পিঁপড়েরা
শুক্র, ২০২৬-০৫-১৫ ০৯:৪৫ ডিমের হলুদ কুসুমে
পিঁপড়ে নড়েচড়ে
তোমার কিছু কমে
আমার কিছু বাড়ে
আমার কিছু কমে
তোমার কিছু বাড়ে
ডিমের হলুদ কুসুমে
পিঁপড়ে সাঁতার কাটে
আমার যাওয়া
ফের ফেরৎ আসা
তুমি চলে গেলে
আবার ফিরে এলে
থাকার নিয়ম নেই
ডিমের হলুদ কুসুমে
পিঁপড়ে ডুবে
পিঁপড়ে ভাসে
আমরা কাঁন্দি
আবার হাসি
জীবনের নেই কোনো
নিখুঁত ফন্দি
ইহকাল
পরলোকে বন্দি
………… আখেরুল হক
পিঁপড়েরা
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
পিঁপড়েরা
শোবার ঘরে বালিশে বিছানায় খাটের পায়ায়
ঝুলন্ত দড়িতে জানালার শিকে দরজার কাঠে তালার ফুটোয়
পিঁপড়েরা
জামায় ত্বকে কানে নাকে মুখে ঠোঁটে চোখে চুলে
লোমের কূপে পিঠের ময়লায় গোপন অঙ্গে গোপন কাগজে
পিঁপড়েরা
হারাধনের পরোটায় গামছায় জন্মের সার্টিফিকেটে
আত্মীয়ের মৃত্যুর দিবসে লেনিন সরণিতে যত
আয়োজনের প্যান্ডেলে থার্মোকলে আমাজনের স্মৃতিতে
পিঁপড়েরা
দেয়ালে মেঝেয় কার্পেটে কর্ণারে হাতপাখায় কলসের জলে
শিশির তেলে আপেলের শিরা উপশিরায় অনুরাগের ছোঁয়ায়
অনিদ্রায় ঘড়ির কাঁটায়
পিঁপড়েরা
পিঁপড়ের গর্তে গাছের ফুলে ফলে রাস্তার প্রান্তে
আয়নার চিত্রে লেন্সের কাঁচে অ্যাকুরিয়ামে ফ্যানের ব্লেডে
ব্যালট পেপারে জ্যামিতি বক্সে ব্যাটে বলে গ্লাভসে
পিঁপড়েরা
চিনির বয়ামে ভাতের থালায় রুটির চামড়ায় ওষুধের বোতলে
মধুর কিনারে রাজভোগের রসে মিহিদানার সিংহাসনে
প্রেম-খেজুরের চারপাশে
পিঁপড়েরা
হাঁটে ছুটে দৌড়ায় সারি বেঁধে সম্মিলিত অনুগত মুখে মুখে
সাদা ডিম বুথে বুথে বাসা পাল্টায় এঘর থেকে ওঘর
খাল থেকে ডাঙায় বৃষ্টির ছায়ার আড়ালে
পিঁপড়েরা
কোলকাতায় হাওড়ায় পুঁদুচেরীর ঠেলাগাড়ির গলিতে
ভূমধ্যসাগরে টাইটানিক ক্রুজে ব্যারেন দ্বীপে গ্রামে গঞ্জে
গ্রীনিচ শহরে নিরক্ষরেখায়
পিঁপড়েরা
বাসের সিটের বিস্কুটে ট্রেনের বিচ্ছিন্ন চানাচুরে
প্লেনের সুরক্ষিত সুললিত স্ন্যাক্সে প্রতীক্ষার বাসি রুটিতে
পদদলিত ভাজা পাঁপড়ের ছায়ায়
পিঁপড়েরা
উদ্ভিদের নতুন ডগায় মধু-মঞ্জুরীতে বইয়ের পাতায়
পাঞ্জাবীর ভাঁজে শাড়ির আচঁলে মোবাইল স্পিকারে ছাদে
কার্নিশে পাঁচতলায় দশতলায় কুঁড়েঘরে মোবাইল টাউয়ারে
