আতপ বলতে

একজন কবিতা-কুটুম্ব's picture
অনি

"দীর্ঘাঙ্গী আতপ" - sutanuti

 
আতপ বলতে রৌদ্র বা তাপের কথা মনে হয় না আর
আজকাল আতপ বলতে মনে হয় স্নিগ্ধার
একাকী রান্নাঘর, ধীরে ধীরে আতপ চাল ফুটছে
"অনি, আজ তুই খেয়েই যাবি"
আলতো ঠোঁটে পাহাড়প্রমাণ জোর এখনও স্নিগ্ধার
দীর্ঘাঙ্গী, বয়স চল্লিশ ছুঁইছুঁই
ব্রেকআপের মেঘের ছায়ার ভিতর থেকে আরো বেশি
অনেক বেশি সুন্দর লাগে স্নিগ্ধাকে
জীবনে কোনো কোনো সময়ে কথা নিষ্প্রয়োজন হয়ে যায়
পাপেরাও অপাপবিদ্ধ -
একেকটা এরকম দুপুরে সবচেয়ে সুস্বাদু হয়ে ওঠে
আতপচালের ভাত, চমৎকার কিছু সিদ্ধ, সাথে
অল্প একটু গাওয়া ঝর্না - বিষাদের চেয়ে সুস্বাদু,
কবিতার চেয়ে বেশি তৃপ্তিদায়ক, স্নিগ্ধার সাথে
আমার সম্পর্ক কি তাহলে স্নেহের শাসনের?
আমাদের কি বন্ধুতা ছিল? অথবা প্রেমের মতো কিছু?
অথবা এমন কিছু যা দৃঢ় অথচ খুব হালকা
আতরগন্ধের মতো এসে মিলিয়ে যাওয়া -
স্নিগ্ধার সাথে আজ একটা আতপচালের ভাত খাওয়ার দুপুর
মুছে দিচ্ছে প্রায় ষোলোটা বছর, ভাগ্যিস আমাদের কারোরই
প্রয়োজন হয়নি সম্পর্কের সংজ্ঞা, ভাগ্যিস
মানুষ ভাষা আর আস্ফালনের সাথে সাথে নীরবতাও শিখেছিল
নীরব আকাশে মাঝে মাঝে ঝিকিমিকি দু একটা তারা
দূর থেকে সহসা উজ্জ্বল আলো দিয়ে আবার
কী সুখের আতপবিহীন আঁধারে ডুবে যায় - -

ঝর্না's picture
খুব ভালো লাগলো পড়ে, অনি। আতপ

ঝর্না 2 সপ্তাহ 3 দিন আগে

খুব ভালো লাগলো পড়ে, অনি।
আতপ সিদ্ধ ও গাওয়া ঘি... সাথে যে চিত্রকল্প স্নিগ্ধার তা মুগ্ধ করলো।

"স্নিগ্ধার সাথে আজ একটা আতপচালের ভাত খাওয়ার দুপুর
মুছে দিচ্ছে প্রায় ষোলোটা বছর, ভাগ্যিস আমাদের কারোরই
প্রয়োজন হয়নি সম্পর্কের সংজ্ঞা, ভাগ্যিস..."

অদ্ভুত। ভীষন সুন্দর বললেন।

সেভ রাখলাম।

পড়তে পড়তে ইন্দুবালার সাথে রিলেট করলাম কোথাও।
যদিও সে এক অন্য গল্প।

অনি's picture
ইন্দুবালার গল্পটা বলুন

অনি 2 সপ্তাহ 3 দিন আগে

ইন্দুবালার গল্পটা বলুন

ঝর্না's picture
কল্লোল লাহিড়ীর লেখা

ঝর্না 2 সপ্তাহ 3 দিন আগে

কল্লোল লাহিড়ীর লেখা "ইন্দুবালার রান্নাঘর"। বইটা আমার কাছে আছে।
উনি যখন ব্লগে নিয়মিত লিখতেন, তখন পড়েছি, তবে বই আকারে একসাথে পুরোটা অদ্ভুত ভালো। পড়ে দেখবেন কখনো....
সেখানে আপনার কবিতার মত এমন কিছু মুহূর্ত আছে।
মুভিও হয়েছে এ গল্পের। তবে লেখা পড়ে যে ভালোলাগা তাকে স্ক্রিনে ধরা যায়নি।

