উদ্ভিদ দিন
সোম, ২০২৬-০৫-০৪ ১৫:১৯ মাথার পেছনে বজ্রপাতের শমন নিয়ে বসে থাকি একটি উদ্ভিদ দিনের পাদদেশে। তখন বিকেল ছিল মেঘাচ্ছন্ন। আকাশ ছিল নীচু। ছাতা ছিল গগনচুম্বী। নিটোল রাস্তায় হেঁটে যেতে যেতে থমকে যেত দৃষ্টি পিচের অপরিবর্তনীয়তাতে। তখনো ভেবে উঠতে পারিনি অগস্ত্য যাত্রার কথা। তখনো মনে হয়নি যে এক যুগ এ পাড়ায় বসবাস করার পর পর আর ফিরে আসবো না এই মহীরুহের নিচে বিলীন হয়ে যাওয়া তুষারের কাছে। তখনো ব্যথা এক ঘটমান বর্তমান। ম্যাগির প্যাকেট পচনশীল। ডাস্টবিন কুকুরের আক্রমণে জেরবার। তখনো হন্যে হয়ে মানুষ খুঁজে ফিরি সাড়ে-সন্ধ্যার কালবৈশাখীর মাঝে আমি ফিরে যাই আমার গোলার্ধে। সেই গাছের নিচে আমি ফিরে যাচ্ছি শৈশব-কবুতর পিঠে এসে বসায় অস্তমিত সূর্যের কাছে। মনে হচ্ছে এইটুকু জলবায়ু আমায় ফিরিয়ে দিলো সোঁদা পৃথিবীকে। মনে হয় এই মহাদেশে ঝরে যাওয়া ফুল বড়ো বেমানান লাগে। বোমারু মানুষ নিদ্রামাঝে ঝাঁপিয়ে পড়ে মাণবকে।ঘুমের আততায়ী কলিংবেল। এই মহাদেশে পাম্প ফুরিয়ে যাওয়া ফুটবল বড়ো ইতর লাগে। পড়ে থাকে কেদরে গিয়ে রাস্তার এক পাশে। অথচ জোনাকিরা এখনো শেখেনি তাদের লুসিফেরিন সঞ্চয় করে নিতে হবে এই অকিঞ্চন পৃথিবীতে। পল্বল বোঝেনি তাদের শালুক ফোটানোর দায় নেই আর। কিছুটা জল রেখে দেওয়া দরকার ভবিষ্যতের শাবকদের ব্যাংক আকউন্টে। কি আশ্চর্য কৌশলে আমরা বুঝতে দিইনি ক্লীব পৃথিবীকে যে তাদেরও সুদিন ফুরিয়ে আসছে। এই ক্লিন্ন বায়ুর ফুটপাথে হাঁটতে হাঁটতে আমি ভাবছি যদি ঘর আমায় ঢুকতে না দেয়। অথবা চেনা মুখ চিনতে অস্বীকার করে ফেস রিকগনিশান মানবীরা। ভাবতে ভাবতে বৃষ্টি নামলো একবুক। আজ প্লবগের মতো মকমকি ভাঁজতে ভাঁজতে ফিরতে হবে এক প্রজননমুখী সমাজে।
- sutanuti-এর অন্যান্য কবিতাপাতা
- এই পাতাটির ক্লিকসংখ্যা 269





ASIT KUMAR ROY 1 সপ্তাহ 2 দিন আগে
অসাধারণ একটা লেখা গুনগুন করে অনুক্ষন। যেন শেষ হয়েও
শেষ হলনা । আরও কিছু রয়ে গেল বাকি। দাও দাও পেয়ালা ভরে ওগো প্রাণসখী চন্দ্রমুখী। অধরে রেখেছ অমৃতধারার মতন সুরধুনী সুরে সুরে বয়ে নিয়ে যাও কোন সে অমৃতলোকে। না না আর কোন শোকে নয় দেখছ না আলোর কিরণ তোমার দিকে ঝুঁকে পড়েছে। ওরা ও শুনতে চায় তোমার মেঘ মল্লার বসন্ত বাহার। অঝোর বৃষ্টিতে ভিজে যেতে চায়, হিমের পরশে পেতে উন্মুখ... বসন্তে ফোটাতে চায় ফুল মুকুলেরা তোমারি মুখ চেয়ে সেই কবে থেকে। তুমিই তো সেই ফল্গুধারা তোমাকে ঘিরেই তাঁবু গেরেছে আবার বানিয়ারা। ওরা কিনতে চায় বেচতে চায় চোখের জল মাটির কণা।
তোমার জঠর জুড়ে অযুত সম্পদ লুণ্ঠন করতে চায়। তোমায় নিঃস্ব করে সুখ পেটে চায়। তোমার আগুন চোখ একবার মেলে দাও ওরা বুঝে যাবে আর এগিয়ে আসবে না। তোমার সুনামি জাগিয়ে দাও ওরা থমকে যাবে। পিছু হটবে তোমার কোলে যারা শান্তিতে ঘুমাতে চায় তাঁদের তুমি রক্ষা করবে হৃদয় দিয়ে দিবস শর্বরী । অনন্ত আলোয় রেখে চির দিনের তরে।
অর্পিতা 1 সপ্তাহ 23 ঘন্টা আগে
"এই ক্লিন্ন বায়ুর ফুটপাথে হাঁটতে হাঁটতে আমি ভাবছি যদি ঘর আমায় ঢুকতে না দেয়। অথবা চেনা মুখ চিনতে অস্বীকার করে ফেস রিকগনিশান মানবীরা।"
অদ্ভুত অদ্ভুত
অর্পিতা 1 সপ্তাহ 23 ঘন্টা আগে
মাল্টিলেয়ার লেখাটা, খুব খুব ভাল লেগেছে
নতুন মন্তব্য পাঠান