রেডিওর টিউনিঙে টিভির নেশার প্যানেলে রিমোটে
শোকেসের খেলনায় পুতুলের কথার ফাঁকে
পিঁপড়েরা
স্কুলে কলেজে হাসপাতাল চত্বরে লাইব্রেরি বিশ্ববিদ্যালয়ে
পাড়ার ঠ্কে-এ বাজারে হরলিক্সে ভাঙা কাপে পচা ডিমে
মরা মাছে রান্নার ঘরে পানশালায় চটুল নাচে
পড়ার টেবিলে গু-এর স্তূপে চিন্তার তুষে
পিঁপড়েরা
ব্যস্ত হয়ে ছুটে নিরপত্তার খাতিরে তার নিজস্ব বাসায়
তা যত দূরেই হোক, সে মেহমানদের ভালোবাসে মানে
আরো কয়েকটা পিঁপড়ে, সে প্রতিবেশিদের স্নেহ করে মানে
আরো কয়েকটা পিঁপড়ে, সে মোহনবাগানের সাপোর্টার মানে
আরো কয়েকটা পিঁপড়ে, পিঁপড়ের দল, জোটবাঁধা বল
নিঃশব্দ কালে আমাদের পিঁপড়ের কারবার
যখন আমরা ব্যস্ত ও বন্দি, পিঁপড়ের কারাগার
পিঁপড়েরা
তাহাদের আহার, আমাদের দাঁতে আটকে থাকা খাদ্যের অণু
তাহাদের ক্ষুদ্র সূক্ষ্ম জীবন ,আমাদের হাসির এক কণা মাত্র
মানুষ বাঁচে ঈশারায়
মানুষ মরে ঈশারায়
পিঁপড়ে মরে চাকার তলে জলে অনলে
পিঁপড়ে বাঁচে পা-এর ভ্রমণে
প্রেমের চোখের সুরমা থেকে
এমনকি মৃত শিশুর নাকের ফুটোই
পিঁপড়ে গুলি মারে সর্বদা সর্বত্রই
আখেরুল হক
- আখেরুল হক-এর অন্যান্য কবিতাপাতা
- এই পাতাটির ক্লিকসংখ্যা 348





meena 4 সপ্তাহ 4 দিন আগে
জাস্ট লা জবাব
ASIT KUMAR ROY 3 সপ্তাহ 6 দিন আগে
তোমার আমার ঘরে নিত্য তাঁদের আনাগোনা
কিসের লোভে জানি, ক্ষুদা এতো সবাই জানে!
তবু ভিজে টবের তলে নিরাপদ আশ্রয় নাও
সেখানে ভিজে স্যতসেঁতে বুঝি আরাম পাও।
নিরপত্তার ধার ধারোনা দাঁতে যে কুটুস কাটুস!
এক নিমেষে দমিয়ে দাও খোকা খুকুর ফানুশ।
বিপদ বুঝে কেমন সারিবদ্ধ জীবন যাপন
অপূর্ব শৃঙ্খলাবোধ বর্ণপরিচয় আইন প্রনয়ন।
আমাদের খায় পড়ে তবু কেন ওরা করে শোষণ;
ভুখা পেটে দুঃখে থাকি বৃষ্টি ভভিজি সই রোদ্রদহন।
ওরা উঁচুতলার তাইতো থাকে দুধ ঘি আর মাখনে
নিচুতলার আমরা যারা নিত্য থাকি মৃত্যুভয়ের শাসনে।
পিঁপড়ের থেকে শিক্ষা নিয়ে তৈরি হবো জনতা জনার্দন
নিজ অধিকার বুঝে নেব আনব দেশে নতুন দিন।
আখেরুল হক 3 সপ্তাহ 6 দিন আগে
অসিত বাবু কে বিশেষ ধন্যবাদ এবং যিনারা মন্তব্য করেছেন সকলকে ধন্যবাদ ।
রেবতী 3 সপ্তাহ 4 দিন আগে
অনন্য, অনবদ্য দীর্ঘ কবিতা
দীর্ঘ কবিতা যেন লস্ট আর্ট হতে চলেছে, সুতরাং আলাদা সাধুবাদ
