ভ্রম-২
রবি, ২০২৫-০৯-২১ ১৪:৩৮ এই সৈকতে বাদুড় ওড়ে সন্ধ্যের কিছু আগে। এই নাবালভূমির গোধূলিকণায় হন্যে হয় ব-দ্বীপ। কিছু বিকেল ছিল আমার মোরাম-প্রদেশে। উড়োবায়ু খুঁড়ে নিয়ে আসতো সমাধিস্থ সিগারেটের অস্থি। সে বিকেলের স্খলিত আম্রপালি। একটি বৃক্ষের সাথে সাথে বাড়তে থাকে মানুষও, একই অংশুর প্রাচুর্যে। কখনো তার পিঙ্গল শাখাগুলি আশ্রয় দিলো বৃষ্টিতে। কেঁপে ওঠে ছাগশিশুর পাংশুটে হৃদয়। আর্দ্র পিঠে নেমে আসে পৃথুল জলকণা। এভাবে বৃষ্টিপাতও রোমহর্ষক হয়ে ওঠে। অথবা শিরশিরে এক প্লাবন বয়ে গেলো নাভির উপর দিয়ে। সে বিকেলের বায়োস্কোপ নেশা। সে বিকেলের শৈলোৎক্ষেপ চেতনা। সে বিকেলটি তোমায় সিঁড়ির একটি ধাপ উপহার দিলো। অথচ এই দ্বীপান্তরের জন্যে প্রস্তুত ছিলে না তুমি। কালাপানি যে কি প্রেমের অথবা এ তটিনী যে কি ভয়ঙ্কর রাতজাগা , জানতে না তুমি। অজানা এক মরুভূমি বুকে নিয়ে তুমি প্রবেশ করলে তোমার টিউবলাইটের প্রচ্ছায়ায়। যে পতঙ্গ চিনতো তোমায় অথবা তোমার ভ্রূকুটিতে যার ঘুম আস্ত বুকশেল্ফের নেপথ্যে, সে তোমাকে প্রশ্ন করে সম্ভাব্য রাতস্বপ্নগুলির। আর তুমিও , পৃথিবীর নির্জনতম তিমিটির মতো এক অজানা তরঙ্গদৈর্ঘ্যে মজেছিলে। কেউ চেনে না সেই তরঙ্গ, কেউ বোঝে না তোমার কথা। আর তুমি এই স্বগতোক্তিতে অভ্যস্ত হতে হতে খুঁজে নিলে এক অবগাহন-ঘুম। কেউ কেউ দেখেছিল তোমাকে। কোনো বরফ-পরিব্রাজক দেখেছিলো তোমায় অক্সিজেনে হামাগুড়ি দিতে। তারপর কেউ না। এই শীতপোশাকে স্থিতপ্রজ্ঞ হলে তুমি। আর বাদুড় ,সেই নাবালভূমি থেকে উড়তে উড়তে একবার ভুল করে চলে আসে তোমার কাছে। হয়তো তারও নিজস্ব তরঙ্গদৈর্ঘ্য না চিনতে পারার আক্ষেপে ক্রন্দসী মিশে যায় মহাসাগরে। এইভাবে দেখা হয় মানবীর সাথে, খুব অল্প সময়ের জন্য। প্লাটফর্মে ঢুকতে ঢুকতে ট্রেন চলে যায় সমবেগে সরলরেখা বরাবর।
- sutanuti-এর অন্যান্য কবিতাপাতা
- এই পাতাটির ক্লিকসংখ্যা 353





ASIT KUMAR ROY 37 সপ্তাহ 6 দিন আগে
সুন্দর শব্দের চেনা অচেনা গল্প।
m.c. 37 সপ্তাহ 6 দিন আগে
Fabulosa
বীথি 37 সপ্তাহ 6 দিন আগে
বরাবরের মতো অন্য স্বাদ নিয়ে এলেন সুতানুটিদা
রেবতী 37 সপ্তাহ 6 দিন আগে
তরঙ্গদৈর্ঘ্যের বৈচিত্র প্রতি লাইনে
মুগ্ধ করলেন
kalyan 37 সপ্তাহ 5 দিন আগে
দিব্য, শত অ্যাঙ্গেল থেকে পড়া ও ভাবা যায়
বনলতা 37 সপ্তাহ 2 দিন আগে
আপনার লেখা সবসময়ই আশ্চর্য নানা অনুভূতি ও ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়
নতুন মন্তব্য পাঠান