সমুদ্র ও মানুষ

আখেরুল হক's picture
আখেরুল হক বুধ, ২০২৬-০৪-১৫ ১৮:৪৯

পাথর বলে ‘চলো গলে যায়’
যতটুকু নরম মানবের হৃদয়
মাছ বলে ‘চলো ততদূর যায়’
যতদূর মানুষ করছে অন্যায়
………….. আখেরুল হক

সমুদ্র ও মানুষ
~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~

জবরদস্ত আকাশ , ঝুলন্ত পরমায়ু
চিরকুটে লেখা সবার নাম
আয়নায় জেগে ওঠে মুখ
রোদে পুড়ে কাঠ ও স্নায়ু
মেঘের ছায়ায় ঝুলন্ত পরমায়ু,
আমার ইন্দ্রিয় পাই না নাগাল তোমায়
শুধু পাথর ছুঁতে পারি
কুড়িয়ে নিতে পারি তাদের বিচূর্ণ ফুসফুস যারা
বহু ঘর্ষণ কুজ্ঝটিকা আঘাতের পর
আলগা নিষ্পাপ বালুতটে পড়ে আছে
ছোট ছোট ঢেউগুলি তাদের করুণার হাতের তালু ধরে
ঝাঁকাবে চমকে দেবে জাগাবে
দিনটা সবে শুরু , একটা প্রতিশ্রুতি
একটা প্রজাপতি এইমাত্র পাখা মেললো
মানুষের মনে সৃষ্টির অ্যামিবা থেকে অ্যাটম বোম্ব
সবকিছুই নতুন ও চমকপ্রদ
তাই সে দিবস পাল্টায় সে চায়
যত দ্রুত সময়কে বদলে নিতে চেটে নিতে
নতুন একটা স্বাদ যেটা বাকি আছে
মার্জিত লবন ছিটানো লাল লবস্টার ও
কাঁকড়াগুলো মুখগহ্বরে
আওয়াজ করতে করতে মরে যায়
তাদের জীবন বদলে যায়
মৃত্যুর পরবর্তী দ্বারে যে জীবন অমর,
সহ্যের ক্ষমতা আওয়াজে বিকশিত
এবং বিকশিত হোক
গাড় চিৎকারে যক্ষা রোগি কাশে চেম্বারে
কবি কেশে দেয় শারদীয় সংখ্যায়,

এই অসীম কিনারে মানুষেরা বেড়াতে এসেছে
ওদের একক সত্তা নিয়ে, আনন্দিত আবেগ,ঘটনাগুলো,
কুকুরগুলো তাৎক্ষণিক চানাচুর খেয়ে নিচ্ছে
মনোবাঞ্ছা পূরণ করে ধুয়ে যাচ্ছে ব্যর্থতার লেজ
সেই গলাধাক্কা লাঠির আঘাত লুন্ঠিত পশম,
হাত দুলিয়ে দুলিয়ে সূর্যোদয় স্বাগত স্বাগতম
মানুষ ভীত ,আমি ভীতদের পক্ষে
অশেষ জলের কাছে ক্ষয়িভূত লোক বাটি হাতে
কারো সঙ্গে দ্বিতীয় বার মুলাকাত হবে না
ওরা জলের বার্তা নিয়ে ফিরে গেলে তারা ফের
কেউ ফেরত আসবে বলে মনে হয় না
ওরা বেশ সুখী হয়ে গেছে

