পুরোনো এক্সপেরিমেন্ট

সম্ভাব্য শিরোনামসমূহ, বেছে নিন যে কোনো একটি
- ভাদ্রশুরুর কোলাজঃ একটি অসম্পূর্ণ খসড়া
- তোমাকে ছেড়ে রিমার সাথে চলে যেতে পারি
- ওষ্ঠ খোলো সঞ্চারী
- মিসিং ইউ-এর ভালো বাংলা কি?
বেছে নিলেন ? অথবা রাখুন নামহীন
‘‘তবে, নীল হয়ে যাচ্ছো যে?’’
"দ্যাখো, মেঘ নেমেছে আজ প্রগাঢ় নিশ্বাসে
তার মাঝে দু এক ফোটা জল গড়ালেই
পদ্ম হবে
শান্ত শীতল দীঘির কোলেও নীল ছড়াবে
গোটা পৃথিবী ছেয়ে যাবে প্রসন্ন নীলে,
আমার পায়ের কাছে ..."
----
আমি কেমন করে ‘ভালো নেই’ বলি, বলো?
নিয়মিত খাওয়া ঘুম, রাত হলে চলচ্চিত্র
দেখি লড়াই চলছে মানুষে অসুরে
এ শহরে কোনো লড়াই নেই,
‘ভালো নেই’ চলে না বলা ...
প্রিয়জন কাছে আছে, পাশে নেই
তবু প্রিয় ঠিকই আছো
কাছে গেলে মনে হয় বখাটেই হই
এখনো যে মনের কৈশোর আমার ...
সেখানে আসমানী দেখ, দেখ সাদা বড়জোর
মেঘ নেই তাই হবে না বর্ষণ, পদ্ম ফুটবে না
আর দীঘি তো কচুরিতে ছেয়ে আছে,
একদম সবুজ
যেন তোমার পায়ের কাছে, বুকের কাছে
তোমার চিবুকের সীমান্ত বরাবর অরণ্য আছে
‘সত্যি বলছি’ বলে এভাবে মিথ্যা বোলো না
এবার থামো, উত্তর শুনে নাও, প্রিয়
বিষাদের তোমাকে নয়, তোমারই বিষাদ ভালোলাগে ...
প্রতিউত্তর / গারলিক স্কাই
সকল মীমাংসার পরেও একটি স্নেহাতুর বিড়াল থেকে যায়। তার ভুক্তাবশিষ্ট মাছের কাঁটা পাঁজর ফুঁড়ে দেখে প্রৌঢ় অ্যালভেওলাসে কারো ক্রান্তিমগ্ন ভ্রূয়ের কলমকারি, নুবাইল নখের মোলোয়েম অদৃশ্য আঁচড়ের দাগ। মোহন বিড়ালের তুলতুলে বুকে, তার প্যাঁচানো অন্ত্রে জারক রসে পাখির শরীরের হিস্যা, গোধুলি কিরণে যে কোনো হত্যাকারীকেও যেরকম মনে হয় অমোঘ আকর্ষক, আর কোমল দুধের গন্ধে আমার মনে পড়ে যায়, সকল রমণীর স্তনেই একইরকম নরম গোলাপি প্রবাল, যেন কতকাল লবণ সাগর হয়ে ছুঁয়ে আছি আমি আজন্ম, আজননীপ্রেমিকাতনয়াকাল-মহাকাল ...। সকল গল্পের শেষে আর বিগলিত মেধার বৃন্দগান অস্তাচলে গেলে, বিড়ালের অতি হালকা পায়ে তুমি মোজা পরিয়ে দাও, হুইসকাসের বাটি মুখে ধরে দেখো, আর কিছু নয় শুধু ক্ষুধার চালিকাশক্তিতে গ্যালাক্সি আজও কামনাপ্রবণ এক প্রস্রবণমাত্র। উষ্ণ। কবোষ্ণ বিড়াল যেরকম উষ্ণতর হয়ে ওঠে তোমার মধুর হানিহর্নি কোলটিতে বসে ...
