আহাম্মকের নববর্ষ

আহাম্মকের নববর্ষ
তারপর এরকম অনেক চন্দ্রভুক অমাবস্যা আর আদেখলাপনার পূর্ণিমা পার হয়ে বর্ষ শেষের ঘন্টি বাজে,
পুরোনো ঝোলার থেকে পুরোনো দিনেরা বার হয়, কেয়ার এন্ড খাবলি মেখে সেজে ওঠে । নতুন দেখানোর নতুন চেষ্টা, চোখে ঘোর আনার জন্য দুমদাড়াক্কা মাতলামির ব্যস্ত প্রহর জুড়ে প্রহর কাটানোর ক্যাবলা চেষ্টা। ফালতু কেনাকাটি, অন লাইন অফ লাইন প্রেম আর ওয়াটসঅ্যাপ চালাচালি, টাইপো মস্তানি, আস্তিন ফুলিয়ে গালাগালি না হয় টেম্পোরারি গলাগলি, যখন যে অবতারে আছি।
হ্যাপি হ্যাপি কি যেন, বসিয়ে দে কিছু একটা না হলে জিফে নাচুনে ছবিই পেস্টো। বাবু জুকের সব জানে, হাতের মুঠোয় জগৎ দিয়েসে, তুই আনকা যা জানিস না হোযাসসাপ জানে, বসিয়ে দেবে, কনস্টিটিউশনের কনস্টিপেষণ করে ছেড়ে দেবে। আর তার ওপর তো আছে বিদ্যেধরী পন্দেদরি গুণধরী সকল, প্রতিভা কোথায় রাখবি পাগল, মসনদে বসলে শিল্পের সার সব দুয়ার দিয়ে ফাটিয়ে বেরোয়, চাপা যায়না, ছাপতে হয়।
প্রতিভা ছপ ছপ ছাপিয়ে চপ বেগুনির আন্তর্জাতিক ইন্ডাস্ট্রি হবে, ভয়ে বাকি সব হেভি ইন্দুর থুড়ি ইন্ডাস্ট্রির বাথরুম বন্ধ, তাই রবীন্দ্র সঙ্গীত গাইবো, আমার লেখা, মানে আমদের লেখা রোবিন্দ সমগিত, সুরও সুড়সুড় করে আমিই দিলাম, নোবেল তো ফেরত আনতে হবে। এঁকে, লিখে, খিস্তি খেউড়ে ব্যান্ডেজে, হুইলচেয়ারে না হলে মাথা মুড়ে হুস হু বন্দনায় না হলে জগতের নাথকে নাকানিচুবানি খাইয়ে সাথে সাথে সমস্ত সমসকিতি জগতকে মাথা মুড়ে পতিভার মুখে হিসি করে ইজের খুলে নিজের ধম্মে খিস্তি করে নিজের মায়ের মুখে থুথু ছিটিয়ে আগামী ভবিষ্যতকে সতেরো হাত জমির নিচে পুঁতে ফেলে সবজান্তা নাটুকে ভাঁড় সেজে খামচে খিমচে কেঁদে কেটে ইয়ে ভেঙে নাটক, তারপর শেষে কিছু না হলে হেগে, কি যে ভাবেন আপনারা, হেগে মানে হেগ শহরে না সেই গ্রামে গিয়ে, যেখানে দুয়ারে মাল সরবরাহ করার মালদার বরাহ পয়সা খরচ করে বিদেশে বঙ্গ ব এর ছাতা ফোটায় আর বঙ্গ বিভীষণ নাকি বঙ্গ বিভূষণের ক্রিম চাটে।
