বৃষ্টি ভেজা ছবি

কি একটা কারণে কলেজ ছুটি হয়ে গেল। আমি সৃজন বৃষ্টি পলাশ আর মেঘ ঠিক করলাম ধর্মতলা যাব মেট্রোতে দারুন একটা সিনেমা এসেছে, সবাই মিলে দেখব। খরচের সিংহভাগের সবটা দেবে সৃজন ও এ ব্যপারে দিলদার। ও এমনটা পারে, বাকি আমরা ঠিক ততটা নয়। এই নিয়ে পলাশ মাঝে মাঝে তর্ক করে। -কেন ও সবটা দেবে নিজেদের খরচ নিজেরায় করব। ওর ঘাড়ে না চরলেই হয়। আমিই বললাম -থাকনা তুই না হয় পরে কোন একদিন দিন খরচ করবি। ট্রাম ছুটে যায় সবুজের বুক চিরে রেসকোর্সের মাঠ পিছনে পড়ে থাকে ছবির মতন। -বৃষ্টি তোর কি মন খুব খারাপ! মুখে যেন কালবৈশাখী ঝড়ের পূর্বাভাষ। -ঠিক বলেছিস আকাশ বাবার শরীর ভীষণ খারাপ দেখে এসেছি, কি জানি বাড়ি গিয়ে কি দেখব। মেঘ চিৎকার করে ফুঁসে ওঠে -কিরে বৃষ্টি তুই সুযোগ পেলেই আকাশের সাথে গুজ গুজ ফুস ফুস করিস কেন? আমিও তো তোর বন্ধু কই আমার সাথে এমন আপন কথা বলিস নাতো? বৃষ্টি মিষ্টি হাসি ফিরিয়ে দেয় -ও আমার অসুস্থ বাবার খবর নিচ্ছিল কেন তোর কি হিংসা হচ্ছে। সৃজন বজ্রের মতন সব থামিয়ে গর্জে ওঠে -তোরা এবার চুপ কর, দোহায় ঠাম! আমরা গন্তব্যস্থলে পৌঁছে গেছি।
ট্রাম থেকে নামতেই আকাশ ভাঙা বৃষ্টি নেমে এল অঝোরধারায়। ভিজে যাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই। কারোর কাছে ছাতা ছিলনা অগত্যা আমরা ইচ্ছা করেই বৃষ্টির কাছে আত্ম সমর্পণ করলাম। চুপচাপ থাকা পলাশ উচ্ছাসে আনন্দ প্রকাশ করে -আয় বন্ধুরা আয়, এবার সবাই মিলে এই বৃষ্টিতে অসভ্যের মত ভিজব। সিনেমা দেখব অন্য আর এক দিন। হাতে হাতে রাখ আর গলায় গলায় গান গেয়ে চল ''আমরা সবাই রাজা আমাদেরই রাজার রাজত্বে''। ছবির মতন একটা দিন বৃষ্টি এলেই আমার চোখে ভাসে।



ASIT KUMAR ROY 3 সপ্তাহ 6 দিন আগে
বুঝতে পারেনি ভুল করে এসেছিল বুঝি তার ঘর
চোখ ফোটার পরে পরে বুঝেছিল কে আপন পর।
এই কার্নিশ বারান্দা এই জানালা দেখা আকাশ
খুব চেনা এখানকার নানান মুখের নানান মানুষ।
নিঃশব্দে দ্যাখে চেনে শোনে সে অতি সাবধানী
সাদা কালোয় দেখতে বেশ যেন পুরানো জামদানী
কথার উত্তরে উত্তর দেয় প্রশ্ন করে মিহি স্বরে
ভাষা বুঝিনা সওয়াল জবাব চলে মিষ্টি সুরে।
দরজা খোলা দেখে এসেছিল অন্দরমহলে আমার
একই চেনা ঘর দুয়ার মানুষগুলো অচেনা তার।
এদিক ওদিক ঝড়ের দাপট ভয় পেয়ে ছোটাছুটি
জানালায় টবের সারি মরবে বোধ হয় দোপাটি।
আগন্তুক লেজ নাড়ে আর ভাবে হবে কি এবার?