‘‘একটি নক্ষত্র তুমি, বৃন্তচ্যুত, খসে পড়লে এই
মধু ও ব্রহ্মান্ডময় পৃথিবীর শিকড় অবধি
তোমাকে ভৈরবী বলা যায় না, এমনকী যুবতীও
না, তবে কি নিশ্চিত তোমাকে আমরা বালিকা জেনেছি
আমাদের ফুল-খেলা, ভুল নিয়ে, কোনো দুঃখ নেই
নৌকা ডুবে যায়, তবু ডোবে নাকো নৌকাডুবি নদী
স্বর্ণ ফুল আমাদের ডেকে বলে, ‘নির্সগে জড়িয়ো
না’ - আমরা ঐ নিসর্গের থেকে তাই দূরে সরে গেছি
আর বহুদুর থেকে জরায়ুর মধ্যের গোলাপ
দেখেছি ভ্রূ-মধ্য হতে নেমে-আসা ক্রমশ অস্থির
প্রাগৌতিহাসিক-ভ্রূণে হিঙ্গুলবর্ণের এক সাপ
যে নিজেকে ভেঙ্গে ভেঙে ক্রমশ যুবতী হতে চায় ...’’
অরুণ বসু
‘‘আমি তো চেয়েছি লিখতে শীতের সুন্দর এক রাত...
আমার দুঃখের দিনে কমলালেবু, ঝরে শাদাভাত
মানুষের বাড়া ভাতে তবু কে দিয়েছে বলো, ছাই ?
সমুদ্রের মতো নারী - আমি যার মুখ ছুঁতে চাই
বাতাসের সঙ্গে তার সন্তানসম্ভবা উঁচুপেট
মনে পড়ে, লেখা হয় না তবু শীতসন্ধ্যার সনেট ...’’
অরুণ বসু
হিম নেমে আসছে। শুধু শীত। এখন আর এ পৃথিবীতে বর্ষা আর শরতের মাতন আর মাতব্বরী নেই। আগড়পাড়ার দিক থেকে তোমার শরীরের সুবাস, তোমার ন্যুডিটির হালকা কুর্চিফুল বরফিলা অণু ক্রিস্টাল। ঝরে পড়ছে। আমাকে ঠান্ডা আমেজে আর অজানা আতঙ্কে ভরিয়ে। হিমাঙ্কের নীচে যেন ক্রমশঃ নেমে যাচ্ছে তোমার তাবত মাংসপিন্ড। তোমার তনু শলাকাটি আবার হাতে তুলে নিক অন্য কোনো আদিম মানব। আমি ব্যবহৃত। আমি ফুরিয়ে গেছি। সব চার্ম একদিন মরণের কোলে মাথা গুঁজে ডুকরে কেঁদে ওঠে, আওয়াজ বেরোয়না। বেদনার অবিমিশ্র রসায়নের খোঁজে যেমন মেঘের ঢলঢল লাবণি স্থির পাখার সুচারু ব্লেডে চিরে দেখে চিল, একদিন যেভাবে স্বেচ্ছায় হারিয়ে যায় মহার্ঘ অভিমানে অবুঝ কবির নীল গ্রামাফোন, যেভাবে কৈশোরের আর তরুণীবেলার পটভূমি অনায়াসে ছেড়ে চলে যান আমার বেভুলা যুবকবেলার আরাধ্যা কবিতা দেবীরা, আমি দেখি বসুধার সকল হাওয়া অবশেষে হা-ক্লান্ত হয়ে নিরবধিকাল বিশ্রামে ডুবে গেছে, আর কোনো ঋতু নেই। তুমি পল্লবীকে শুধিয়ে দেখো, তারও কেমন লাগে এই বিশ্রামের বিরান, শল্যচিকিৎসার পর তার এই ধীরে ধীরে সেরে ওঠা, অথচ দ্যাখো, শ্রাবণের আগমনে এ বছর শ্বাপদের গন্ধ, যেন মোলোয়েম বিপদের ন্যায় পৃথিবীর ভিতরে এক অবশ্যাম্ভাবী মাকড়সার জাল, তার উপর ঊষাকিরণ, তার উপর বাসি বাসমতী