মেবেলিন 3 সপ্তাহ 4 দিন আগে
@আখেরুল হক - এক্সেলেন্ট লিখেছেন মহাশয়
কিভাবে এই লেখাগুলো আসে, কিভাবে কনস্ট্রাক্ট করেন, আলোকপাত ও আলোচনা ভাল লাগবে
আখেরুল হক 3 সপ্তাহ 4 দিন আগে
ধন্যবাদ জানাই , যে কবিতা সম্পর্কে কিছু জানতে চাওয়া আলোচনা করা , বেশ আকর্ষণীয়। অন্যের কবিতার প্রতি এ জিজ্ঞাসা আমারও থাকে।
আমি কবিতার বহুত্ববাদে বিশ্বাস করি। অর্থাৎ কবিতা শুধু একই রকম হবে কেন। জীবন বিচিত্র , তাই কবিতাও বিচিত্র। সব কথা একই রূপে বলা ঠিক হবে না। উপরের কবিতাটা লক্ষ্য করুন । “পিঁপড়েরা” কথাটি বারবার ব্যবহার করেছি। এই ফর্মটাই এ কবিতার একটা ভাল দিক । এটা ছাড়া চেতনা গুলিয়ে যাবে। কবিতার তথ্য একই থাকবে ।কিন্তু প্রকাশভঙ্গির জন্য কবিতাটি মার খেয়ে যাবে।
তাকে বিয়ে করে পাওয়াটাই গুরুত্বপূর্ণ নয়; তার সঙ্গে ফুলে সাজানো বিয়ের গাড়ি, বরযাত্রী, প্যান্ডেল লাইট ব্যস্ততা আনন্দ বেনারসী নতুন স্যান্ডেল (আমি বিয়ের জুতোকে সসন্মানে স্যান্ডেল বলি)ফেস পাওডার সোনার গহনা চূড়ির আওয়াজ মেক আপের গন্ধ ও বিদায় বেলায় কান্না —- বিয়েটাকে সফল করে তোলে। পাঞ্জাবির ভীতরে সমস্ত ইন্দ্রিয় ভরাট হয়ে যায়। কবিতা সেইরকমই অনেক বিষয় খেয়াল রাখতে হয়।
অভিজ্ঞতা অনুভূতি তথ্য পরিবেশন ভাষা —অন্যতম।
যে কল্পনাটার বিষয় আপনি বিশ্বাস করেন , ওটাই অবচেতন স্তর থেকে আসে অথবা যায় ।এবং যেটা বিশ্বাসযোগ্য মনে হবে না , সেটাই বানানো কল্পনা ।
“পিঁপড়েরা” কবিতাটির জন্ম আমার বাড়িতেই। চারদিকে এত পিঁপড়ে ও তাদের কামড়। ভাষা ও শব্দ ব্যবহারে খুব একটা চাতুযতর্রা নেই । তথ্য ও কিছুটা দর্শন । ডিজিট্যাল ফর্মাটে লেখা ।
কবিতার ওপরের অংশটি “ ডিমের হলুদ কুসুমে / পিঁপড়ে নড়েচড়ে।”
লিখতে ১০ মিনিট লেগেছে , কিন্তু খুঁজতে ৩ দিন লেগেছিল।
আরো অনেক কিছু বলা যায় । কিন্তু কাজ আছে , যেতে হবে । যেটুকু হল এই ,..
মেবেলিন 2 সপ্তাহ 4 দিন আগে
‘আরো অনেক কিছু বলা যায়’
শোনবার আগ্রহ জারি রইল
পরবর্তী কবিতার জন্য ধৈর্যপূর্ণ অপেক্ষাও
মেবেলিন 2 সপ্তাহ 4 দিন আগে
‘অভিজ্ঞতা অনুভূতি তথ্য পরিবেশন ভাষা —অন্যতম।’
সহমত
বনলতা 2 সপ্তাহ 3 দিন আগে
আখেরুলদা, মুগ্ধ হলাম
নতুন মন্তব্য পাঠান