অলিভ বাগান

সুকান্ত's picture
সুকান্ত রবি, ২০২৪-০২-১১ ১২:৪২

১৪৮।

এক রাতে ছাদে উঠেছিলাম আকাশ জোড়া তারা দেখতে
বদলে দেখা পেয়ে গেলাম জোছনার সাথে
অচেনা গলা প্রশ্ন করল, প্রেত আলো চেনো?
চোখের দিকে না তাকিয়েই জবাব দেবার ছলে
দেখে নিলাম হাত দুখানি মাখা রূপালি রঙ চকচক করছে
ভাঙা গলা দিয়ে বেরিয়ে এল অস্ফুটে আলোর প্রেত
ভাসলাম রূপালী তন্ত্রীতে
কালো আঁধারের ফাঁক দিয়ে চুঁইয়ে নামছিল ওরা -
কম্পন, নাকি নিঝুম সন্ধ্যে পেরিয়ে রাত নামলে এমন হয়?
ডুবে যাওয়া সূর্য মাখেনি সেদিন কুয়াশা
অভিমানে তাই ভর করে বলে যায়
এই রাত অনেক গভীর হবে, এই রাতে
আকাশের একদিক থেকে অন্যদিকে খসে পড়বে আলোর ফুলকি
সেই রাতে দেখবে রঙের চাহিদা হবে
এইবেলা যদি মেখে নাও রূপালি আভা
ঘন আঁধারেও, চোখে চোখ না রেখেও দেখবে চিনে নেওয়া যাবে
অস্ফুট মুখ আর প্রেত আলো –
ঠোঁটে চুমুক দিতে চাইবে কেউ,
জোছনার ভ্রম ভেবে সিঁড়ির ঘরের আলো জ্বালালে
দেখবে রূপালি রঙ ক্রমশঃ মুছে যাবে তোমার দুহাত থেকে ।

১৪৯।

ক্লান্তি নামে
বাতাসের সাথে লেগে থাকা জলকণা ঘরে ঢুকে
ভিজিয়ে দেয় না ঝোলানো ছবির অলিভ বাগান
চিঠি লিখতে ইচ্ছে করে
ইচ্ছে করে সেই নকশা কাটা ধূসর পাতায়
আঁকিবুকি করে ফুটিয়ে তুলি নরম পায়ের শব্দ
কিংবা গ্রীলের ওপাশে গল্প করতে আসা পশমের ওম
অথচ এতদিন বাতাস শুধু তোমার বারান্দাই পছন্দ করত
অযতনে সরিয়ে দিত সমুদ্রের আবরণ
কত সবুজ ঝুঁকে নিজেদের মধ্যে তর্ক করত
সমুদ্র কি সত্যিই সবকিছু ফিরিয়ে দেয়?

ক্লান্ত তখন
পায়ের জলের ছাপ, বালি না লেগে থাকা সৈকত চেনায়
এই পথে কেউ চিঠি নিয়ে যায় না, শুধু মুখোমুখি বসে
পাথরকুচির শক্ত পাতা মুড়িয়ে আনমনে আঁকিবুকি কাটে
নিঃস্ফলা বিকেল আর ডুবতে চাওয়া সূর্য

জলকণা মুছে দিই নরম কাপড়ে
দেখি অলিভ বাগানের ভিতর দিয়ে কে যেন হেঁটে আসছে
বুকে লেপ্টানো না লেখা চিঠিগুলি নিয়ে -

১৫০।

এত প্রশ্ন শেষে কি থাকে?
সেই তো শেষ ট্রেনে বাড়ি ফিরবে খালি জলের বোতল নিয়ে
এত রাতে কেউ আর জল ভরে না ফের,
তোয়ালে জড়ানো বোতল তোমার শরীরের সাথে
সারাদিন পাল্লা দিয়ে উষ্ণ হতে হতে একসময় শূন্য হয়েছে !