অনি's picture
ঠিকই, বোধহয় ওয়েব সিরিস

অনি 2 সপ্তাহ 3 দিন আগে

ঠিকই, বোধহয় ওয়েব সিরিস হয়েছিল
পড়তে শুরু করলাম,

"তাদের মা কোথাও গিয়েছিলেন কিনা। অঞ্জলি দিয়েছে কিনা। তারা জানে তাদের মায়ের ধর্ম কর্ম সব ওই একটাই। ইন্দুবালা ভাতের হোটেল। ঠাকুরের আস্ত বাক্য। জীব প্রেম। আর খাওয়া ছাড়া প্রেম আসবে কী করে? অনেক রাতে ঘুমে এসে প্রতি বছরের মতো এই বছরেও ইন্দুবালা তার হিসেবের খাতা টেনে নেন। একটা সাদা পাতায় লাল কলিতে লেখেন ‘শুভ বিজয়া’।
সেটা যে কাকে লেখেন, কেন লেখেন আজ পর্যন্ত কেউ জানে না।"

"মনিরুলকে লুকিয়ে চিঠি লিখেছিলেন ইন্দুবালা। “জানিস মনিরুল সে যে কি ভীষণ ব্যথা তোকে না বলে বোঝাতে পারবো না। আমাদের সেই বাঁশ গাছে দোল খাওয়ার মতো। তুই নিশ্চই এতদিনে ঢাকায় পড়তে চলে গিয়েছিস? অনেক কিছু দেখা হয়ে গেছে তোর? অনেক নতুন বন্ধু হয়েছে? আমার কথা মনে পড়ে আর? বোসদের পুকুর, খানের ধানের লাঙল…। গাজনের মাঠ…। কপোতাক্ষের ঘাট আমি কিছু ভুলিনি মনিরুল। এখনও নাকি সন্ধ্যে হলে বিষাদসিন্ধু পড়িস? তুই কি এখনও রাতের আঁধারে বাঁশি বাজাস? পাঠানের আলোর পিচ্ছিল নকশীকাঁথার মাঠ? ঢাকাতে কি তোর দেখা হলো আমাদের প্রিয় কবি জসীমউদ্দীনের সাথে? আমার যে সব কথা… সব কিছু বড় জানতে ইচ্ছে করছে মনিরুল…. আমি যে তোকে…” এরপর আর লেখা এগোতে পারেননি ইন্দুবালা। তিনি মনিরুলকে কী ভালোবাসেন? পছন্দ করেন? একসাথে থাকতে চেয়েছিলেন? নিজের কাছে উত্তর গুলো স্পষ্ট নয়। যেমন ঠিক স্পষ্ট নয় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা আদৌও হয় কিনা। কিংবা ভালোবাসার অপর নাম শুধু শরীর কিনা।"

লেখার ফ্লেভারটা বুকের ভিতর অব্দি ছুঁয়ে যায়, থ্যাংক ইউ so much ফর শেয়ারিং

ঝর্না's picture
ঠিক বলেছেন। লেখার ফ্লেভারটাই

ঝর্না 2 সপ্তাহ 3 দিন আগে

ঠিক বলেছেন। লেখার ফ্লেভারটাই এমন যে ইন্দুবালা ও মনিরুল আমাদের খুব চেনা কেউ।
"ইন্দুবালা ভাতের হোটেল, কল্লোল লাহিড়ী।"
আপনাকেও সুক্রিয়া। স্নিগ্ধার সাথে পরিচয় হলো।

অনি's picture
একটা উপন্যাস লেখা অনেক কঠিন,

অনি 2 সপ্তাহ 3 দিন আগে

একটা উপন্যাস লেখা অনেক কঠিন, "ইন্দুবালা ভাতের হোটেল"-এর জন্য কল্লোল লাহিড়ীকে সেলুট

স্নিগ্ধা সেরকম কেউ নয়, তার নিজের কোনো হোটেল বা কোনো ব্যবসা নেই, নির্দিষ্ট কোনো সম্পর্কবিহীন সম্পর্ক এ পৃথিবীতে হয়তো অনেক আছে, আর নীরবতা তো নীরবতাই, তাকে না ধরা যায় কবিতায় না কোনো কিছুতে, একটা দুপুর বা রাত হয়তো দশ বছরে একবার ভেসে উঠল, তারপর আবার নিশ্চুপ, যোগাযোগবিহীন

আনন্দ, বিষাদ সবই একসময় কেমন যেন মূক হয়ে যায়

রুকু's picture
কবিতা, আলোচনা দুইই

রুকু 2 সপ্তাহ 3 দিন আগে

কবিতা, আলোচনা দুইই চিত্তাকর্ষক
একটা ইন্টারেস্টিং তথ্য পেলাম (বই-সংক্রান্ত) -

হোটেল প্যাকেজ (হার্ডকভার)
আদর্শ হিন্দু হোটেল, ইন্দুবালা ভাতের হোটেল ও আওলাদ মিয়ার ভাতের হোটেল - ৩টি উপন্যাসের কালেকশন

রকমারি অনলাইন বুকশপে পাওয়া যাচ্ছে, ইন্টারেস্টিং বলতে ঐ হোটেল প্যাকেজ নাম ও হোটেল প্যাকেজিংটা Smile

