ত্রিধারা ৫৬

একজন কবিতা-কুটুম্ব's picture
রক্তিম

ত্রিধারা ৫৬
- অসিত কুমার রায় (রক্তিম)
নদী যেমন আর উৎসে ফেরে না
রকমফেরে জীবন বুঝি তাই।
শেষের পথে বহুস্রোতা দ্বিধা বিভক্ত
মিশে যেতে চায় মোহানায়।

যার যতটা বেশি আছে সেজন ততটা দেয়
যার সত্যিই কিছু নাই।
তবেই অঙ্ক মিলবে হয়ে যাবে সমাধান
উত্তর তুমি পেয়ে যাবে ভাই।

চাইলেই সুখ তড়িঘড়ি আসে ভাই
সাথে সাথে দুঃখ আসে ওরা যে দুই ভাই।
গলায় গলায় সদায় থাকে জগাই মাধাই
এক অন্যকে ছেড়ে ওরা থাকতে পারে নাই।

ASIT KUMAR ROY's picture
ক বি তা আখর কাটতে আলমারি

ASIT KUMAR ROY 4 সপ্তাহ 2 দিন আগে

ক বি তা আখর কাটতে আলমারি খুঁজে
ছোট বড় সব ব্যথাদের নামিয়ে আনি
স্ক্যালপেলে কাটি ছিঁড়ি স্মৃতির টেবিলে
কেউ কেউ তখনো জীবিত অর্ধমৃত
সাদা স্বচ্ছ কাগজের কালির আঁচড়ে
একে একে সাজায়, বাকিটা আবার তুলে রাখি।
হলুদ রোদ্দুরে দুঃখেরা কেমন থাকে
ওদের হাল হাকীকত জানি জানতে ইচ্ছা করে।
ওদের এখন কেউ কেউ বধির...
কেউ কেউ বিদেশে চলে গেছে
আবার কেউ কেউ সুস্থতা পেতে চায়
কেউ নতুন আত্মীয়র বাড়ি অন্নপূর্ণায়।
আমি সেখানে ব্রাত্য।

আমি ও জানি আমার ব্যথারা
একদিন ঠিক পূজা পাবে।
তখন নীল ফুলে সাজিয়ে দিও ডালি
জমে জমে থাকা যত ব্যথারা ওষ্ঠ মেলবে,
পাতা উল্টে পাল্টে বলে দেবে কত চুপকথা।
অজান্তে দিগন্তে হলুদ বসন্তের ডাল খালি।
ভুলে যাওয়া শব্দেরা প্রজাপতি ডানায়
উড়ে আসে নতুন করে আসার মতো
ভুলিয়ে দেয় দুঃখ রাতের যত ক্ষত।
সব হারানো আবেগগুলো সামনে ছড়িয়ে পড়ে
পাইনা খুঁজে তবু আবার নতুন খুঁজি তারে
সারা জীবন ধরে।

ASIT KUMAR ROY's picture
জীবনের যত ফেলে আসা ইতিকথা কি

ASIT KUMAR ROY 4 সপ্তাহ 8 ঘন্টা আগে

জীবনের যত ফেলে আসা ইতিকথা
কি পাব কি নেবো,
জানিনা উজার করে আর কি দিতে হবে
সামনে দেখি মহাজনী হিসাবের খোলা খাতা
লিখে যায় পাপক্ষয় পাতার পর পাতা।
কিছুতেই অঙ্ক যেন আর মেলেনা
দুইয়ে দুইয়ে পাঁচ কিম্বা সাত সতের।
এ যেন নিত্যদিনের বেঁচে থাকা।

ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলি
রাগ অনুরাগের বাড়ে অহংকার
সঞ্চারিত মান অভিমান এপার ওপার।
এরমধ্যে কখন যে সময় ফুরিয়েছে বুঝিনি;
চিৎকারে ঊর্ধ্বশ্বাসে সময়কে প্রাণপণে ডাকি
সময় বড় নির্লিপ্ত উত্তর দেয় না নিষ্ঠুর;

একরাশ অন্ধকারে গুমরে গুমরে উঠি।
কিছুই ভালো করে ভাবতে শিখিনি।
নিজের ভিতর আগুন সব পুষে রাখি
জানিনা, কবে কখন ওরা সব ফুটে উঠবে
রডোডেনড্রনের মতন লাল রক্তরাগে।

