সারারাত্রি গরমের পর

একজন কবিতা-কুটুম্ব's picture
বিমল

সারারাত্রি গরমের পর ভোরের দিকে বেহদ ঠান্ডা বাতাস। দশ যোজন ইমেলের মধ্যে দিয়ে চতির সিয়ানার গায়ে হাত রাখে, দেখে, হিম। এখনও ঘুমিয়ে যাচ্ছে। মাঝে মাঝে তার ভয় লাগে ওকে। স্তন ছমছমে, সিয়ানার চোখের ভিতরে কোনো দূরতম গ্রহের টানেল। এক ঘরওয়ালা ট্রাম রাতের জানালার নীচে গল্প নিয়ে এসে কাল দাঁড়িয়েছিল। গোপন প্রশ্বাসের মতো বিশ্বস্ত ট্রাম। অসম্পূর্ণ কবিতা আর ব্যর্থ সঙ্গমের মতো শেষ ঘণ্টি তার।

অথচ হে প্রভু একটা গল্পের মধ্যে থিতু হয়ে বসা হলোনা।
আসবাব অগোছালো।
চায়ের ঠান্ডা তলানি। অথচ এই ভুবনে ব্রিলিয়ান্ট কাপলরা।
ব্রকোলি আর সব্জির উচ্ছ্বাস।
উজ্জ্বল এসকেলেটরের ওঠানামা।
সহাস্য সাহিত্য।

সিয়ানার সাথে ভিডিও টকে মল্টোভা খেতে থাকে। চতির খায়না, ওর কণ্ঠনালী, পাকস্থলী এরা খায়। ভালোবাসা আর যৌনতা দুইই শেষ হয়ে গেলে আর কি পড়ে থাকে? পৃথিবীতে শুঁয়োপোকা বেড়ে যাচ্ছে অথচ প্রজাপতি কম। নিয়তি? চতিরের বিজন ভয়ের মধ্যে আনোখা বিষাদ মিশতে থাকে। অলীক শূন্যযান এসে দাঁড়ায় অলীক শূন্যতার ভিতরে। যানের ভিতরে মা। হাতে পায়েসের বাটি। সিয়ানাকে কিছু বলা যাবেনা।

একমাত্র আমিই জানি আমার স্বেদের কথা।
চতির ভাবে। ভাবে, কেন সূর্যালোক।
কেন এই বীজমন্ত্রে দীক্ষিত গ্যালাক্সি।
মনে হয় সে নিজে শেষ হয়ে গেছে।
অনুপম শব্দরা তার চারপাশ ঘিরে হাসাহাসি।
সামান্য একটু সৌরভের জন্য
সে কার যোনিতে নাসা আর মুখ ডুবিয়ে ছিল।
পরিবর্তে এত একঘেয়েমি। বিনবিনে ক্লান্তি।
সমস্ত কাগজ নোনতা। সিয়ানাকে বলা দরকার
হারিয়ে যাচ্ছি। নিয়মমাফিক বলা দরকার,
আমাকে খুঁজো না। কোনো এক নবীন অর্গাসম যুগে
ঠিক ফিরে আসব। ভালোবাসার প্রস্তর সেখানে থাকবেনা -

ঝর্না's picture
গ্রেট। দূর্দান্ত। এরকম লেখার

ঝর্না 3 সপ্তাহ 4 দিন আগে

গ্রেট। দূর্দান্ত।
এরকম লেখার আমি পুরোনো ফ্যান। সুপার্ব লাগলো।

pulin's picture
"আমাকে খুঁজো না" - আজকাল

pulin 3 সপ্তাহ 4 দিন আগে

"আমাকে খুঁজো না" - আজকাল এইটাই মনে হয় সারসত্য

ASIT KUMAR ROY's picture
সুইসাইড নোট আমিও

ASIT KUMAR ROY 2 সপ্তাহ 5 দিন আগে

সুইসাইড নোট

আমিও খুঁজছিলাম,
খুঁজে চলেছিলাম নিরন্তর আদি অনন্তে;
শরীরে নাকি মনে, দেশে বিদেশে...
আমিও ক্লান্তিহীন, খুঁজে খুঁজে পেতে চেয়েছিলাম,
মাটি খুঁড়ে খুঁড়ে প্রাচীন মহেঞ্জোদারোর সভ্যতা।
একদিন যারা ছিল প্রানবন্ত জীবন জীবিকায়
মৃন্ময়ী যত চিন্ময়ী।

একদিন এক পুরুষ নারীর শরীরে
হাত রেখে উত্তাপ পরখ করে;
-দ্যাখতো আমার কি আবার জ্বর এলো!
-কই নাতো! সব ঠিকই আছে।
-ঠিকই যদি হবে? তবে কেন পারছিনা।
জীবনের চাকাটাকে বনবন করে ঘোরাতে ?
পারছিনা কেন একতাল কাদা মাটিকে রূপ দিতে?
অথচ, এই হাতের ছোঁয়ায় মূর্তিরা জেগে উঠত।
কেউ গান গেয়ে উঠত, কেউ নৃত্য পটীয়সী,
কেউ চন্দ্রমুখী কেউ অধোবদনা বৃদ্ধাশ্রমের বৃদ্ধা।

তবে আমি কি শেষ হয়ে যাচ্ছি...
সারারাত জ্বলে থাকা নিষ্প্রভ প্রদীপের মতো।
আর কোনদিন কী উজ্জল হয়ে উঠবে না?
আমি কি সেই নিতান্তই হেরে যাওয়ার দলে।
তবে, একলব্যকে শেষবারের মতো ডেকে নেব।
ফিরিয়ে দেব ওর নিশ্চিত প্রাপ্য গুরুদক্ষিনা।
অহংকার সব ফেলে দেব এক্কেবারে চিরতরে।
আর যা কিছু সৎ সাধনা ছিল আজন্ম।
সবটুকু দিয়ে প্রায়শ্চিত্ত করতে চাই।
তারপর একদিন মিশে যাব পৃথিবীর জলসায়
জৈব্য অজৈবের অযুত কণায় কণায়।



নতুন মন্তব্য পাঠান

  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <b> <font color> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <small>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • You may use [inline:xx] tags to display uploaded files or images inline.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.
  • You may use <swf file="song.mp3"> to display Flash files inline