ভাতের গন্ধ। কে বলে দেবে, আমার কি হয়েছে? আমার রোগনির্ণয় কে করে দেবে? আচ্ছা বল, তোমরা কি জয়দ্রথকে চিনতে অথবা কুন্তলকে অথবা এই শহরের সমস্ত খেলনাব্যাবসায়ী যাদের ধীর পায়ে লেগে ছিল তোমাদেরই শৈশবের মখমল। প্রথম বুবস উদ্গমের মতো আমার মনে পড়ে তেরছা আঁধারের কোল ঘেষে আমার প্রথম পাহাড়দর্শন। জঙ্গলের বল্কল খুলে, জাইলেম ফ্লোয়েমের হলকার ভিতর তোমার ভগ্নীর নিরুত্তাপ তবুও গনগনে আঁচে নিজেকে সেঁকতে সেঁকতে এই যে আমার দু বছর, তার মধ্যেই লুকোনো ছিল মৃত্যুর পরোয়ানা। আমি দেখলাম, প্রকৃত কবিরা ও ভালোমানুষ অ-পুরষ্কৃত, অথচ সুলভ সাদাকালো কমপ্লেক্সের ভিতর সোশাল প্রথিতযশা আর উঠতির আশিয়ানা, যে কথা প্রস্তরীভূত হতে হতে একদিন তোমার পল্লবীর উত্তপ্ত জিওলজিকাল হাতুড়ির ঘায়ে পাথরের ঘুমের নক্সার ভিতর আর্তনাদ করে উঠবে যখন তুমি অতি পৃথুলা, আর তোমার ভগ্নীর বিজাতীয় ও বিশাল বড় ফ্ল্যাট ও সুখ উপাচারের মধ্যে স্ফীত হাঁসেরা সঙ্গমের ইতিবৃত্তে লিখে রাখবে ডিমজ কুসুমের গৈরিক বৃত্ত উপত্যকা। অর্থাৎ এ সকলই দূরূহকথা, সহজ কবিতানুরাগীদের জন্য নয়।
‘‘অনর্থক খেলা করো অনর্থক খেলা প্রেম প্রেম
দুরন্ত মাঠের দুঃখ কোনোদিন বুঝে দেখেছ কি?
পদচিহ্ন খুঁজে খুঁজে ভাবো আজ কোথায় এলেম
ময়ূরপুচ্ছের পাশে লুটোপুটি খায় হরিতকী
সঙ্গে থাক শিলমোহর, তুমি থাকো তোমার ভিতরে
সূত্র অত সোজা নয়, নড়ে ওঠে শৃঙ্খলের দাঁত
প্রসঙ্গ চলার জন্য টান থাক আশ্রয়শিয়রে
নত মাথা না ঝুঁকিয়ে বন্দনাও শিখবে হঠাৎ
সুতরাং দুই যুগ চারযুগ পাঁচ যুগ পরে
ভালোবাসা বেছে নেবে রক্তবর্ণ লবণের রেখা
তখনো তোমার মুখ অবিকল তোমার শরীরে
তুমিই তো পদচিহ্ন, মহাকাশে হাতছানি লেখা ...’’
ফল্গু বসু
মাণিকের শ্রেষ্ঠ পাঁচটি উপন্যাস এক মলাটের বাঁধাইতে
আমার আলস্যের উপলের উপর পড়ে আছে।
স্টারমার্ক থেকে কেনা, খাপছাড়া পুনঃপাঠ
আচ্ছা, রিক্ত চাবুকের কি মনে পড়ে নরম পিঠের কথা?
কান্নার শতধা উপাখ্যান, বিরল দুপুরের পার্কিং লট
শীতল হাওয়ার বারিকণায় ভারি হয়ে আছে।
কারা যেন উৎসব করে, ঝপ করে নিভে যায় কারা?
স্টারমার্কে কমিশন নাই, কলেজপাড়ায় আছে।
আমি অনেকদিন আলুপরোটা খাইনি
ম্যানিকুইনদের উদ্ধত বুক দেখি নি, চারিদিকে থৈ থৈ
নারী পুরুষ, বন্যাত্রাণ, দূষণ, ক্লান্তিকর সব ইস্যু।
আসল যাদুকর কোথায়?