মানুষ মা এসে বকাবকি করে হয় মিয়াও উদ্ধার।
ASIT KUMAR ROY 3 সপ্তাহ 6 দিন আগে
কলঙ্কিনী আমি
আজ বুঝি উৎসব তাই মন হোল উন্মন
পাশাপাশি কাছাকাছি তারি সাথে কিছুক্ষন।
কিছু কথা কিছু ব্যথা সুখ দুখ আলাপন
আলো আঁধার লুকোচুরি বিনিময় হোক মন।
কে কোথায় দেখে ফেলে তাতে কি যায় আসে
সে আমায় কাছে ডাকে, সে আমার চোখে ভাসে।
নূপুরের ধ্বনি তুলে নদী হয়ে যাই তারে কাছে
পাড়াময় গুঞ্জন পড়ে থাকে থাক আগুনের আঁচে।
তবু কলঙ্ক কালি নিয়ে ছুটে যেতে যাই মোহানায়
আগুনে পতঙ্গ ঝাঁপায় তেমনই প্রেমানলে পুড়তে চাই।
তপতী 3 সপ্তাহ 4 দিন আগে
বৃষ্টি ভেজা ছবিটি ভাল লাগল রক্তিমদা
ASIT KUMAR ROY 3 সপ্তাহ 4 দিন আগে
অদ্ভুত আলোমুখ সেই বনলতা সেন
কবিতার ওপারে নিরবে দাঁড়িয়েছেন।
চুল তার ঘন বরষার কালো মেঘ
চলার ছ্ন্দ যেন নবজন্ম নদী বেগ।
গ্রীষ্মে ছড়ায় জুঁই বকুল রজনী সৌরভ
রাত জাগানিয়াতে শোনায় সঙ্গীত গৌরব।
আষাঢ়ের মেঘে যেন তার কাজল আঁখি
নিঃশব্দে এসে পরাও প্রেম বন্ধন রাখি।
কবিদের মানসচক্ষে তুমি অনন্ত যৌবনা
বিনা দর্শনে ছুঁয়ে ছুঁয়ে নিত্য কর উন্মনা।
জানি জানি তুমি সেই কায়াহীন কাহিনী
তবু কবিকুল অহরহ চায় অনন্য সোহিনী।
কারোর নীরা নন্দিনী, জীবনানন্দের বনলতা
আখরে আখরে স্থিতি চিত্ত চিরন্তনী কবিতা।
ASIT KUMAR ROY 3 সপ্তাহ 3 দিন আগে
ওদের অনেক পয়সা
সেটাই বল ভরসা
তোমার আমার ফর্সা
বড় কষ্ট তারা খসা।
পরীক্ষার্থীরা হবে ডাক্তার
গড়ায় গলদ নিয়ম তার
প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে খবর
হিড়িক পড়ে ডীগ্রি কেনার।
আহা সে বেচারী
এখন যে ভিখারি
কাদায় সাদা শাড়ি
হরি বলো কি করি।
ক্ষমতা হারিয়ে গেলে
চন্দ্রচূড় হয় যে হেলে
মান সম্মান গেল চলে
চোর চোর সবাই বলে।
রানীর পূর্ণ পাপের ঘড়া
এবার ছুটবে রাজার ঘোড়া।
আধপেটেতে ছিল যারা
থাকবে ঠিকই তেমনি তারা।
ASIT KUMAR ROY 3 সপ্তাহ 2 দিন আগে
শেষ চিঠিতে বলেছিলে ঠিকানা পাল্টে নেবে
এতদিন কেন মিছিমিছি অপেক্ষায় থাকবে।
তোমার নাকি দিন রাত্রির প্রহর কাঁকড়ময়
অঙ্গ নাকি জ্বলে অমন চন্দ্রশোভা জোছনায়।
যেতে হলে চলে যেও তার সাথে দুর দেশে
যেখানে সাগর পাহাড় আকাশ মাটিতে মেশে।
চলে যেও এই ফুলের মেলা থেকে
চলে যেও সেই মন ফাগুনের ডাকে
যে খুশিতে আকাশ জুড়ে পাখিরা যায় উড়ে
সেই ছন্দে গান গেয়ে যেও কলাবতীর সুরে।
অনুরোধ শুধু ঠিকানা রেখো কবিতার শেষ পাতায়
এখানে প্রবাসে ঝড় বৃষ্টির পরে ফিরব আঙিনায়।
