সেই সাইকেলটা
রবি, ২০২৬-০৬-২১ ১৩:৫৮ কিছু বছর আগে, আনন্দবাজারের আরো আনন্দ থেকে একটা ছোটো গল্পের প্রতিযোগীতা করেছিলেন, যেখানে ওঁরা একটা লাইন দিয়ে সবাইকে বলেছিলেন সেটা ব্যবহার করে গল্প লিখতে। তার পর আর কোনো ফলাফল সম্ভবতঃ ওঁরা প্রকাশ করেন নি। কিন্তু গল্পটা রয়ে গেছে। ওনাদের দেওয়া লাইনটা [ ] এর ভেতরে দিলাম।
সেই সাইকেলটা
----------------
সাইকেলটা বাবানের থেকে ফস করে কেড়ে নিল তিয়াশা।
‘দে তো! আজ আর হেঁটে লঞ্চঘাটে যেতে ইচ্ছে করছেনা।’
কিছু বলতে পারলো না বাবান। তিয়াশাটা এমনই। বাবানের যা কিছু, সেটা জোর করে দখল না করলে ওর চলেনা। সেই ক্লাস টুতে যখন ওরা বাবানদের পাশের বাড়িতে ভাড়া এল, তখন থেকে এরকমই চলে আসছে।
তিয়াশা নদী টপকে রাতুল স্যারের টিউশানিতে যায়। লঞ্চঘাট অব্দি হেঁটেই যায় রোজ। আজ বাবানের নতুন সাইকেলটা দেখে জাস্ট হাইজ্যাক করে নিয়ে চলে গেল।
বাবান ভেবেছিল তিয়াশাকে সাইকেলের সামনে বসিয়ে আজ ঝিলের ধারে যাবে। একঝাঁক অচেনা পাখি এসেছে, দেখবে দুজনে। বিরুদার দোকানে ঘুগনি খাবে। তারপর হেমন্তের ছোট দিন শেষ হওয়ার আগেই ফিরে আসবে। শুধু তিয়াশাকে বলতে হবে আজকের টিউশানিটা ডুব মারার জন্য।
সকাল থেকে অনেকবার এই সিনগুলো মনের মধ্যে উল্টেপাল্টে কল্পনা করেছে বাবান। এমনকি সাইকেলের সামনে থেকে হাওয়ায় উড়ে আসা তিয়াশার চুলের গন্ধটা কেমন হবে, সেটাও। কিন্তু সব ভণ্ডুল হয়ে গেল।
লঞ্চডুবির খবরটা যখন এলো, তখন প্রায় বিকেল। নদীর ধারে ও কার সঙ্গে, কিভাবে এসেছিল, সেটা আজও মনে করতে পারেনা বাবান। শুধু মনে পড়ে অনেক লোকের চেঁচামেচি। জলপুলিশের বোট। মাঝিদের ডিঙি। সূর্যাস্তের লাল জল। আর লঞ্চঘাটের সাইকেলস্ট্যান্ডে দাঁড় করানো একটা চকচকে নতুন সাইকেল।
কখনো কখনো হাডসনের তীরে দাঁড়িয়ে বাবান যেন স্পষ্ট দেখতে পায় সাইকেলটাকে।
বিদিশা বুঝতে পারেনা ওর এই অন্যমনস্কতার কারণ। বুঝতে পারেনা বিপুল আয় ও ব্যাংক ব্যালেন্স সত্যেও কেন প্রতিটি ডলার বাবান অতি সন্তর্পণে খরচ করে। জমায়। বিদিশা জানেনা ওর আসল প্ল্যান।
[ছোটবেলার বন্ধু তিয়াশার জন্যে একটা নদী কিনবে ভেবেছে বাবান।]
- শ্রীহরি গলগ্রহ-এর অন্যান্য কবিতাপাতা
- এই পাতাটির ক্লিকসংখ্যা 331





রেহানা 3 সপ্তাহ 5 দিন আগে
সুলিখিত আর খুব সুন্দর
এনা 3 সপ্তাহ 5 দিন আগে
দারুণ শ্রীহরিদা
নিঝুম 3 সপ্তাহ 5 দিন আগে
ভাল লাগল
rathin 3 সপ্তাহ 4 দিন আগে
সার্থক ছোটো গল্প
মোহনা 3 সপ্তাহ 4 দিন আগে
অসামান্য লাগল, গল্পের বাঁধুনি, বাক্য ও দৃশ্যচয়ন (উদাঃ এমনকি সাইকেলের সামনে থেকে হাওয়ায় উড়ে আসা তিয়াশার চুলের গন্ধটা কেমন হবে, সেটাও।) আর সর্বোপরি গল্পের ঐ শেষ না হয়ে শেষ হওয়া
ভাল লাগল, খুবই ভাল লাগল
তপতী 3 সপ্তাহ 4 দিন আগে
গল্পটি মন ছুঁয়ে গেল, বেদনার্ত করল
নীল 3 সপ্তাহ 1 দিন আগে
বাঃ !
নিরক্ষর
kalyan 3 সপ্তাহ 1 দিন আগে
চমৎকার, শেষটাও যেটা ব্রাকেটের মধ্যে
কলিতা 2 সপ্তাহ 18 ঘন্টা আগে
Dmcdydj mgvdo
কলিতা 2 সপ্তাহ 18 ঘন্টা আগে
অসম্ভব সুন্দর ছোটো গল্প আর ফিনিশিং টাচ
নতুন মন্তব্য পাঠান