আদর্শ হিন্দু হোটেল - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
আওলাদ মিয়ার ভাতের হোটেল - নিয়াজ মেহেদী
ইন্দুবালা ভাতের হোটেল - কল্লোল লাহিড়ী

ঝর্না's picture
খুব সত্যি। এই সম্পর্কবিহীন

ঝর্না 2 সপ্তাহ 3 দিন আগে

খুব সত্যি।
এই সম্পর্কবিহীন সম্পর্কগুলোই জীবনের একটা অংশ জুড়ে থাকে।
মঞ্চে কিছুদিন আগেই লেখা হয়েছিল সম্পর্ক ও অসম্পর্কের মানুষের কথা। কবি রক্তিম ও কবি শ্রীহরির লেখাতে....
খুব ভালো লেগেছিল। আর সেটা পড়েই কিছুটা লিখেছিলাম, যা পরে শেষ করতে পারিনি।
---------
কারো কারো অসম্পর্কের কয়েকজন থাকে, কারো সম্পর্কের অনেকে। কখনও যখন খুব প্রয়োজন, সেই অসম্পর্কের মানুষের মধ্যে থেকেই একজন উঠে এসে হাত ধরে আপন জনের মতো। বুকের ভার নেমে সেই আলাপ হয় গাঢ়।

এইসব অসম্পর্কের মানুষদের কোনো নাম থাকে না। যখন খুশি, যেমন খুশি ডাকে তাদের সাড়া আসে দ্রুত। এদের পরিচিতিরও দরকার পড়ে না তেমন। চারপাশের অন্ধকার যখন দীর্ঘ হতে দীর্ঘতর, এদের এক ঝলক উপস্থিতি আলো এনে দেয়। এ যে সে আলো নয়, যেন গোটা মহল সেজে উঠেছে।

সম্পর্কের মানুষ থাকে ভিড় করে আশেপাশেই। আর যে মানুষ দূরে - অসম্পর্কের কেউ, সে মনে রাখে বেশ ক বছর পরেও। যেন মনে হয় অসুখ সেরে গেল। এইবার ভালো হয়ে উঠব।

ASIT KUMAR ROY's picture
সুন্দর পরিবেশন। কোথাও কোথাও

ASIT KUMAR ROY 2 সপ্তাহ 2 দিন আগে

সুন্দর পরিবেশন।

কোথাও কোথাও শব্দের প্রয়োজন হয়না
ঐযে নিমের ডালে পাখীরা
এক অন্যকে দেখছে খুঁটিয়ে।
যেন দৃষ্টি ছোঁওয়ায় সব কথা বলা শেষ।
উড়ে গেল ওরা।
মঞ্চে এলো হলুদ একটা পাখী।
সে কিন্ত বেশ সজাগ সশব্দে ঘোষণা করে
আমি এসেছি আমি এসে গেছি
সাথে এনেছি শৈশবের একটা ধূসর পাতা।
আজ তোমার বাড়ি তোমার বন্ধু আসবে।
তাইতো তোমায় জানাতে এসেছি
কুটুম এলো... কুটুম এলো...
আর দুমুঠো চাল হাঁড়িতে ফেলো।
বুকের ভিতর ঘুমিয়ে থাকা আবেগগুলো
হুরমুরিয়ে বেড়িয়ে আসতে চায়ছে কি আশ্চর্য।
অজান্তেই চোখের সামনে
ফেলে আসা জীবনের মন্তাজ।
সেই রাস্তা ঘাট বটের ঝুড়ি রতনের চা
দীপকের সেলুন, অর্জুনের টেলারিং দোকান।
দেদার আড্ডা লুকিয়ে বিড়ি
বাজি ধরে তাসের দেশে জয় পরাজয়।
আর টক ঝাল মিষ্টির মতন কিছু খুনসুটি।
প্রথম যৌবনের উপচে পড়া কৌতূহল
কে কার প্রেমে হাবুডুবু
কে সফল আর কে জখম।
কোয়েলের স্বরে ডোরবেল বেজে ওঠে কুহু কুহু
হয়তো সেই এসেছে
আমার ধূসর বিকেলে সাত সকালের রোদ্দুর হয়ে।

হিয়া 's picture
অসাধারণ

হিয়া 2 সপ্তাহ 2 দিন আগে

অসাধারণ লাগলো ! খুব খুব ভাল লাগলো !!!

শ্রীহরি গলগ্রহ's picture
অপরূপ মায়াময় লেখা।

শ্রীহরি গলগ্রহ 1 সপ্তাহ 6 দিন আগে

অপরূপ মায়াময় লেখা।



নতুন মন্তব্য পাঠান

  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <b> <font color> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <small>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • You may use [inline:xx] tags to display uploaded files or images inline.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.
  • You may use <swf file="song.mp3"> to display Flash files inline