দশের দশা

দশের দশা
- (রক্তিম)
একে একে তোমার যত কাজ সব শেষ হোল
শুধু বাকি রয়ে গেল আমায় কিছু বলতে।
থেকে থেকে দখিনা বাতাস জানলা দিয়ে আসে
হয়তো ওদের ইচ্ছে হয় হৃদয় জুড়াতে।
দুলে দুলে ওঠে গাছের ডালে সদ্য ফোটা ফুল
হয়তো সেও চায় বেঁচে থাকতে সুন্দর পৃথিবীতে।
কুলে কুলে এসে নাও ভেড়ে বলে কেমন আছো
নদীর পাড় নিঃশ্বাস ছাড়ে কি আনন্দ পথ চলাতে।
বুকে বুকে ভরসা জাগে ফসলের বুকে জমেছে মধু
কেউ না কেউ আসবে তাঁর জীবন সাজাতে।
গানে গানে যখন আসর সবে জমে উঠেছে
তখনি খবর এসেছে ফিরবেনা সে আর বাড়িতে।
জেগে জেগে থাকা এই চাঁদের তরণী ভেসে যায়
হবে না শেখা বর্ণপরিচয় জীবনের সহজ পাঠেতে।
ভেসে ভেসে যাওয়া মেঘেদের বুকে অনেক চুপকথা
রূপকথার মত উবে গেছে কিছু নেই ঠাকুমার ঝুলিতে।
আসি আসি করে দিনে এসে গেছে আজ দুয়ারে
এখন যে যেতে হবে দূরে পাহাড় রানীর দেশেতে।
গুনে গুনে নিয়েছি জীবনের যত পাড়ানির সব কড়ি
তবু মনে হয় কি যেন মায়া আমার নিকানো দাওয়াতে



রেবতী 3 সপ্তাহ 4 দিন আগে
গানের মায়া প্রতি ছত্রে
ASIT KUMAR ROY 3 সপ্তাহ 3 দিন আগে
হারিয়ে যাব বললেই কি হারিয়ে যাওয়া যায়?
কোথায় যাবি ঠিক খুঁজে পাব এই দুনিয়ায়।
পাগলী আমায় ছেড়ে থাকতে পারবি।
তোর পুতুলঘরে আমিই ছিলাম নিত্য নতুন বর।
এদিক থেকে ওদিক হলেই গাল ফুলিয়ে খুনসুটি।
রাঁধবনা ভাত, বলবনা কথা আড়ি আড়ি আড়ি
সত্যি যাব বাপের বাড়ি তোকে কিচ্ছুটি না বলে।
সত্যি কি আর যেতিস চলে...
রাগ দেখিয়ে বিড়বিড়িয়ে বলতে থাকিস কথা
-ভাল্লাগেনা খেলতে এসে ভেঙে দিলে খেলা।
মিষ্টি গালে টোল ফেলে নিজেই তখন বলতিস
-আয় দুটি খেয়ে নে, নাহলে পিত্তি পড়বে যে!
মিছিমিছির সংসারে আমরা এমনই ছিলাম বরকনে।
হারিয়ে যাব বললেই কি হারিয়ে যাওয়া যায়?
দিন গিয়েছে রাত এসেছে বর্ষা গিয়ে বসন্ত বায়।
তুই বা কোথায় আছিস আর আমিই বা কোথায়!
মেঘ রোদ্দুরে খবর দিলাম একলা আছি অন্য শহরে
কাজের ফাঁকে হঠাৎ করে তোর মুখটা মনে পড়ে।
কাল ঘুমের ঘোরে স্বপ্ন দেখেছি হারিয়ে গেছিস নাকি!