সুজনেরা একে একে পা বাড়াবে
আস্থার ভোট বাড়াবে নিজেকে
নিজেকে ছাড়া নিরপেক্ষ ভোট দেওয়া যায় না
বিশ্বের দরবারে কাজে কর্মে রাস্তার সিগন্যালে
শপিং মলের কাঁচের রোশনায়
যেহেতু আমাদের জামা ঝুলছে
তাহলে আমাদের শরীর থাকা চাই
ভাষার ব্যাপারে একগুঁয়েমি থেকো না
ঘাড়ের ব্যাগ নিকোবরে নামুক ,ওটা দিক ওটা দ্বীপ
চাঁদের বদলে ওটা আপাতত আমাদের বাড়ি
ডান দিকটাই তোমার ভালো হাত বারংবার
ভাষা ভাব স্বভাব পালটানো দরকার
উত্তরের সাদা বরফ চিন্তার সাদাকাশ
এবার বসুন রোজগারের কামরায় চেনা গোলার্ধে
ভাষা নিয়ে ভাবুন পাতা উল্টে কবিতা পড়ুন
সম্পর্ক গড়ুন কলমের মুখিটির সাথে
ফিসফিস কথা বলুন ,গা এলিয়ে দিন,ঘুম আসুক
ভালো থাকুন, সকলকে ভালো থাকতে হবে
এটা সেই সহজ কাজ , সময়কে ভুলে যাওয়া
কোনো স্মৃতির উদ্রেক না করে , যদি ঘুমান
চুলগুলো ঘুমায়,চুলগুলো ঘুমাক, থরোথরো কাঁপা থেকে
হরমোন শান্ত হবে,তুমি শান্তি পাবে,ভালো হবে,
কার না ভালো হবে , তুমি ভালো হলে
তুমি ঘুমালে, শিশুদের ভালো হবে , ওরা খেলবে খাবে
বই পড়বে , চারপাশ ঘুমাবে হ্যা,তুমি ভালো হবে ,
আমার ভালো হবে , তোমার ভালো হবে,
অদূরে মাটি খোঁড়া হবে
আপেল গাছ লাগাবার
যেহেতু আপেল আমাদের স্বপ্ন ,গাছ আমাদের কন্ঠ
আমরা হেরে যেতে চাই না
বন্ধু মহোদয়ের সাথে কলম ও টিফিনের
চামচ বিনিময় অহিংস এ-জগতখানি আমরা চাই
সরল অনুবাদ জলে ভাসমান প্রতিটা বইয়ের,
সময়ের ফাঁক পেলেই খুঁজতে চলি
নারকেলের ভাঙা মালাই
যে স্বপ্ন পূরণ হয়ে গেছে
তাকে অবহেলা করতে নেই
ছোট খাট একটু রোদ পেলেও তা বেশ চড়া দামি
যে প্লুটো আমার ভাই হলেও
আমি পৃথিবীরই লোক
সূর্যের কাহিনি থেকে বঞ্চিত নই
সে আমাকে ডোবাই কিন্তু ঠকায় না
সে আমাকে ওঠায় , এক কাপ অসমীয়া চা এনে
চাপ দেয় বুড়ো আঙুলে , যবে জ্ঞান হারিয়ে গেলে,
সকালে, সে লিপ্ত হয়ে পড়বে তালিকার মহলে
প্রতিটি দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস লক্ষ্য করে
স্যান্ডউইচের মাঝখানে মাখনের হ্রাস-বৃদ্ধি
সূক্ষ্ণতর বিবি তোমার কপালের লতানো কেশ
হাফ ইঞ্চি ছাঁট দেওয়া উত্তম
এটা তোমায় ভালো লাগবে
তুমি আয়না দেখে যার আন্দাজ করতে পার না
একজন মানুষের অধিকার আছে
তোমাকে চিহ্নিত করা
সন্তানের ঘুড়ি আজ রক্তকরবী ফুঁড়ে
মধ্য গগনে রমরমিয়ে নাচছে
যদি সুতো কেটে যায়
এটা আমাদের সকলের ভয়
আমরা বাড়িসুদ্ধ সকলেই দুঃখ পাব
আমরা চাই না বিড়ালগুলো
আচমকা গরম তেলে পড়ে কঙ্কাল ভেসে উঠুক
ভালোবাসার প্রথম ইচ্ছা পাহারা
আমরা আপ্রাণ টেষ্টা করি
দুঃখের উপাইসমূহ এড়িয়ে যেতে
একটি বাড়ি বানাই , দেয়ালে ঘেরা
শ্বাস প্রশ্বাস এর জন্য কয়েকটি জানালা
হাসিকে জিইয়ে রাখতে একখান উল্লম্ব আয়না
পাকা মেঝেতে স্থানু থামবে ঘামের শরীর
ভাঁজকরা একটা কার্পেট
এলিয়েন অতিথিদের জন্য
আপাতত মৃত্যুর খাতিরে কোনো আয়োজন নেই
একদিন অন্য কেউ এসে শিয়রে বসে
চুল আঁচড়ে চলে যাবে
কর্ণারে মাটির কুজোতে জল ভরি
আন্তরিক দূয়া দিয়ে ঝাড়ফুঁক করি
অশুভ শক্তি কারো বদনজর
আমাদের যেন দুশ্চিন্তায় না ফেলতে পারে
যেটা কখনো ভুলি না
নিজেকে চিমটি কাটতে ও
সদর দরজায় তালা দিতে