আমার আঙুলের ভিতর যাদুকাঠি গুঁজে দিয়ে সে হাওয়া,
আমি তো শূন্য টুপি থেকে খরগোশ বার করতে ব্যর্থ।
আসলে জনতার রুচি পাল্টে গেছে।
শ্যাওলা ভাপা খেতে কেমন - এই একটি প্রশ্নে জনতার
বাহান্নটা কমেন্ট, প্রকৃত কবিতার কমেন্ট নাই।
কোনো কবিতার সাথে, কোন কবির সাথে কানেক্ট করতে
পারছিনা, আমার ইলেকট্রিশিয়ান দরকার, কানেক্টর।
ষোলো অ্যাম্পায়ের প্লাগ ও সকেট, আহা ষোলো
বলেছিল যে কণ্ঠ শুধু তাকেই মানায়!
‘হ্যালো, আপনি কালকে আসছেন?’
হ্যালো, তুমি কি করছ সারাদিন, হ্যালো হ্যালো!
উপন্যাস থেকে সরে আসছি আমরা, জলাভূমি বুজে আসছে।
আমি এ শহরেই বাস্তুহারা সিংহের ঘ্রাণ খুঁজছি, আর
একটি ক্ষীণ অনামিকায় লেগে আছে আমার প্রেম।
কবিতার গন্ধ আর এক প্রিয় মানবীর গন্ধ মিশে আছে
কী ভীষণ এক হয়ে, এই সন্ধ্যায় বিলকুল শুধু ঘুমোতে চাই।
পণ্যপরিবহন শেষে, হে মাস্তুল তুমি ফিরে যাবে কার কাছে
ঢেউয়ের মন্তাজে আলোর তিমির, ভেসে থাকা এই বন্দিশ একদিন শেষ হবে
নারিকেল নাড়ু লোভী আর অতি প্রত্যাশী কিশোরের ন্যায়
আমিও আদেখলা ছুটব এই বাড়ি ঐ বাড়ি, বৌদিদিগের রাঙা হাত
আজনবী কিশোরীর কোমল বুকের শ্বাস যেন ক্ষীণ পাখি
পালকে রোদের কিরণ মেখে বলে দেবে, যে জাহাজ অবশেষে ডুবে যায়
ভেসে থাকে শুধু মাস্তুল, হাওয়ার বিরানভূমিটুকু শুধু তার
আমি কার ?
‘‘তুমি আমায় ভালোবাসো জানলে গভীর আনন্দ হয়
ঘণ্টাঘড়ি নক্সা পিছু সত্যি বলছি দু টাকা পাই
আয়োজনের অন্ত জেনে এই দুনিয়ার আকাশ দেখি
খুল্লামখুল্লা বলছি তোমায় শোনো আমার মনের কথা
সবুজ সবুজ আরো সবুজ এখন প্রিয় উদাস মাঝি
তাঁতের মাকু নড়তে চায় না, বাবলা ফুলে আঘাত লাগে
তাহলে কি সত্যি তুমি জানতে আমি হারিয়ে যাবো ...’’
ফল্গু বসু
সঞ্চারীকে ছেড়ে আমি রিমার সাথে চলে যাবো ভাবছি
জায়গাটা নিশ্চিন্দিপুরের কাছাকাছি অথবা ধান্যশ্যামল কোনো মফঃস্বল
অথচ এই জন্য প্রথমেই আমার একটা কালো ফোন দরকার
যেরকম সত্তরের দশকে, যার মধ্যে সোনালী রঙের সত্যিকারের ধাতব ঘণ্টা
সে আমাদের স্বাধীনতার আমলের বিদারী ক্রিং ক্রিইং ...
তখন তো কবিরাও স্বাধীন ছিল, এমনকি তারও পরে ইন্টারনেটও ...
সেইসব আশ্চর্য বিকালে চৈত্র পেরিয়েই বৈশাখ আসতোনা
মাঝখানে একটা বোবা ঋতু থাকত, আমরা হাফহাতা পোষাকের ভিতর
আনকোরা সব স্মৃতি লুকিয়ে টপকে যেতাম ইসকুলের প্রাচীর
আশ্চর্য ফুলকপির ক্ষেত, সুডৌল টমেটো বাগান, দীপের মন্দ আলো
রিমা আল্ট্রা স্লিম, কিন্তু সঞ্চারীর মতো ভালোবাসতে পারবে কি ?
