এই বালুচরে বসে থাকাকে কবিতা বলে

‘এই বালুচরে বসে থাকাকে কবিতা বলে না।’ - সুতানুটি
এই বালুচরে বসে থাকাকে বরং কবিতা বলতে ইচ্ছা করে — কারণ এখানে বাতাস শব্দ শেখায়, আর নীরবতা ব্যাকরণ। ধম্ম-পথিকেরা নয়, কসমস্ স্বয়ং পড়ে আছে আদুরে গায়ে, ধরাছোঁয়ার ব্যবধানে। দেখি, নদীর ধার ঘেঁষে ভেসে আসে এমনসব বাক্য, যাদের অর্থ ঠিক ভাষার মাপে ফিট করাতে পারেনা স্নায়ুর দরজি। তারা কেবল মস্তিষ্কের এক গোপন কক্ষে ধাক্কা দিয়ে যায়, যেন কোনো অনাবিষ্কৃত অনুচ্ছেদের ব্রাউসারে বুলেটেড লিস্ট। বালির দানাগুলো এভাবে আঙুলে লেগে থাকে যেন অগণিত অসম্পূর্ণ তত্ত্ব — সরল, অথচ ব্রহ্মান্ডের আদিমগন্ধমাখা — যাদের মৃত্যুসম সহজ সমাধান নেই, আছে কেবল চক্ষুহীন তাকিয়ে থাকার আনন্দ-বেদনা ঊর্দ্ধ কোনো অনুভূতি। আমি বুঝি, এই বসে থাকা আসলে এক ধরনের চিন্তা-সংগ্রহ, যেখানে প্রতিটি ঢেউ ক্ষণিকের জন্য যুক্তির সব চিহ্ন মুছে দিয়ে নতুন করে বালুকায় ক্ষণিকমানচিত্র আঁকে। এখানে সময়ও যেন দালির তোবড়ানো ভাঙা ঘড়ির কাঁটার মত - নড়ছে, কিন্তু এগোচ্ছে না। তবু তার মধ্যে একটা নিরপেক্ষ শান্তি আছে, যা আমাকে শেখায় যে ভাবনা কখনো তাড়াহুড়ো করে জন্মায় না, ঠিক যেমন নদী কখনো তাড়াহুড়ো করে মোহনা খুঁজে পায় না। এই বালুচরে বসে থাকাকে আমি কবিতা বলি, কারণ এখানে প্রতিটা শ্বাসের ভেতর যুক্তি আর অনুভূতির যৌথ সহাবস্থান, কোনো তক্ক-তালাশ ছাড়াই — একটা দীর্ঘ একটানা গদ্যের মতো ছড়িয়ে পড়ে, আর আমি কেবল পাঠক হয়ে দেখি, আমার মস্তিষ্কের ভেতর সুর বদলে যায়, কিন্তু নীরবতা থেকে যায় তার অবিকল স্বরলিপি নিয়ে।



সৈয়দ মুনসিফ আলী 25 সপ্তাহ 4 দিন আগে
আমিও তাই বলব, সুন্দর লিখেছেন
J Ghosh 25 সপ্তাহ 4 দিন আগে
ভাল লাগল
Hiya _Raja 25 সপ্তাহ 3 দিন আগে
খুব ভালো লাগলো, খুবই !!
ঝর্না 24 সপ্তাহ 2 দিন আগে
অপূর্ব। খুব ভালো লেখা।
নতুন মন্তব্য পাঠান