ASIT KUMAR ROY's picture
সোনার হরিণ খুঁজে খুঁজে হয়েছি

ASIT KUMAR ROY 3 সপ্তাহ 6 দিন আগে

সোনার হরিণ খুঁজে খুঁজে হয়েছি পরিশ্রান্ত
চোখে মুখে স্বপ্ন শয়নে সে মুখ ভাসে আয়নায়
আমায় ছুটিয়ে বেড়ায় আদিগন্ত মরু সাহারায়।।
জীবন জুড়ে শুধু কুড়িয়েছি ভাঙা চোরা স্বপ্ন
তবু আশা রাখি এই আস্তাকুরেই
হয়তো মাথা তুলবে একদিন সবুজ কিশলয়।।
পাথর কি সত্যিই কাঁদে!
হয়তো কাঁদে বা কাঁদেনা নীরব থাকে,
তবে কেন সে কান্নার দাগ সে বয়ে বেড়ায়।।
চাওয়া পাওয়া না পাওয়াতে
জীবন বয়ে চলে অসীম সীমানায়,
তুমি আমি সবায় তীরে তাই দেখে যাই।।
আঘাত আসে আঘাত সইতে থাকি
হৃদয় কিন্তু সবটা জমিয়ে রাখে
ঠিক মমির মতন প্রায়।।
তবু বেঁচে আছি বেঁচে থাকতে হয়
যতটা জানি আঁধারের শেষে যদি আলো পাই।।
দিন ফুরিয়ে আসে রাতের মরসুম আসন্ন প্রায়
চিরঘুমে যাবার আগে হৃদয় আখরে সাজাই ।।

ASIT KUMAR ROY's picture
ঝড়ের দিনগুলো যারা বুক দিয়ে

ASIT KUMAR ROY 3 সপ্তাহ 5 দিন আগে

ঝড়ের দিনগুলো যারা বুক দিয়ে আগলে ছিল
যারা আগুন বৃষ্টিতে সারা জীবন ভিজেছিল;
যারা মায়েদের সম্মান নষ্ট হওয়াতে
প্রাচীরের মতন অস্ত্রের মুখোমুখি হয়েছিল।
তারা একে একে আজ আকাশের তারা।
মায়েদের বুকে পবিত্র শুন্যতা নেমেছিল।
ওরা যে সবাই ছিল বাংলা মায়ের সন্তান
সবটা কি ভুলে যাবো।
নাকি ভুলতে বললেই ভুলে যাবো।
না না না কিছুতেই ভুলতে পারব না।

ওরা যে আমাদের পূর্বসুরি
ওদেরই রক্ত আমাদের শরীরে মিশে আছে;
বলে অন্যায় মুখ বুজে সহ্য আর নয়,
প্রতিবাদী ঝড় তুলতেই হবে সঠিক সময়।
নিশানে যে লেগে আছে সেই লাল রক্ত
সবটা হৃদয়ের পাঠাগারে তাজা ইতিহাস ।
তাকে কখনো যেমন খুশি ইচ্ছায়
পাল্টানো যায়না যাবেনা।

ASIT KUMAR ROY's picture
কি দিয়ে শুরু করব জীবনের পাতা

ASIT KUMAR ROY 3 সপ্তাহ 5 দিন আগে

কি দিয়ে শুরু করব
জীবনের পাতা হলুদ হয়ে যায়;
অথচ চেয়েছিলাম নদীর ধারা হতে,
স্বচ্ছ সাবলীল শান্ত কাকচক্ষুর মতন।
কে বা কারা শুধু জল ঘোলা করে
তাঁদের চিনি জানি,
তারা যে আমার খুব আপনজন।
তাঁদের ছাড়তেও পারিনা ধরতেও পারিনা।
এ যেন সেই শাঁখের করাত।

