‘’৩৬ জুলাই’’ (জুলাই বিপ্লবের ) চেতনা স্মরণ
সোম, ২০২৬-০৬-০১ ০০:২৪ ‘’৩৬ জুলাই’’ (জুলাই বিপ্লবের ) চেতনা স্মরণ
-চৌধুরী রেজাউল হায়দার
তৃতীয় অংশ :
একটি স্বৈরাচারী ও নিপীড়ক শাসনব্যবস্থা
প্রায় দেড় যুগ ধরে এক টানা স্বেচ্ছাচারিতা ও জুলুমের রাজত্ব
চোখের সামনে ঘটে যাওয়া, অন্যদের মতো প্রবাসী জীবনে আমাকেও ব্যথিত করে ।
সেই দীর্ঘ দেড় দশক ধরে বিরোধী দমন
রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মুক্তিকামী মানুষেরা
নিজের বাসায় শান্তিতে একটা রাতও ঘুমাতে পারেননি পরিবারের সান্নিধ্যে ।
দিন-রাত প্রশাসন ,সাথে দলীয় ক্যাডার
স্বৈরশাসকের মূর্তি ধারণ করে অতর্কিতে আক্রমণ বাড়ি ঘর
তল্লাশি চালাত, ধর-পাকড় আর মারপিট ছিল নিত্যদিনের অধ্যায়।
জীবন বাঁচানোর তাগিদে, চরম অবর্ণনীয় ভাগ্যবরণ
সেইসব রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষ স্ত্রী-সন্তান, মা-বাবা,
ভাই-বোন আর স্বজনদের স্নেহ-ভালোবাসার মায়া ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
তাঁরা রাস্তায়, হাটে-বাজারে, লোকচক্ষুর আড়ালে
পালিয়ে বেড়িয়েছেন। রাতের পর রাত কাটিয়েছেন অন্ধকার
ধানক্ষেতে, পাটক্ষেতে, পানের বরজে কিংবা ইক্ষুক্ষেতের (আখক্ষেত) ভেতরে লুকিয়ে থেকে।
এইভাবে বছরের পর বছর ধরে দেশের
প্রতিটি প্রান্তে মানুষের জীবন বিষাদময় হয়ে উঠেছিল।
এই তপ্ত তাজা ইতিহাস আমাদের জাতির ভুলার নয়, এই ভুলের মার্জনা পাবারও নয় ।
এই দীর্ঘ একটানা প্রায় দেড় যুগ
দুঃশাসনে দেশের অনেক অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছিল।
একদল মানুষ ক্ষমতার দাপটে ক্রমান্বয়ে ধনী থেকে অতিধনী হচ্ছিল,
আর অন্যদিকে কিংকর্তব্যবিমূঢ় অধিকার বঞ্চিত ইস্পাত কঠিন কণ্ঠস্বর
সমাজের সাম্যতা ও ন্যায্যতা দাবি আদায়ের জনগোষ্ঠী ক্রমান্বয়ে নুয়ে পড়ছিল
ভাঙা কুঁড়ের ঘরে, ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে পূর্ণিমার চাঁদ দেখে মিছেমিছি সান্ত্বনা খোঁজার চেষ্টা করেছিল।
অন্ত:সারশূন্য রাজনীতির অসহ্য নিষ্ঠুরতা
মানবতার টুটি ধরে শ্রেণী বৈষম্য ক্ষেত্র জোর করে চাপিয়ে দেয়া
আর দীর্ঘ দেড় দশক ধরে চলে আসা পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বাঁধ একসময় ভেঙে গেল।
অন্যায়ের শৃঙ্খল ভাঙার তরে,
দৈব দয়ায় যেন এক অগ্নিবাণী ছড়িয়ে পড়ল চারদিকে।
সেই শপথ বুকে চুইয়ে নিয়েছিল আমাদের কিছু নবীন, কিছু তরুণ-তরুণী;
পরাধীন বশ্যতা থেকে মুক্তির লক্ষ্যে
অত্যাচারী শাসকের চোখে চোখে রাখার উদ্যমী শ্বাসে
একদল আবাবিল একহাতে বিষের বাঁশি আর অন্য হাতে রণতূর্য তুলে নিয়েছিল।
এই অকুতোভয় জাগ্রত
কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী ও সাধারণ জনতা বুকের তপ্ত রক্তে
পিচঢালা রাজপথ রাঙিয়ে দিয়েছিল, বিলিয়ে দিয়েছিল নিজেদের তাজা প্রাণ।
স্বৈরাচারবিরোধী সেই বিভীষিকাময় ৩৬ দিনের
প্রতিবাদের প্রতিটি মুহূর্তে, প্রতিটি সেকেন্ডে আমাদের শক্তি আর সাহসের মূল উৎস ছিল
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের অমর সৃষ্টি, তাঁর গান, তাঁর কবিতা এবং তাঁর চিরবিপ্লবী চেতনা।
*-*-*
আজকের এই স্মরণসভায় আমি সেই চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে এবং বিগত অন্ত:সার শূন্য রাজনীতিক বছরের নির্যাতনে শহীদ হওয়া সকল বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করছি। আর যাঁরা বুক পেতে দিয়ে লড়াই করে আজও আমাদের মাঝে বেঁচে আছেন, তাঁদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।
আমার এই আত্ম-চিৎকার বক্তব্য হয়তো কোনো দিন আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে মনে করিয়ে দেবে
"এক সময় এই দেশের রাজনীতিকে অন্ত:সার শূন্য করে তোলা হয়েছিল।"
কবি কাজী নজরুল ইসলামের চেতনা চিরকাল আমাদের অন্যায়, বৈষম্য ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়ার প্রেরণা জোগাক।
সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।(তাং২৪ শে মে ২০২৬)।
-হায়দার ।
প্যারিস,ফ্রান্স।
০১/০৬/২০২৬
- Haider-এর অন্যান্য কবিতাপাতা
- এই পাতাটির ক্লিকসংখ্যা 154





মাকি 2 সপ্তাহ 2 দিন আগে
জুলাই বিপ্লবের চেতনা স্মরণ ভাল লাগল
এইভাবে আমাদের যাত্রাপথ আপনার কলমে স্মরণে স্মরণে ভরে উঠুক
আসিফ 2 সপ্তাহ 2 দিন আগে
কবি কাজী নজরুল ইসলামের চেতনা চিরকাল আমাদের অন্যায়, বৈষম্য ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়ার প্রেরণা জোগাক
কবি কাজী নজরুল ইসলামের চেতনা চিরকাল আমাদের অন্যায়, বৈষম্য ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়ার প্রেরণা জোগাক
লিনো 2 সপ্তাহ 2 দিন আগে
অমর সৃষ্টি অমর থাকবে
আপনাকে ধন্যবাদ
নতুন মন্তব্য পাঠান