এত দিনে ছোট ছোট নুড়ি পাথরগুলোকে
বড় ঢেউগুলো টেনে নেয় জীবনের পরিণতি
গভীরতার পাতালের দিকে
নোনা পানির খর আয়নে রং ক্ষয়ে গেল জামার
পাড়ে এসে ডাবের পানির ঐশ্বরিয় বিশুদ্ধতা নলে চু-চু টেনে
যেন মিষ্টি প্রাণ ফিরে পেলাম
ধন্যবাদ ডাবওয়ালা ও মানিব্যাগ ও
বিশেষ ধন্যবাদ পিপাসা তার প্রতিবর্ত জিভ
মরণ কালের শেষ ক’ফোঁটা জলও সে ভুলে না
আত্মার সাদা চাদরে ছিটিয়ে দেয়
আতরে উদ্বায়ী হয়ে ওঠে চতুর্দিক
যেটার বাহিরটা অনায়াসে চেনা যায়
ভিতরটা একটুও চেনা সম্ভব নয়
ভুলগুলো আটকে থাকে সিলমোহরে
এক হাত চাঁদের পিঠে,এক হাত বোলতার বিবরে
জানি না কোন সুরক্ষার দায়ে
ভুলগুলো আটকে গেছে সিলমোহরে
সমুদ্র মানুষকে যেভাবে এগিয়ে নিয়ে যায়
তার বেশিরভাগই আন্দোলনের ঢেউয়ের স্মৃতি
প্রেমে ডোবার চেয়েও আরো অধীর
সাগরের হৃদয়

যদি প্রত্যেক মানুষের ইচ্ছার সঙ্গে থাকতো
ঘর থেকে সমুদ্রে যাওয়ার একটা করে নয়ানজুলি
আমাদের হাতেগড়া কাগুজে নৌকায় পাড়ি জমাতাম
অথবা আমরা যদি এই বিশ্বাসে বেঁচে থাকি
সমুদ্র কোনো পাপ ধোওয়ার কেওড়া জল না
যদি আমরা ‘সৎ-ই স্বাধীন’ হতে পারি
আমাদের হৃদয় ভাঙার কোনো হাতুড়ি থাকবে না
দোষ রবে না ঘিলু ঘটে স্রোতে
ঘূর্নিঝড় উঠবে বুকে বালিশ উড়বে
বেবাফা সনম ফিরে যাবে তার
বর্নাঢ্য উৎসস্থলে ,
চোর ডাকাত ধর্ষক খুনি শয়তান মাতাল
মোটরসাইকেলের আয়নায় ফুটে উঠবে না
তাদের মুখশ্রীর মুখোশ, যদি
আমরা ‘সৎ-ই স্বাধীন’ হতে পারি, ওরা জানে
মানুষ ফুল খেতে ভালোবাসে
ওরা আপনাকে ফুল বলে বিষ খাইয়ে দিবে
এক পাউন্ড রুটির পরিবর্তে
ওরা আপনাকে হরপ্পার শস্যাগার দেখাবে
শান্তির আসক্ত বাণী কেটেকুটে ছিঁড়ে
খারাপ পেশার লোকেরা প্রথমে কবিতার
চরণ আক্রান্ত করে অতঃপর খোরপোশ দাবি করে
ডাকাত ঘুরছে নাকের ডগায়
পুলিশ ঘুরছে স্বয়ম্বরে
ধর্ষক শান দিচ্ছে লোলুপ অন্ধকারে
হঠাৎ ঝাঁপিয়ে পড়বে খুনি ঘুঘু
জন্মদিনের সাজানো কেক-এ
এলোপাথাড়ি কোপ মারবে আমাদের
আমরা আর কত নিজেদের নাম ধরে চেঁচাবো
রক্ত লসিকা স্নেহ ত্বক প্রেম ক্ষত
বিক্ষত হবে গামছা ও ব্রেন
লুকানো নীরবতা বড় হয়ে গেলে বেলুন ফেটে যায়
নাগরদোলায় টাল খাওয়ার আগে
হাঁটুতে মুখ গুঁজে পেরেক পোঁতার আগে
খুঁজতে চলি নারকেলের ভাঙা মালাই
একটা গ্লোব হবে জলস্থলের
কী হবে নাম তার , যা লিখে দিলাম
চোরাবালির ওপর
সাগর ফিরিয়ে দেয় মেঘ ও মাছ
আমরা ফিরিয়ে দিই ঘাম ও নুন
এক প্লেট সাদা ভাত সাদা মন সাদা নুন
২৪ ঘন্টার ঘুরন্ত জীবনে, এছাড়া কীই বা আশা করি
তাছাড়া কীই বা তৈরি করতে পারি
এই স্থলে অল্প জলে সমবেত বসি
আলোর টেবিলে
হে সৃষ্টিকর্তা, জন্ম জীবন মৃত্যুর মালিক
তুমি ভালোই জানো
সরকারি রাস্তা ভালো
কাজলের কালো ভালো
গোলাপের গন্ধ ভালো
পিরিতের ধৈর্য ভালো
গাছের দিল্ ভালো
দরিয়ার ঢেউ ভালো
মৎস্যের বোবা ভালো
পুতুলের হাসি ভালো
বেদনার কন্ঠ ভালো
শিশুর দুঃখ ভালো
নিজের অশ্রু ভালো
টুনিবাল্ব জ্বলে ভালো
সারা জীবন জ্বলেই গেল
তুমি ভালোই জানো
সব আলোর কতটুকু
দরকারি আলো