Roktim's picture
বেজে উঠলো কি সময়ের ঘড়ি। এসো

Roktim 3 সপ্তাহ 4 দিন আগে

বেজে উঠলো কি সময়ের ঘড়ি।
এসো তবে আজ বিদ্রোহ করি।
আমরা সবাই যে যার প্রহরী,
উঠুক ডাক!
উঠুক তুফান মাটিতে পাহাড়ে,
জ্বলুক আগুন গরীবের হাড়ে।
কোটি করাঘাত পৌঁছাক দ্বারে ভীরুরা থাক।
মানবো না বাঁধা, মানবো না ক্ষতি,
চোখে যুদ্ধের দৃঢ় সম্মতি ।
রুখবে কে আর এ অগ্রগতি?
সাধ্য কার?
রুটি দেবে নাকো দেবে না অন্ন,
এ লড়াইয়ে তুমি নও প্রসন্ন।
চোখ রাঙানিকে করি না গণ্য,
ধারি না ধার।

দিক থেকে দিকে বিদ্রোহ ছোটে,
বসে থাকবার বেলা নেই মোটে।
রক্তে রক্তে লাল হয়ে ওঠে পূর্বকোণ।
দেখবো উপরে আজো আছে কারা?
খসাবো আঘাতে আকাশের তারা।
সারা দুনিয়াকে দেবো শেষ নাড়া,
ছড়াবো ধান।
জানি রক্তের পেছনে ডাকবে সুখের বান।

ASIT KUMAR ROY's picture
শুধু আজানে নয় অঞ্জলিতে নয় এই

ASIT KUMAR ROY 3 সপ্তাহ 3 দিন আগে

শুধু আজানে নয় অঞ্জলিতে নয়
এই জগতে বাঁচতে জানতে হয়।
এখনো যে বাকি আরও অনেক কাজ
বৃক্ষ হও, বাঁচো বাঁচার মত করে
লতাগুল্মের মত ছায়ায় মায়ায় নয়।
ভিক্ষায় নয় সাথী অনুদানে ও নয়
নিজের অধিকারে উঠে দাঁড়াতে হয়।
তুমি যে বিক্রি হয়ে যাও নি
সেটা তোমাকেই প্রমাণ দিতে হবে।
দরকার হলে আগুন ছুঁয়ে নিতে হয়।
মিথ্যে ঈর্ষায় নয় স্বার্থপর হয়ে নয়
বাঁচো অন্যের দুঃখ সুখ যাপনে;
থাকতে হয় থেকে যেতে হয়।
মানুষ যে একা বাঁচতে পারে না।
মানুষের ডাকে তাই সাড়া দিতে হয়।
আঁধারে নয় আলোর পথ খুঁজতে হয়
গাছের পাতাও জানে আলোর পথ।
জানো বাতাসের ক্রোধ ক্রমশ ঝড় হয়
তাঁর কাছেই শিখতে হবে ঝড়ের মন্ত্র।
ঝড়ের গান যে তোমায় খুব মানায়।

ASIT KUMAR ROY's picture
ভেদি অনশন মৃত্যু তুষার

ASIT KUMAR ROY 3 সপ্তাহ 3 দিন আগে

ভেদি অনশন মৃত্যু তুষার তুফান
প্রতি নগর হতে গ্রামাঞ্চল,
কমরেড লেনিনের আহ্বান
চলে মুক্তি সেনাদল।

অতিক্রান্ত ঐ প্রান্তর গিরি দুর্গম
পূর্ব সীমান্তে ধায় পল্টন,
প্রাইমরিয়ার শেষ দূর্গে
আশ্রয় নিয়েছে দুশমন।

যুদ্ধ লাঞ্ছিত বিবর্ণ লাল পতাকা
মহা গৌরবে ঊর্ধ্বে উড্ডীন,
সদ্য সিক্ত রক্তের রঙে
হল সহস্র গুণ রঙিন।

চিরস্মরনীয় ইতিহাসে সেই মহাদিন
নিখিল বিশ্বে সে কাহিনী প্রচার
মহাবিক্রমে লাল পল্টন
শেষ দুর্গ করে অধিকার

নিশ্চিহ্ন হল শত্রু সৈন্য
জাহান্নামে দস্যু বিলীন,
প্রশান্ত সাগর তীরে
শ্রমিক পতাকা উড্ডীন।



নতুন মন্তব্য পাঠান

  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <b> <font color> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <small>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • You may use [inline:xx] tags to display uploaded files or images inline.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.
  • You may use <swf file="song.mp3"> to display Flash files inline