তোর কাছেতে মন যেতে চায় কত কথা আছে বাকি।
হারিয়ে গেলেই হারিয়ে যাওয়া যায়না।
ঠিক খুঁজে পাব এ আমার ব্যকুল মনের বায়না।
ASIT KUMAR ROY 3 সপ্তাহ 2 দিন আগে
আমি তোমার ছোঁয়ায় নতুন হতে চাই
রঙ তুলিতে নতুন অবয়ব পেতে চাই;
তোমার সুরে গাঁথা গান গাইতে চাই
পেয়েছি আকাশ বলে জড়িয়ে ধরতে চাই।
আকাশ অজানা তবু পাখী উড়ে যায়
নদী স্রোত অচেনা তবু উজানে ধায়;
গাছেরা ফুল ফুটিয়ে রাখে কি আশায়
হয়তো ঝরে যেতে চায় মাটির আগিনায়।
তোমার আকাশে তোমার বাতাসে সুবাস
তোমার ভুবনে দুঃখ আনন্দ ভয় তরাস;
তুমিই ইতিহাস প্রাচীন নব গতি বারমাস
তবে যুদ্ধ কেন? দাও অনন্ত প্রেম অভিলাষ।
ASIT KUMAR ROY 3 সপ্তাহ 1 দিন আগে
সাধারণত রাতে বিছানায় গেলেই ঘুম আসে চোখের পাতায়। কিন্ত যদি না আসে তবে জেগে থাকতে হয়। কানে আসে বিচিত্র সব শব্দ যা হয়তো দিনের বেলায় খেয়াল করিনা। যেমন স্টেশন থেকে শব্দ আসে শেষ ট্রেন সিটি দিয়ে চলে গেল। কিছুক্ষন পরেই একটা রিক্সা এসে দাঁড়ায় কে যেন ফ্লাট বাড়ির গ্রিলগেট নিজেই চাবি দিয়ে খুলবার চেষ্টা করে যায়। ততক্ষনে রিক্সাওয়ালা তার প্রাপ্য বুঝে নিয়ে ফিরে গেছে নিঃশব্দের শব্দ তুলে। কার্নিশে শুয়ে থাকা বিড়ালটা বিরক্ত শব্দে প্রতিবাদী হয় -মিয়াও। যেন বলতে চায় কি দরকার ছিল আমার কাঁচাঘুম নষ্ট করবার। অসাবধানে চাবির গোছা ঝনাৎ শব্দে মাটিতে পড়ে। কিছুক্ষন কিংকর্তব্য বিমুঢ় অবস্থার নিস্তব্ধতা। পাশের বাড়িতে সদ্য জন্মানো জমজ বাচ্চাদুটো এইসব বিচিত্র শব্দে একসাথে কেঁদে ওঠে ওয়াও ওয়াও। ওর বাবা মা কান্না থামাতে আদর করে, ব্যকারন বহির্ভূত শব্দের সম্ভারে। আগন্তুক বাধ্য হয় মুঠোফোনে আপনজনকে ডাকতে। শুনছ, দয়া করে একটু আসবে আজ বাইরে থেকে চাবি খুলতে পারলাম না। এসো না অন্ধকারকে ভুত ভেবে ভয় পেওনা, আমিতো আছি! তারি যেন উত্তর আসে পাড়ার অভুক্ত কুকুর চিৎকার করে কেঁদে ওঠে -আমার যে ভীষণ ক্ষিদে পেয়েছে।
ঝিঁঝিঁর একটানা শব্দের সাথে সব শব্দেরা মিলে মিশে ঐক্যতানে সুর মিলিয়ে জলসা বসায়, মন্দ লাগে না। শুনি... শুনতে থাকি... শব্দ মিছিলের গতি প্রকৃতি, জ্বলে থাকা একরাশ তারাদের মুখগুলো ভাবি ভাবতে থাকি... গভীর রাত জুঁই গন্ধ মেশান আঁচলের বাতাস বুলিয়ে দেয় চোখে মুখে শরীরে ঘুম আসে! আহ কি যে শান্তি! কি করে তোকে বুঝিয়ে বলি বলত সঞ্জয়। তুই বলবি সাগ্নিক এত কল্পনাপ্রবন হওয়া কিন্ত ভালো নয়। আমাকে যা বলেছিস বলেছিস অন্য কাউকে বলিস না। সে এইসব শুনলে তোকে নির্ঘাত দ্রুত পাগলাগারদে ভর্তির কথায় বলবে। খুব সাবধান। আমি যে কেন এমন, একথা কাকেই বা বলব নাকি রাতের মত নীরব হয়ে যাব।
ASIT KUMAR ROY 3 সপ্তাহ 22 ঘন্টা আগে
চলতে পথে ভুল হবে,
ভুল শুধরে আবার পথ চলতে হয়।
অদ্ভুত সেই আশ্চর্য আলো
মাটি ফুঁড়ে ঠিক দেখা দেবেই।
তখনই বুঝবে এই পথই ছিল
দিক নির্দেশের স্বপ্নের চালচিত্র।
মন জানবে চিনবে পরখ করে দেখবে।
আনন্দ অশ্রু ঝরবে যেন এই চরম প্রাপ্তি।
সমুদ্র শান্ত শিথিল যেন খুব চেনা দিগন্ত;
সেও তখন তৃষা মেটাতে এগিয়ে এসেছে।
পাখীদের কল্লোল ঝর্নার কলতান
আতঙ্কিত ফুলেরা পাপড়ি মেলছে নানা রঙে;
আকাশে মেঘেদের আনাগোনা শুরু
পরিযায়ীরা ফিরে আসছে একে একে;
বুকের ভিতরে যেন নতুন ভোরের সুবাস
এটাই বুঝি সেই স্বপ্নের সকাল
তুমি আমি আমরা সবাই
ঘাম আর রক্তের বিনিময়ে আজীবন চেয়েছি।
আহ!
এইতো সেই ফসলের ঘ্রানে সবুজ বিপ্লব।
নতুন মন্তব্য পাঠান