__________________

আখেরুল হক

হলুদ's picture
অনবদ্য

হলুদ 4 সপ্তাহ 2 দিন আগে

অনবদ্য

nishi's picture
দীর্ঘ কবিতা, দীর্ঘ স্বাদ

nishi 4 সপ্তাহ 1 দিন আগে

দীর্ঘ কবিতা, দীর্ঘ স্বাদ, ভারি ভাল লাগল

robin's picture
অনন্য স্টাইল আপনার বেশ

robin 4 সপ্তাহ 7 ঘন্টা আগে

অনন্য স্টাইল আপনার
বেশ immersive চিন্তাভাবনার লিথিত রূপ

robin's picture
লিখিত রূপ

robin 4 সপ্তাহ 7 ঘন্টা আগে

লিখিত রূপ

আখেরুল হক's picture
ধন্যবাদ

আখেরুল হক 3 সপ্তাহ 5 দিন আগে

হলুদ নিশি রবিন এবং যিনারা কবিতা পড়েছেন
সকলকে ধন্যবাদ জানাই

আখেরুল হক's picture
ধন্যবাদ

আখেরুল হক 3 সপ্তাহ 5 দিন আগে

হলুদ নিশি রবিন এবং যিনারা কবিতা পড়েছেন
সকলকে ধন্যবাদ জানাই

রুভো's picture
চিরকুটে লেখা সবার নাম আয়নায়

রুভো 2 সপ্তাহ 6 দিন আগে

চিরকুটে লেখা সবার নাম
আয়নায় জেগে ওঠে মুখ
রোদে পুড়ে কাঠ ও স্নায়ু
মেঘের ছায়ায় ঝুলন্ত পরমায়ু,

একেবারে মডার্ন ভাষ্যটা

রুভো's picture
পড়তে পড়তে উপভোগ করলাম আর

রুভো 2 সপ্তাহ 6 দিন আগে

পড়তে পড়তে উপভোগ করলাম আর উপভোগ করতে করতে পড়লাম



নতুন মন্তব্য পাঠান

  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <b> <font color> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <small>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • You may use [inline:xx] tags to display uploaded files or images inline.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.
  • You may use <swf file="song.mp3"> to display Flash files inline