এত প্রশ্ন শেষে কি থাকে?
সেই তো জানালার উলটো দিকে বসে একাকী চিনতে চাইবে নিজেকে
শুধু সেই সামনের চোখজোড়ায় পারবে না যাচাই করে নিতে
একদিন এমন গভীর রাতের ট্রেন থেকেই নেমে গিয়েছিল
শেষ প্রশ্নের উত্তর না নিয়ে

এত জবাবের শেষে কি থাকে?
অমসৃণ কপাল দেখে বাড়িতে বলেছিল যত্ন নিস
চোখের উপরে চলে আসা চুল সরিয়ে দেবার আগেই ট্রেন থামে

সেদিনও এমনি দাঁড়িয়ে ছিল ট্রেন
ঠান্ডা ঘর থেকে ফেরার পথে
কাঁপতে থাকা আঙুলগুলি মাঝে মাঝে
নিজেদের চিনে নিতে চায় ফেরার রাত গভীর হলে -

তপেশ চট্টরাজ's picture
মন্ত্রমুগ্ধের মতো পড়তে হল

তপেশ চট্টরাজ 2 সপ্তাহ 5 দিন আগে

মন্ত্রমুগ্ধের মতো পড়তে হল সুকান্তদা, একবারও না থেমে
অধিক কি বলি, আরো কয়েকবার পড়ি

m.c.'s picture
Superb

m.c. 2 সপ্তাহ 5 দিন আগে

Superb

এনা's picture
অলিভ বাগান - দারুণ!

এনা 2 সপ্তাহ 5 দিন আগে

অলিভ বাগান - দারুণ!

বীথি's picture
অনেক, অনেক মুগ্ধতায় জড়ালেন

বীথি 2 সপ্তাহ 5 দিন আগে

অনেক, অনেক মুগ্ধতায় জড়ালেন সুকান্তদা

তপেশ চট্টরাজ's picture
বারবার পড়বার মতোই এর ফ্লেভার

তপেশ চট্টরাজ 2 সপ্তাহ 5 দিন আগে

বারবার পড়বার মতোই
এর ফ্লেভার আমি analyze করে নিবন্ধ লিখতে পারবনা, কিন্তু এই কবিতা ইউনিক, পাঠ অভিজ্ঞতাটা fantastic!

kalyan's picture
চমৎকার, চমৎকার

kalyan 2 সপ্তাহ 5 দিন আগে

চমৎকার, চমৎকার

la pata's picture
darun sukantavai

la pata 2 সপ্তাহ 5 দিন আগে

darun sukantavai

অনি's picture
অদ্ভুত ও মায়াবী

অনি 2 সপ্তাহ 5 দিন আগে

অদ্ভুত ও মায়াবী

পৃথা's picture
"ক্লান্তি নামে বাতাসের সাথে

পৃথা 2 সপ্তাহ 5 দিন আগে

"ক্লান্তি নামে
বাতাসের সাথে লেগে থাকা জলকণা ঘরে ঢুকে
ভিজিয়ে দেয় না ঝোলানো ছবির অলিভ বাগান
চিঠি লিখতে ইচ্ছে করে
ইচ্ছে করে সেই নকশা কাটা ধূসর পাতায়
আঁকিবুকি করে ফুটিয়ে তুলি নরম পায়ের শব্দ
কিংবা গ্রীলের ওপাশে গল্প করতে আসা পশমের ওম
অথচ এতদিন বাতাস শুধু তোমার বারান্দাই পছন্দ করত
অযতনে সরিয়ে দিত সমুদ্রের আবরণ
কত সবুজ ঝুঁকে নিজেদের মধ্যে তর্ক করত
সমুদ্র কি সত্যিই সবকিছু ফিরিয়ে দেয়?"

বড়সড় একটা ক্যোট করতেই হল
খুব নরম, খুব সুন্দর, বলতে গেলে বিশেষণ কম পড়ে যাবে
কী যেন এক আবেশে কবিতাগুলি জড়িয়ে রাখল, রাখবেও বহুক্ষণ বহুদিন

হলুদ's picture
অনবদ্য লাগল

হলুদ 2 সপ্তাহ 4 দিন আগে

অনবদ্য লাগল

সুবীর's picture
অলিভ বাগান

সুবীর 2 সপ্তাহ 4 দিন আগে

অলিভ বাগান মুগ্ধ করল

সুমি's picture
স্পেলবাউন্ড লাগছে !!!

সুমি 2 সপ্তাহ 4 দিন আগে

স্পেলবাউন্ড লাগছে !!!

jkc's picture
অসামান্য অলিভ বাগান!

jkc 1 সপ্তাহ 6 দিন আগে

অসামান্য অলিভ বাগান!



নতুন মন্তব্য পাঠান

  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <b> <font color> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <small>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • You may use [inline:xx] tags to display uploaded files or images inline.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.
  • You may use <swf file="song.mp3"> to display Flash files inline