এই প্রশ্ন করা মাত্র গ্যালাক্সিতে একটা বিস্ফোরণ হয়ে যেতে পারে
অথবা আমিই হতাহত হয়ে যেতে পারি, অথবা কিছুই হবেনা
কারণ কবিতা, প্রতিষ্ঠান, অ্যান্টিপ্রতিষ্ঠান এইসব আজকাল
অথবা গতকাল, আগামীকাল তালগোল পাকিয়ে আছে ...
আমি সঞ্চারীর বুকে আর কোলে মাথা রেখে ভাবছি
একটা ভালোবাসার বয়স দু বছর হলেই কি অনন্তকাল বলা যায় ?
এইসব উত্তর পেতে গেলে দরকার আমার আগফা ক্লিক থ্রি
এইচএমভি ফিয়েস্তা পপুলার, ব্যর্থ হরফের শোক-অশোক ফুলের গুচ্ছ
পরম্পরাহীন আঁচলে যেভাবে আজো আচানক হলুদের দাগ লেগে যায়,
পাঠমঞ্জরীর ভিতরে হাতে লেখা চিরকুট, প্রথম লেখা কবিতা মনে পড়ে যায় ...
রিমার দিকে না তাকিয়ে, না ভেবে আমি সঞ্চারীর সাথে
বোকাসোকা ব্রাত্য চাঁদে চলে যাচ্ছি, সেখানে পাথরের উপর
রান্না করতে করতে ভালোবাসতে বাসতে আমরা দেখব
দূরাগত পৃথিবীর জোছোনা, সন্তাপ স্রোতে ভাসমান ভারসাম্যহীন কবিতার ধুলোকণা ...
তারো পরে
"কবেই স্থগিতাদেশ হয়ে গেছে জারি
আহৃত ছিল যা কিছু ক্ষোভ আর রক্তক্ষরণ
সবকিছু প্রত্যার্পণ ... আর তুমি প্রতিপক্ষ নও
যুযুধান ভালোবাসা অবশেষে দেখো খুঁজে নিয়েছে
শ্রান্তির মুখ, বিলম্বে যা কিছু হয় তাই বুঝি ভালো
তোমার জন্য নতুন মহাদেশ, নদীটির ঢেউ জমকালো!"
মানহীন নামহীন
তারো পরে .... মধ্যরাত্রে স্নান করি
গহন শাওন মিশেছে অবশেষে ভাদরে, তবুও
ব্রাত্য তারারা যারা পায়নি রাতের আকাশ
কে নেবে বলো তাদের বুকে তুলে তোমারই মতো তমশামেশানো আদরে ...
অকস্মাৎ একদিন নিভে যেতে হবে বলে
অভ্যাসবশতঃ আমি তাই রোজ লিখে রাখি মৃত্যুর গান ...
মলিন চাদরে .. রেতদাগ .. রজনীর এ অবশ অলস যাম
নিরবধি শাওয়ারটি ঝিরিঝিরি ঝরিয়া পড়ে
তোমার জন্য আজ রাত জাগিয়াছি বহু, বহু রাত পরে
আমাকে আরো একবার সকরুণ সলাস্যে
তোমার পেলব ভিতরে যদি নাও
এই জীবনের প্রতি এখনো আমার এ লোভ
নাল ঝরে শিশুটির মতো
তবুও ধূর্ত কামুক আমি, তুমি জানো আশনাই যতো
রঙিন কপট কান্নারা মিছে রঙতুলি নিয়ে
শব্দের ভুলভাল স্তব করে গেছে বিজোড় মন্ত্রে আর ...
অথচ লহমারা এই রাত্রিকালে সহসা স্তব্ধবাক
ওষ্ঠ খোলো সঞ্চারী, এই জরা এই গোধুলি-শিশ্ন-হাহাকার
তোমার মসৃণ জিহ্বায় চেটে দেখ গ্লানস্ ...
দ্ব্যর্থক লবণের স্বাদ
তিতো হয়ে আছে আমাদের যতেক রমণ প্রমাদ ...
আমাদের হায়
আর কিছু নাই, না দুরূহ মিলন না সহজ বিসম্বাদ ...



