পত্র কবিতা - আকাশের ঠিকানা

পত্র কবিতা - আকাশের ঠিকানা
- (রক্তিম)
জানিস অপু গত সপ্তাহে তোদের গ্রামে গেছিলাম। সব কিছু কেমন যেন কোন মন্ত্রবলে পাল্টে গেছে। ঠিক যেন আরব্য উপন্যাসের জীন এসে সময়টাকে বদলে দিয়ে গেছে। হোস্টেলের বিছানায় শুয়ে শুয়ে একান্ত বলা গল্পগুলো সব মিথ্যে বলে প্রমাণিত হোল। তোর হাসপাতালের বিশাল সবুজ মাঠ দখল হয়ে গেছে। যেখান তোদের দৌড় ঝাঁপ গল্প গুজব আড্ডা আর সকাল বিকেল খেলা ধুলো ছিল। লুকিয়ে লুকিয়ে সাঁজের বেলা একটু আধটু সিগারেট খেতে শেখা ছিল। ওখানে এখন আদালত বসে, প্রচুর মানুষের সমাগম সেখানে। স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আশে পাশে গজিয়ে উঠেছে নারসিং হোম রমরম করে ব্যবসা চলছে। যে ইট ভাটায় গিয়ে কুলি কামিনের জীবন জীবিকা দেখে কান্না পেত, ওখানে নতুন কোম্পানি রাজ করছে। যে পুকুরে বটের ঝুড়ি ধরে দোল খেয়ে জলে ঝাঁপাতিস ঝপ করে। কচুরি পানায় ভরে গেছে তাঁকে পুকুর বললে সে লজ্জায় মুখ ঢাকে। যে নদীর কথা বলতে গিয়ে জ্যোৎস্নালোকের বালির মতো দুচোখ চকচক করে উঠত আজ জলাভাবে ধুঁকছে।
ঠাকুরপাড়া গেছিলাম একচালা দুর্গা মণ্ডপের ছবি তুলেছি ওখানে নাকি তোর অনেক স্মৃতি। একজন এসে বলল যার মুখটা প্রতিমার মতন সুন্দর আলো আলো। -আপনি কি রিপোর্টার!আমি হকচকিয়ে গিয়ে বললাম
-আমি অপুর বন্ধু। ও বলেছিল যদি কখনো গ্রামে আসি তবে যেন দুর্গা মণ্ডপের ছবি তুলে আনি।
কোলের বাচ্ছাটাকে নামিয়ে সেই মহিলা এদিক ওদিক চেয়ে ফিসফিস করে বলে উঠল।
- ও কেমন আছে? ও মানে অপু'দা আমার কথা কিছু বলেনি?
সামান্য সুযোগে দ্রুত বললাম।
-আপনি কি সেই প্রথম প্রেমিকা! ডাকনাম বুড়ি মানে মল্লিকা!
চোখ ভরা ছলছল জলে সে বলে চলে গেল।
- ওর সাথে দেখা হলে বলবেন, আমি খুব ভালো আছি। খুব সুখে আছি। যার সাথে জোর করে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল সে আমাকে ত্যাগ দিয়েছে। আমি এখন বাপের বাড়ি সুখেই বাঁচি।
অপু তোর বন্ধু চিরন্তন কথা রেখেছে, সব দেখে শুনে মন ভীষণ ভারী হয়ে উঠেছে রে আজ। কিন্ত এত এত স্মৃতির সম্ভার তোকে জানাই কি করে বলত? তাই আকাশের ঠিকানায় চিঠি পাঠালাম পারলে উত্তর দিস রে বন্ধু...



হিয়া 2 সপ্তাহ 2 দিন আগে
ভীষণ ভালো লাগলো, এরকম লেখার জন্য অভিনন্দন !
ASIT KUMAR ROY 1 সপ্তাহ 5 দিন আগে
এ জীবন যেন সত্যিই এক উপন্যাস
মুখোমুখি ঘুরে দাঁড়ানোর সংলাপ।
বিবেক এসে নাড়িয়ে দেয় বারবার
জাগো ওঠো চেয়ে দেখো জনগণ
তোমার দিকে চেয়ে আছে।
ওরা তোমার কাছে প্রত্যাশা করে।
ওদের দাবী পূর্ণ করবার শপথ নিয়েছ।
মঞ্চ জুড়ে মায়াবি আলোর খেলা
লাল নীল হলদে সবুজ সাদা।
গ্রিনরুমে চরিত্ররা জেগে উঠছে একে একে
ওরা কেউ খল কেউ সৎ
কেউ অভাবী কেউ চোর স্বভাবী।
আজকের পালা ''নব জাগরণের''
তোমার কাছে আপামর নতুন কিছু চায়।
তুমিই আগামীর বীর সন্তান।
ASIT KUMAR ROY 1 সপ্তাহ 4 দিন আগে
মানুষের দেওয়া চরম শিক্ষা পেয়েছে
একরাশ অন্ধকার মুখে তবু তর্ক!
