আহাম্মকের জন্মদিন

তারপর এরকম অনেক জন্মদিন কেটে গেলে পৃথিবী পুরোনো হলো,
পৃথিবী কখন হয়ে উঠল নিজের গৃহের মত প্রিয়,
খানিকটা চেনা, বেশ খানিকটা নোংরা কিন্তু অনেক আদরের ধুলোমাখা কোনগুলো
কখন হয়ে উঠল নিজের সাথে গোপন আঁতাতের জায়গা,
কখনও ভিজে কখনও বা বোন ড্রাই
খটখটে শুকনো অগ্নিগর্ভ ক্রোধের কুন্ড
কোন বাগান শুকোলো অবহেলায় কেউ বা অযত্নে
তারপর এরকম অনেক জন্মদিন কেটে গেলে
পৃথিবী গোলাকার হয়ে এলো,
মায়ের মুখের মত চেনা, মায়ের চোখের মত সান্দ্র, নরম আর প্রিয়
টান টান চামড়া কুঁচকে এলো,
কপালের ওপর অযত্নের সাদা চুল, নাকের পাশে কালো হয়ে যাওয়া সস্তার নাকছাবি,
কুঁচকে আসা চোখের অতলে ধীরে ধীরে
গহীন বিশ্বাসের অপার অগাধ ভরসা
পুরোনো পৃথিবীর অথবা পুরাতন মায়ের
গায়ে এখন চেনা গন্ধ
এখন অনেক স্যাটেলাইট আর স্পেস স্টেশন থেকে চেনা পৃথিবীকে দেখায়,
দেখি, অসীম নির্জীব অন্ধকারে, কোটি কোটি জ্বলে খাক জ্যোতিষ্কের মধ্যে
এক কি অপূর্ব সজীব সবুজে সেজে বসে আছে
আমার চেনা পুরাতন মা
নিরন্তর নির্বিকার প্রত্যেকটি দিন আমার মত অযুত সন্তানের জন্মদিন পালন করে চলেছে
মুখে খাবার নিয়ে সকাল সন্ধ্যে ডাক দেয়
খোকা, বাপ আমার, খেয়ে যা, মুখের খাবার ফেলে যাসনে
খোকা, লক্ষ্মী সোনা আজ রাগ করতে নেই, আজ তোর জন্মদিন
এখন প্রতিটি দিন আমি নতুন করে জন্মাই
প্রতিটি দিন এখন আমার জন্মদিন
প্রত্যেকটি জন্মদিন এখন আমি আমার চেনা পৃথিবীকে জড়িয়ে ধরে বলতে চাই
বড় প্রিয়, মা আমার প্রাণের চেয়ে প্রিয়, মা তুই আমার বড় প্রিয় পৃথিবী
মা, তোর এই অগাধ স্নেহের অতল সৃষ্টির কোলে,
রোজ আমার জন্মদিন
আজ আমার জন্মদিন



m.c. 5 সপ্তাহ 51 মি আগে
Fabulosa
হলুদ 4 সপ্তাহ 6 দিন আগে
অনবদ্য
রুকু 4 সপ্তাহ 6 দিন আগে
রোজ আমার জন্মদিন
আজ আমার জন্মদিন
কবিতা দারুণ
রুকু 4 সপ্তাহ 6 দিন আগে
আপনার জন্মদিন ছিল নাকি? শুভেচ্ছা শুভেচ্ছা শুভেচ্ছা
আহাম্মক 4 সপ্তাহ 6 দিন আগে
সব পাঠকদের অনেক অনেক ধন্যবাদ !
ASIT KUMAR ROY 4 সপ্তাহ 2 দিন আগে
আমিও আমার জন্মদিনে তোমায় খুঁজি। সেই আটপৌরে শাড়ি ঠোঁটের কোণে হাল্কা হাসি মেশানো কি এক চেনা গন্ধের মা'কে। বাঁশ বাগানের পাশ দিয়ে গেলেই মনে হয় মা ফিসফিস করে তুমি বলছ -রাতবিরেতে সাবধানে যাস বাবা কোথায় কি পোকামাকড় আছে বলাতো যায় না। পিছন ফিরে দেখি শুকনো পাতায় বাতাস খেলে বেড়াচ্ছে। ইচ্ছে করে পুকুরের জলে ডুব সাঁতারে নিজেকে কষ্ট দিই, যদি তুমি আসো। কপট রাগে বলবে এমন করার কোন মানে হয়না বাবা, আমিতো আছে সেই জন্মক্ষন থেকে। এযে নাড়ীর টান। তবে কেন এমন দুষ্টুমি করা। যেদিন তোমায় উড়োজাহাজে বেড়াতে নিয়ে গেলাম গৌহাটি তোমার চোখে অদ্ভুত আলো দেখেছিলাম ঠিক যেন কাঞ্চনঞ্জঙ্গার প্রথম সূর্য দেখা। বৃষ্টি দিনে ছাতা ধরিয়ে দিয়ে বলতে -ছাতা সাথে রাখো জলে ভিজলেই তোমার অসুখ করে জান না! হেসে বলতাম বেশ ভালো হয়, তুমি তাহলে আমার মাথার কাছে বসে থাকবে সারাক্ষন সব কাজ ফেলে।
ছবির ফ্রেম থেকে শুধু শুধু দেখলে হবে! বেড়িয়ে এসো মা। আজ আমার জন্মদিন চৈত্র মাসের শেষ শনিবার অমাবস্যার রাত। চলে এসো মা। অনেকদিন তোমার হাতে অমৃতময় পায়েস খাওয়া হয়নি। তোমার স্বপ্নিল যে তোমায় খুব কাছে পেতে চায়।
নতুন মন্তব্য পাঠান