ASIT KUMAR ROY 2 সপ্তাহ 23 ঘন্টা আগে
অন্তরের যত কথা সব ঝরে ঝরে পড়ছে
যেন টুপ টাপ করে ঝরছে ভোরের শিউলি।
যে কুড়িয়ে নেয় সেই পায় কিশোর কিশোরীবেলা
কিশোরের অনাহুত লাবন্যে মুগ্ধ উন্মুখ কিশোরী,
কিশোর ও যেন আনমনে কি ভাবে গোপন কথা।
-আমাকে আর একমুঠো ফুল কুড়িয়ে দেবে!
আমার যে হাত খালি মালা গাঁথতে হবে।
তুমি তোমার শক্ত হাতে গাছ ঝাড়া দেবে;
দাওনা, আমার দুহাত ভরে শিউলি দাও।
কিশোর মনে দোলা -একী আদেশ নাকি অনুরোধ।
যেন কোন দুরদ্বিপবাসিনির শব্দ স্বর
পাখীর ডানায় উড়ে উড়ে আসে
নিবিড় করে ছুঁয়ে থাকে সারা শরীর মন।
মন্ত্রমুগ্ধ কিশোর এই প্রথম প্রবল তাঁর শক্তিতে
ঝরিয়ে দেয় দুলিয়ে দেয় ফুলের নিরবতা।
ঝরে ঝরে পড়ে হাজার কবিতার মত শিউলি।
কি এক আবেগের বন্ধনে
ওরা ধরা দেয় দুজনে দুজনায়।
একে অন্যকে কৌতূহলে ছুঁয়ে দেখে
আহা কি রোমাঞ্চ ঘাসে ঘাসে প্রাণে প্রাণে।
ASIT KUMAR ROY 2 সপ্তাহ 22 ঘন্টা আগে
মনে পড়ে গেল কোন একদিনের কথা। ভাবলাম রাজার ডাকবাক্সে দিই পাঠিয়ে সময় পেলে কোন এক ফাল্গুনী রাতে হয়তো পড়বে বা নাও পড়তে পারে।
অন্তরের যত কথা সব ঝরে ঝরে পড়ছে, যেন টুপ টাপ করে ঝরছে ভোরের শিউলি। যে কুড়িয়ে নেয় সেই পায় কিশোর কিশোরীবেলা
কিশোরের অনাহুত লাবন্যে মুগ্ধ উন্মুখ কিশোরী, কিশোর ও যেন আনমনে কি ভাবে গোপন কথা। -আমাকে আর একমুঠো ফুল কুড়িয়ে দেবে! দেখছনা আমার যে হাত খালি মালা গাঁথতে হবে।
তুমি তোমার শক্ত হাতে গাছ ঝাড়া দেবে; দাওনা, আমার দুহাত ভরে শিউলি এনে দাও। কিশোর মনে দোলা লাগে -একী আদেশ নাকি অনুরোধ। যেন কোন এক দুরদ্বিপবাসিনির শব্দ স্বর বানী
পাখীর ডানায় উড়ে উড়ে আসে, ঋদ্ধ করে নিবিড় করে ছুঁয়ে থাকে সারা শরীর মন।
মন্ত্রমুগ্ধ কিশোর এই প্রথম প্রবল পরাক্রমী শক্তিতে ঝরিয়ে দেয় দুলিয়ে দেয় ফুলের যত নিরব চুপকথা। ঝরে ঝরে পড়ে হাজার কবিতার মত শিউলি। কি এক আবেগের বন্ধনে ওরা ধরা দেয় দুজনে দুজনায়। একে অন্যকে কৌতূহলে ছুঁয়ে দেখে, আহা কি রোমাঞ্চ ঘাসে ঘাসে প্রাণে প্রাণে। সব কথা যেন বলা হয়ে ও বলা হোল না। আবার হবে কোন এক চৈতি রাতের পূর্ণিমায় ধরা পড়বে সৌরভের সব রূপকথা।
শ্রীহরি গলগ্রহ 1 সপ্তাহ 6 দিন আগে
ভালো লাগলো এই এক্সপেরিমেন্ট।
নতুন মন্তব্য পাঠান