ভ্রম-১
বুধ, ২০২৫-০৯-১৭ ১১:১৩ ফাৎনা পেতে বসে বসে কেটে গেলো বেশ কিছু লহমা। কবিতা এলো না। ওই অন্তঃসলিলা নদীর অপেক্ষায় বসে থাকি ধূপ ছুঁয়ে। বিভূতি মাখা অপচয় হলো এই নৈর্ব্যক্তিক আলোর দিনে। শিহরিত হলো আমাদের তটিনীর গল্প শুনতে শুনতে কি জোয়ারে নিভে যায় প্রবীণ বাল্বগুলি। তখন ফাৎনা নড়ে ওঠে। যখন ঘুমের থেকে প্রিয় কোনো কিছুর জন্য মরার সাধ হয় না মাঝবয়সী তমিস্রায়। এই ভ্রমগুলি স্বপ্নে এলে বুঝতে পারি বাতাসের স্নেহ গঙ্গাফড়িঙের মতো স্রোতে বয়ে যায় কশেরুকায়। ভ্রম উপত্যকায় কলাপীর দন্ডায়মান একটি ছবি শিয়রে নিয়ে ঘুমোতে গেলেই আবার ব্লার হয়ে আসা চতুর্ভুজ রঙ পর্দার। শ্রোণী পাখনার অস্তিত্ব ফাৎনাকে টেনে যায় জলের গভীরে। অর্থাৎ, কবিতা আমাকে নিয়ে যায় তার স্বচ্ছতোয়া ঘর দেখাবে বলে। দেখি , সিলিং জুড়ে বেলুন , জানলাময় হরফের বন্দীত্ব। এই উদক প্রভাতে সাঁতরে হাজির হই খাসমহলে। যেখানে বাক্যললনারা শুয়ে থাকে সান্দ্র সোফায় মোহহীন। তাদের বিস্রস্ত কিঙ্কিণী কুড়িয়ে বেড়ায় কমা ও পূর্ণচ্ছেদের মতো রসভঙ্গেরা। কেউ ডাকে না আমায় যেখানে। কেউ আহ্বান জানায় না খাদ্যদ্রব্য জুড়িয়ে যাওয়ার বাৎসল্যে। শুধু ঘন্টার পর ঘন্টা বসে দেখতে থাকি এক একটি সর্গ। মিসিসিপির পানের পিক ও গাঙ্গেয় পলি জমে আমার গায়ে। চিমনি দিয়ে জলপৃষ্ঠে উঠে আসে এক একটি বুদ্বুদ। নির্মেদ হয় বাক্যললনারা। অথচ ফাৎনারা এখনো নিবিড়। শিরিষ গাছের শিকড় ছুঁয়ে বসে থাকি এই গোধূলির উপকণ্ঠে। যেন সারমেয় ডুবে গেলো আলকাত্রায়। অথবা কেউ কি রোদে শুকোতে দিয়েছিলো বিপরীতমুখী সাম্পান? যে গাছগুলি মনে পড়ে ,কিন্তু মনে পড়ে না পাতা ,যাদের মহাপ্রস্থানে শিহরিত হয় সরোবর ,সেই পাতাগুলি কেউ বুলিয়ে দিলো আমার কানে। এক মৃদু পার্থিব আতপ আমায় টেনে নিয়ে আসছে ফাৎনানগরী থেকে। এই উত্তাপে উড্ডীন হই মায়াছাদে, এই ঊর্মিতে কাটে খোয়ারি। ফিরে আসি অনুপ্রাস বাতাসের মহুয়া শিশি ফেলে তেতলার মেঝেতে। ফেলে আসি রুমাল জলযানের বুকপকেটে , যাতে ফুলেল পথগুলি চিনে নিতে সুবিধে হয়।
- sutanuti-এর অন্যান্য কবিতাপাতা
- এই পাতাটির ক্লিকসংখ্যা 274





m.c. 34 সপ্তাহ 2 দিন আগে
Fabulosa
ASIT KUMAR ROY 34 সপ্তাহ 2 দিন আগে
দারুন অকপট সুন্দর নিবেদন।
রেবতী 34 সপ্তাহ 2 দিন আগে
নতুন ধরণের ভাষ্য থাকে সবসময়, ভাবায়ও বটে
মধুছন্দা 32 সপ্তাহ 2 ঘন্টা আগে
ভিন্নপাঠ, ভাল লাগল
নতুন মন্তব্য পাঠান