প্রণয়ের দিনে এসো জলাধারে

পারিজাত রায়'s picture
পারিজাত রায় সোম, ২০২৪-০২-০৫ ১৫:৪১

আমি একদিন তোমার সমস্ত নিবাস খুঁজে নেবো
ছল ছল আঁধার জলে, যেখানে তোমার কোনো
কায়া নাই, তবু হাজার মাইল দীর্ঘ প্লাবন সরিয়ে
নক্ষত্র খচিত
তোমার নিরালা সেই প্রান্তিক কন্ঠ আমি স্পর্শ করে দেব
সেই জলের ছায়ায় !

যাবো আমি
শতাব্দী শিখরে, যেখানে তুমি নাই, তোমার করতলের
আলপনা অঙ্কন ছিলো একদিন পাথরের গায়ে,
এই জলাধারে বালুকা বারান্দায় তোমার আদ্র পদছাপ
আমার ব্যথিত ইতিহাস আর তোমার উচ্ছ্বাস গীতবিতান
পাতায় পাতায়
চাঁদের আলোতে অবাধ্য হয়ে তুমি ভিজেছিলে
জলদ ঝুমকোর ছল ছলে কথকতা নিয়ে, না হয় ধরেই নাও
আমাদের সেই সর্বস্ব বানানো
অলীক হ্রদের কিনারে, যেখানে এখন তুমি নাই,
তোমার জরির পাড় যেন এখনো তবু ঘুরে ঘুরে বালুদের
আদ্র কথা কয়, ঝিনুক শঙ্খ কণা কুড়োতে যায় বিষাদী গোধূলি বেলায়
যেখানে আমি হাঁটু গেঁথে বলি,
হে প্রণয়িনী ঈশ্বরী, তুমি যাবে যদি যাও।
তবে নাও তোমার বালুচরি পরিধান ভরে, এই গোধুলি রঙের বেলায়
এক জলধি রক্তিম গোলাপ আকার ভেবে
আমাদের নিজস্ব বানানো সেই অলীক জলাধার তুলে,
তোমারি জলের ছায়ার ...

অনি's picture
‘আদ্র কথা কয়, ঝিনুক শঙ্খ কণা

অনি 3 সপ্তাহ 3 দিন আগে

‘আদ্র কথা কয়, ঝিনুক শঙ্খ কণা কুড়োতে যায় বিষাদী গোধূলি বেলায়
যেখানে আমি হাঁটু গেঁথে বলি,
হে প্রণয়িনী ঈশ্বরী, তুমি যাবে যদি যাও।’

মন-প্রাণ ভরে এই কবিতার আনন্দ ও বিষাদ গ্রহণ করলাম

ঝর্না's picture
অনির সাথে সহমত... এমন কবিতার

ঝর্না 3 সপ্তাহ 3 দিন আগে

অনির সাথে সহমত...
এমন কবিতার কাছে আরো কিছুক্ষণ থাকা...আনন্দ...

পারিজাত রায়'s picture
"এমন কবিতার কাছে আরো কিছুক্ষণ থাকা...আনন্দ ও বিষাদ"

পারিজাত রায় 3 সপ্তাহ 3 দিন আগে

@অনি এবং ঝর্না

আগে আপনাদেরকে অশেষ ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
আমার অভিজ্ঞতায়, আনন্দ, বিদ্রোহ, তীব্র কষ্ট ইত্যাদি নিয়ে কিছু লেখা বিষাদী কবিতা লেখার চেয়ে তুলনামূলক ভাবে হয়তো কিছুটা সহজ। এখানে বলতেই হয় যে আমি বিষাদ এবং তীব্র কষ্টের ভেতরে কিছুটা বিভেদ অনুভব করি। আঙুল কেটে রক্ত ঝরলে কষ্ট হয়, বিষাদ হয়না, এই হচ্ছে আমার নিজস্ব অতি ব্যক্তিগত এক্সপ্লেনেশান।
অবশ্য আমার কাছে কোনোটাই লেখা সহজ নয়। বিষাদী কবিতা লেখাটাতো একটুও সহজ নয় (আমার কাছে)। এই মুক্তমঞ্চে চিরজীবন মনে রাখবার মতো বেশ কিছু বিষাদী কবিতা পড়েছি, প্রায় সবগুলোই কবিবর নির্জনের লেখা। আমি সেগুলোকে আমার একটা নিজস্ব ওয়ার্ড ডকুমেন্টে সেভ করে রেখেছি। বলা বাহুল্য, মাঝে মাঝে আমি সেগুলো পড়ি ...

সেখান থেকে আমি দু তিনটে কবিতার আংশিক উদ্ধৃতি দিচ্ছি এখানে ... এই কবিতাগুলোর কাছে কিছুক্ষণ নয় আমি চিরদিন থাকতে পারি ...