আপন মনে নিবিড় হয়ে লিখব চিঠি তোমায়
ভাসিয়ে দেবো মেঘের ভেলায় নতুন ঠিকানায়।
ASIT KUMAR ROY 2 সপ্তাহ 2 দিন আগে
আমি একার একটা দেশ গড়ে ফেলেছিলাম। সে আমার ফেলে আসা লাল গোলাপের মত কিশোরবেলা। মাঝে মাঝে সেখানে ফিরতে ইচ্ছা করে কিন্ত কিছুতেই ফিরতে পারিনা। স্বপ্নের ঘুমের ভিতর যেমন মানুষ ছুটে ছুটে এগিয়ে যায় তার মঞ্জিলে আমি ও যেতে চাই। ঘুম থেকে জেগে দেখি আমি সেই সেখানেই আছি। সব সবটা ভীষণ রকম মিথ্যে... দেখে শুনে ভেবে অবাক আর একরাশ খারাপ লাগা। মুঠোফোনে খবর এসেছে কিশোরবেলার বন্ধু ডাক দিয়েছে চল ঘুরে আসি দূরে কোথাও পাহাড় নদী জঙ্গলে। তোকে নিয়ে হয়ে যাব সেই সাতজন। যাবি তো চল ! কিন্ত ফেলে দিয়ে আসতে হবে বর্তমানের মেকি চকচকে রঙিন খোলসটাকে।
অনেকেই নেই কেউ কেউ পথ হারিয়ে ফেলেছে। কেউ কেউ ভীষণ ব্যস্ত গ্রাম নগরের জীবন মৃত্যুর কোলাহলে। কেউ কেউ চলে গেছে একেবারে আকাশের ঠিকানায়। তবে তোকে ছাড়ছিনা তোকে অবশ্যই আসতে হবে, তুই না হলে এই পথচলা নুন ছাড়া রান্না মনে হবে। গরম চা বিহীন আড্ডা, পথ বিহীন পথিক, ইলিশ বিহীন ইলসেগুড়ির চড়ুইভাতি। তবে অনেকে যেমন নেই আবার কেউ কেউ নতুন হিসাবে এসেছে বন্ধুর বন্ধু। পরিচয় হবে তুইতো খুব ভালো মিশে যেতে পারিস সবার সাথে। পাহাড় কুয়াশার চাদর জড়িয়ে তোকে খুঁজছে, উন্মুক্ত ঝর্ণার জল তোকে ছুঁতে চায়... তুই আর না করিস না স্বপ্নিল। রেল দপ্তর তোর আসা যাওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে। চল ফিরে যায় এইবেলা সেইবেলা আমাদের সেই কিশোরবেলা।
ASIT KUMAR ROY 2 সপ্তাহ 1 দিন আগে
সবার ভালো করতে চায়ছ তুমি
বললেই সবার ভালো করা যে যায়না।
চোরের ভালো হবে মানুষের ও ভালো হবে;
একসাথে কি এমন ভাবা যায়!
হবে দ্বিচারিতা।
ঠিক যেমন দুমুখের সাপ।
অন্তর থেকে ভালো করতে হলে
আসল অসুখ খুঁজে বের করতে হবে রাজা।
লাখ টাকার রাজবেশ আগে ছাড়ো
ঠাণ্ডা ঘর ছেড়ে হোগলার ঘরে এসে থাকো
দুবেলা দুমুঠো ঘাম ঝরিয়ে পান্তা পেঁয়াজ খাও।
চোরের হাতে যোগ্যতার কাজ দাও
মনে প্রাণে সঠিক মজুরিতে,
ভিক্ষা করুণা আর মোটেই নয়।
সে আর কখনোয় চুরি করবে না।
হাত পেতে ক্যমেরায় ঘুষের ছবিও তুলবেনা।
গৃহস্থ নিশ্চিত তার একচালাতে চুরি হবেনা;
রাত বিরেতে ছেলে মেয়ে নিশ্চিত বাড়ি ফিরবে।
রাজায় প্রজায় রেখোনা কোন ভেদাভেদ।
ভালো তখন সবার জন্য থাকবেনা কোন খেদ।
ভালো তখন অন্ধকারেও আলো ঝলমল
এই জগত এই দেশ আনন্দ আলোয় কোলাহল।
নতুন মন্তব্য পাঠান