ফেলে আসা গুহামন্ত্রগুলি
শনি, ২০২৬-০৫-৩০ ১০:২৪ মনসিজ, ফেলে আসা গুহামন্ত্রগুলি ধ্বনিত হতে থাকে আজও
কোনো সুদূর বন্দরে, রাত্রিবাসী নক্ষত্র-আলো আর লাইটহাউসে
যুগযুগান্তরের ঢেউয়ের ধূপগন্ধ মিশে আছে স্মৃতিগাত্রের নিঃশ্বাসে
মনে পড়ে মনসিজ শহরে, বন্দরে, জনারণ্যের কোলাহলে, কিংবা
পরিত্যক্ত ঘাটের সন্ধ্যাবেলায় মানুষেরা কিভাবে আজও
মেদুর গান হয়ে বেঁচে থাকে, অদৃশ্য বীণার তারে অনবরত
বাজতে থাকা এক দীর্ঘ অনুনাদ -
কত বর্ষ, কত নামহীন প্রজন্ম, কত ক্ষরিত আঁধার ও ভগ্নপ্রতীক্ষার পরে
যখন সমস্ত চিহ্ন ধীরে ধীরে মুছে যেতে থাকে ধূলির নিচে,
তখনও কিছু আলো থেকে যায়, বলো মনোসিজ?
কোনো অর্ঘ্যের প্রদীপে নয়, কোনো শাস্ত্রের অক্ষরে নয়,
বরং আমাদের সেইসব সহজ আকাঙ্ক্ষার অকপট গভীরে,
আমাদেরও পরে যারা আসবে, যদি আসে, একদিন স্পর্শ করে
তারা বুঝে নেবে কীভাবে শঙ্খধ্বনি স্তব্ধ হয়ে যায়,
কীভাবে ফুলমালা শুকিয়ে ধুলোয় মেশে আর কীভাবে
দেবীমূর্তির তৃতীয় চক্ষুও একদিন অন্ধকারে হারিয়ে হারায় -
একটি মানুষের তরে আরেক মানুষের আকণ্ঠ তৃষা, তবু
জেগে থাকে, একটি অসমাপ্ত সম্বোধন, একটি উত্তরহীন প্রশ্ন -
দীর্ঘ অমাবস্যার ভেতর শুনেছি নিজের হৃদস্পন্দনের প্রতিধ্বনি,
অথচ জাগেনি শিব, খুলে যায়নি কোনো মহাজাগতিক জটা থেকে
অলৌকিক কোনো স্রোত, তবুও যারা আকন্দফুলে সাজায়
শিবরাত্রির বেদী, কায়মনোবাক্যে উচ্চারণ করে অদেখা এক নাম,
তাদের স্ত্রোত্রময় দলে কেন না ভিড়লাম, না গেলাম সেইস্থানে
যেখানে জ্যোতিহীন পূজাগৃহ জুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া নীরব অধিকার
হয়তো এ-ই মানুষের সবচেয়ে প্রাচীন ধর্ম
ধ্বংস জেনেও নির্মাণ করা, বিস্মৃতি জেনেও স্মরণে লেখা পঙক্তি,
শূন্যতা জেনেও অর্ঘ্য সাজানো, আর প্রত্যাবর্তনহীনতার মধ্যেও
একটি আগমনের আশায়, একটি গুহামুখ আধেক খোলা রেখে দেওয়া
- বনলতা-এর অন্যান্য কবিতাপাতা
- এই পাতাটির ক্লিকসংখ্যা 219





jojo 2 সপ্তাহ 3 দিন আগে
অসম্ভব স্পর্শ করে গেল বনলতাদি
hiya raja 2 সপ্তাহ 3 দিন আগে
আহা!
কথা সে কবিতা হলে হিয়ার স্পন্দনে
ঈশ্বর অমোঘ টানে কান পেতে শোনে -
বিস্মৃতি জেনেও - ধর্ম মুগ্ধ অন্তরালে -
সাজে, বসে থাকে মুখ পানে চেয়ে
যদি সে ভুলেও ফেরে মুগ্ধ পদতলে !!!!!
মুগ্ধ হলাম, ঋদ্ধ হলাম আপনার কবিতটিতে !
ঝর্না 2 সপ্তাহ 9 ঘন্টা আগে
দারুন লেখা
নতুন মন্তব্য পাঠান