ্বালিয়ে রাখো সত্যের আগুন
উজান ভেঙে ভেঙে এগিয়ে যাও।
দুনিয়াকে বুঝিয়ে দাও
তুমিই সেই অভয়ার মা।
তুমি পথ ভ্রষ্টা নও।
নতুন মন্তব্য পাঠান