আমিই সত্যের জ্বলে থাকা দীপ।
অহঙ্কার যে পতনের মুলকথা
আবার আবার প্রমান হল।
মিথ্যে প্রাসাদ ভেঙ্গে গেল
খোলাম কুচির মত।
ঠিক যেন সেই
তাসেরঘর।
আকাশ ধরবে
এই ছিল বুঝি ইচ্ছা
নিমেষে হবে মহামানব!
নিজ স্বার্থে অপমান করেছ
ঝরিয়েছ অঝোরে চোখের জল।
মিথ্যের ঝুড়ি কানায় কানায় পূর্ণ,
হিসাব গুনে দিতে হবে কড়ায় গণ্ডায়।
চিল শকুন আকাশে উড়ছে দেখতে থাকো।
ASIT KUMAR ROY 1 সপ্তাহ 3 দিন আগে
সারাজীবন ভুল করে এসেছ
মানুষ বিশ্বাস করে ঠকে গেছে।
তাই দিয়ে দিল চরম গরম সাজা
নিজের অহংকারে গড়া খাদে ফাঁদে
আজ নিজেই পড়ে কাতরাচ্ছ।
নিজের ভুল এখনি শুধরে নিলে না;
নিরন্তর দোষারোপ দুনিয়া করছ পাগল।
হেরেছ, কারন মিথ্যের প্রাসাদ গড়েছিলে।
আবার জিতবে সেই সুযোগ আর নেই।
মানুষের যন্ত্রনা নিবারনের বদলে
চাবুক চালিয়ে রক্তাক্ত করেছ অবিরত।
অন্যায় অনর্গল মিথ্যে বলেছ নিরন্তর।
মুখোশ একদিন খুলে যাবেই,
ক্ষমতায় এমনই উন্মত্ত ছিলে
এই শুভবুদ্ধি হারিয়ে ফেলেছিলে।
এই শাস্তি তোমার দরকার ছিল।
খেলার শুরুতেই গলদ ছিল
কাব্য করে বলতে হয়
তোমার চৈতন্য হোক।
ASIT KUMAR ROY 1 সপ্তাহ 3 দিন আগে
মায়ের মুখ
মা তোমার কথাগুলো মাঝে মাঝেই ভেসে আসে ইথার তরঙ্গে। -এই যাচ্ছিস এই এখুনি ফিরে আসবি, পুকুরের জলে অতক্ষন কেউ থাকে! বাড়ির পাশে পদ্মপুকুর। জল তার টলমল এই গরমকালে ছেলে ছোকরার দল ঝাঁপিয়ে সাঁতার কাটে। মায়ের কথা কে আর মনে রাখে। জল ছিটিয়ে সাঁতার কেটে বেলা গড়িয়ে যায়। বাড়ি ফিরি ভয়ে ভয়ে মা বুঝি খড়গ হাতে নেবেই পিঠের ছাল তুলে। কোথায় কি! মা যেন সেই মমতাময়ী - একী লালন! চোখ তোর জবাফুলের মতন লাল, হাত পা যেন ফ্যাকাশে। শরীর ভাল আছে তো? মাথা মুছে তাড়াতাড়ি ভাত খেয়ে নে। বুঝতে পেরেছি খিদে পেয়েছে। মনে মনে ভাবি তুমি কি করে বুঝে ফেলতে, মনের কথা সত্যি মা ভীষণ খিদে পেয়েছে।
পরীক্ষার পড়া করতে রাত জাগতাম; তুমিও বরাবর আমার সাথে রাত জাগতে। পাশে বসে থাকতে যেন আমি না ঘুমিয়ে পড়ি। তোমার চোখে মুখে শরীরে ক্লান্তি ঘুম নেমে আসলেও তুমি ঘুমাতে না। মনে মনে বুঝি ভাবতে পাশ করে ছেলে আমার মানুষের মত মানুষ হবে। কি জানি ঝড় বাদলের শেষে আমি কেমন মানুষ হয়েছি... আজ এমন দিনে তুমিই পাশে নেই। আলো আছে হাসি আছে সুখ আছে কিন্ত তুমি নেই মা। সব কেমন শূন্য শূন্য সব থেকেও যেন কিচ্ছু নেই। তুমি থাকতে তেমন করে বুঝিনি আজ তুমি নেই বলে সাঁঝ সকালে বড্ড বেশি মনে পড়ে মা তোমার মুখ।
ASIT KUMAR ROY 1 সপ্তাহ 3 দিন আগে
তোকে টিপটপ দেখলে
আমার মন ভালো হয়ে যায়;
তাই জীবনের অনেকটা সময় তোকে দিই;
এই যে এতটা সময় তোর সাথে থাকি,
এতে কিন্ত অনেকের গাত্রদাহ!