তারপর এই রকম বেশ কয়েকটি চন্দ্রভূক, শিল্পভূক, ইজ্জতভূক, অর্থভূক, শান্তিভূক, শিরদাঁড়াভূক, প্রচেষ্টাভূক, উদ্যমভূক সর্বভূক বর্ষ চলে গেলে আবার এক নববর্ষ পুরোনো নেংটি কষে নিয়ে নোংরা বাটিহাতে ভিখারি বাঙালিভাই দীর্ঘ দীর্ঘ ভাতের লাইনে থুড়ি, ভাতার লাইনে এসে দাঁড়ায়। কত রকম ভাতা রে ভাই - বেকার, সাকার জোকার, গাঁটকাটার, সটকাবার, মাল হাটকাবার, মালখাবার, ছাত্তরের, ফেলুরামের, বিয়েওলার, বিয়ে হয়নি-ওলার, তাছাড়া, বিধবা সধবা বাপের বিধবা ছেলের, সধবা দাদুর, পুরুত মোল্লা ক্লাব, মস্তানের, লুচ্চা, ধর্ষক ধর্ষিতা, চোর, ছ্যাচোর, ডাকাত, বাটপার কেউ বাদ নেই রে ভাই। তুই কে, পড়াশোনা করিসনি, ভাতা পদান, তুই কাজ নেই তাই রেপ করিস, এই নে ভাতা নে, তোকে বুকের চড়ে রেপ করে খুন করেছে, চুপ চাপ ভাতা খা!
বাঙালি ভাতা খেতে খেতে ঘুষঘুষ ঘুষঘুষে জ্বর চেপে ইয়ে তুলে মানে বাটি তুলে জয়ধ্বনি দেয়, শীর্ণ কণ্ঠে শির ফুলিয়ে, নববর্ষে আমাদের লেখা আমাদের সুর দেওয়া রবিন্দ সমগিত গায়। পেছনে হুই দ্যাখ শিক্ষিত হযবরল ল্যাজ ঝোলা আর্ট পাখির দল, নাচে গায়, ধুয়ো তুলে ধোঁয়া দেখায়, দ্যাখ দ্যাখ আর নাচ, নাচ, নাচ বলছি শা, ভাতাখোর নৌটঙ্কি লেজ ঝোলা আর্ট পাখির দল! ভাত ছড়িয়েছি ভাতা পোদান করেছি, এবার নেচে দেখা। নাচ, নাচ, নাচ বলছি, নইলে এমন গুঁতুনি দেবো যে --!
বলি কি, নেচে নাও নেচে নাও, ননী মাখন বেছে নাও, যত পার খেঁচে নাও, দুদিন বইতো নয়।



ঝর্না 4 সপ্তাহ 1 দিন আগে
গ্রেট!
এমন লিখতে ইয়ে লাগে মানে সাহস
একটানা পড়লাম। দূর্দান্ত।
ঝর্না 4 সপ্তাহ 1 দিন আগে
শুভ নববর্ষ মঞ্চের সবাইকে। দিব্যি কাটুক বছর।
robin 4 সপ্তাহ 8 ঘন্টা আগে
চাবুক লিখেছেন
আমাদের দুর্ভাগা দেশে অবশ্য সবার গন্ডারের চামড়া
Arobinda 3 সপ্তাহ 6 দিন আগে
সব তো ঠিকই চলছে, সমস্যা কোথায় আহাম্মক ভাই, কাঙালি খাচ্ছে দাচ্ছে নববর্ষ উদযাপন হচ্ছে। তবে লেখাটা জব্বর।
রুভো 2 সপ্তাহ 6 দিন আগে
প্রতিভা ছপ ছপ ছাপিয়ে চপ বেগুনির আন্তর্জাতিক ইন্ডাস্ট্রি হবে, ভয়ে বাকি সব হেভি ইন্দুর থুড়ি ইন্ডাস্ট্রির বাথরুম বন্ধ, তাই রবীন্দ্র সঙ্গীত গাইবো
হা হা, লা জবাব একেই বলে
রুভো 2 সপ্তাহ 6 দিন আগে
এর একটা ফলো আপ লেখা লিখুন
নতুন মন্তব্য পাঠান