কেউ কেউ সন্দেহের চোখে দেখে।
আবার কেউ কেউ বলেই ফেলে
সারাদিন ওকে নিয়েই থাকিস,
বলতো ওর কাছে তুই কি পাস?
এত প্রেম কিন্ত ভালো নয়।
আমি জানি
তোর কাছে একটা চেনা গন্ধ আছে।
যেটা আমাকে স্মৃতির সাগরে স্নান করায়।
বাসরঘর থেকে ফুলসজ্জার যত উপহার
যতটা এখনো রয়ে গেছে কালের নিয়মে।
প্রথম মা হবার আনন্দটাও
তোর কাছে গচ্ছিত আছে।
তাই মাঝে মাঝেই তোর কাছেই যাই;
তোকে ছুঁয়ে দেখি, যত্নে সাজিয়ে রাখি
আপনমনে হাসি কাঁদি।
এ যেন তোকে সাতপাকে ঘিরে থাকা
মিষ্টি এক রূপকথা্র গল্প।
তোর অস্তিত্ব আমার কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
তুই যেন জীবন মরনের সাথী।
তুইই আবার বেঁচে থাকবার তাগিদও বটে।
হয়তো, অন্য অনেকের কাছে তুই
নিছক অনামি কোম্পানির ষ্টীল আলমারি।
ASIT KUMAR ROY 1 সপ্তাহ 2 দিন আগে
দারুন সুখ আর দুঃখ নিয়েই কাব্য।
দুঃখের পরেই থাকবে সুখের মুখ
ভাসবে তুমি অশ্রুজলের কান্না হাসিতে
উথলে উঠবে জীবন ভরিয়ে দেবে বুক।
চিরকাল যেন ওরা থাকে রসেবশে
রাতের শেষে দিনের আলোয় মেশে।
ঐযে দুরের আকাশ অবাক চেয়ে থাকে
হাতছানি দিয়ে নিত্য আমায় ডাকে।
বলে আয়রে আয় আলো আঁধার খেলায়
মরা নদীর বাঁকে আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে।
হারের শেষে জয় আছে মিথ্যে কেন ভয়
আদি অক্ষয় চন্দ্রমুখী সেই পূর্ণিমাতে যায়।
ভয় দেখিয়ে ছিল যারা আজ পড়েছে কাদায়
চামচিকেতে মারছে লাথি জীবন গোলকধাঁধায়।
জানত যদি অহংকারে সাগর শুকিয়ে যায়
আজ সেইতো হত ইতিহাস জীবন্ত কিংবদন্তি ময়।
সব ভুলে আয়রে আয় আলো আঁধার খেলায়
মরা নদীর বাঁকে আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে।
ASIT KUMAR ROY 1 সপ্তাহ 1 দিন আগে
জীবন মানেই একটা গোটা উপন্যাস
প্রতি পাতায় হাজার রাতের গল্প;
এখনো গল্পের শেষপাতা হয়নি লেখা।
আশা জাগিয়ে রেখেছি এখনো অল্প।
জীবন মানেই একটা গোটা উপন্যাস
জল পড়ে সুপুরি গাছের পাতা নড়ে
কৃষ্ণচূড়ার ডাল ভেঙে যায় ঝড়ে
আমি তখন খুব এই একলা শহরে;
নন্দিনী তোমা্র জন্য মন কেমন করে।
জীবন মানেই একটা গোটা উপন্যাস
গল্পের শুরু খড়ের চাল মাটির ঘরে;
ফুল কুড়ানো শিউলি ফোটা ভোরে,
সকাল থেকে দুপুরে দমবন্ধ শহরে।
আকাশ খুঁজে পাইনা বুক ধড়ফড় করে।
জীবন মানেই একটা গোটা উপন্যাস
এখানে নিত্য জাহাজের আসা যাওয়া
কাজ ফুরালে খুচরো পয়সা পাওয়া;
ঝুপড়ী ঘরে জীবন মানিয়ে নেওয়া
ধীরে সমীরে সন্ধ্যাপ্রদীপ জ্বালিয়ে নেওয়া,
শেষের পাতার গান এখনো হয়নি গাওয়া।
উপন্যাসের আর কিছুটা এখনো যে বাকি।
নতুন মন্তব্য পাঠান