১)
ম্লান তন্বী আলোকরেখাতে ... "তুমি এলে?"
এলে! কত জনমের পরে! এখনও নগরে তেমনই রোশনাই, তেমনই
মানুষের বাহার অবতলে সমতলে, শুধু আমাদের বিমর্ষতার কাহন আর
খুঁজে পায়না তেমন কবিতা কলম, যেন সব কবি ঝরে গেছে
গেছে অনাদরে, ডেকে নিও তাহাদের তোমার নিক্কণতরে, তোমার
রেশম কাহিনী যত উদ্দাম হোক, আভরণহীন চিরযুবা সেইসব পঙক্তির
থরে থরে ... পরজনমে হয়তো আবার এমনই দীপাবলি, এমনই নিহত সুখের
আতশবাজিতে প্রোজ্জ্বলিত সেই অলকচূর্ণমাখা মুখমন্ডল, হয়তো
আলতো স্পর্শের ছলে গভীর অশ্রুর রাতজাগা ঢল ...(দিয়া, যদি এই হয় শেষ দীপাবলি, নির্জন)

২)
কার পানে হেঁটে যাও বলো, রাতের শতেক শিশির শুকিয়েছে
কালো পিচে, অপিচ, সত্যরা অন্ধ এই দিবালোকে, ঝাপসা সলতের আলো
তাদের কি তুমি দেবে না আজও ...?
কি বলো, এই লীন নীল গ্রহ ছাড়া
প্রদীপ আর জ্বলেনি কোথাও কখনও? যতসব উল্কার দেশ
দুর্নিবার নক্ষত্রের বুক ঘষে জেগে ওঠা সামুদ্রিক লবণ আবেশ ...
সবই মনগড়া তুমি বলো? (দিয়া তুমি শিশিরকে ডাকো - নির্জন)

৩)
কিছুই থাকেনা জানো, ধরে থাকা হাত, ছেড়ে দেওয়া হাত ....
মেঘ থেকে মেঘে চলে যায় যে রোদ্দুর
তাকে যদি গ্লানি নাম দাও, তাকে যদি বলো তাক লাগা
অবাক নুপূর ...
বরষা যেমন আসে, চলে যায়, পুনরায় আবারো ঝমঝম নামে
স্মৃতি থেকে স্মৃতিতে শুধু ভেসে যাবে বলে এই যে মনন আর মন
নবতনু পায়, তুমি বলো ... আর সে জনম
আমি বলি আমার সে পাওয়া মৃত্যুর পরম স্নেহ ও যতন
মাথার ভিতরে যে লাব-ডুব নিরন্তর বেজে চলে, ধরো যদি
থেমে যায়, তোমায় ভুলি আমি অথবা তুমিও আমায়
চিরচেনা মুখ আবারও ধরে এই দুই হাতের পাতায়
যদি না-ই চিনি .... (ক্ষীরাই ৩ - নির্জন)

৪)
একদিন মিশে গেলে শিকড়ে শিকড়ে, মৃত্তিকাময়
এই দেহ-রসে আবারও শতেক পুষ্প আসিবে, আদিগন্ত বর্ণমেলা আর
রঙিন উচ্ছ্বাস মাঝারে তুমিও আবার পুষ্পকুমারী হবে
কি কথা কবে?
চিরন্তন ‘ভালোবাসি’ খুব ক্লিশে হলে,
আবারো এ রিদয় স্তব্ধ করে প্রৌঢ় দেহটি ভাসিয়ে দিও
কংসাবতী নীরে, তার পাশে ক্ষীরাই তেমনই রবে
তোমার অরূপ রূপসমারোহে, কামনার বৃন্ত থেকে নবীন পাপড়িরা
পুনরায় দুঃসহ ঝলমলে হবে ..........(ক্ষীরাই প্রার্থনা - নির্জন)
-----------------------------------------------

এই কবিতাংশ গুলোকে কপি পেস্ট করতে গিয়ে আবার পড়তে হল, ফের চোখ ভারি হয়ে এলো, মন ধূসর অবশ্যই! আমাদের কিবির নির্জনকে আজকাল তেমনটা দেখিনা মঞ্চে। কি করছেন, কেমন আছেন, জানিনা। আমার মনেহয় উনি দুই বাংলার আধুনিক কবিতার একজন শ্রেষ্ঠতম কবি, দুঃখ কেবল উনি প্রিন্ট বা অন্য কোনো মিডিয়াতে কিছুই প্রকাশ করেন না, তাই হয়তো আজকালের কবিতা পাঠক পাঠিকারা অনেকেই ওনার নাগাল পেলেন না ... কিজানি।

স্যরি, আবার ফিরতে হল নির্জনের কবিতায়। এগুলো পড়লে আমার ঠিক কেমন লাগে সেটাকে বর্ণনা করাতে আমি অক্ষম।

ওনার এক নাম্বার কবিতাংশটার প্রথম ছত্রটা দেখুন,

"ম্লান তন্বী আলোকরেখাতে ... "তুমি এলে?"
এই যে একটা মাত্র ছত্র, একটা মাত্র প্রশ্ন, এটাতে আমি সত্যি সত্যি কোথায় কোথায় হারিয়ে যাই, ... ..., আমি ওনার কবিতা সাধারণত গভীর রাতে পড়ি, জানালার বাইরে একাকী নির্জন একাকী রাত নির্জন , আবাসিক এলাকাটা নিঝুম, স্ট্রীট সোলার পাওয়ার্ড ল্যাম্পটা মিটি মিটি জ্বলে নেভে, সেটার শীর্ণ আলো পাইনের ডালের ভেতর দিয়ে জানালায় কাঁচে মৃদু রিংটোন বাজাচ্ছে, ..., তখন পড়ছি, ""ম্লান তন্বী আলোকরেখাতে ... "তুমি এলে?"

মনে দ্বিধা ... বিশ্বাস অবিশ্বাসের স্কেলের মাঝামাঝি কি কোনো কিছু আছে? কেউ কি এলো? ...............

শম্পা রায়'s picture
অপূর্বসুন্দর কবিতাটি

শম্পা রায় 3 সপ্তাহ 3 দিন আগে

অপূর্বসুন্দর কবিতাটি

সুমন্ত রাহা's picture
কবিতাটির শিরোনাম খুব নাড়া

সুমন্ত রাহা 3 সপ্তাহ 3 দিন আগে

কবিতাটির শিরোনাম খুব নাড়া দিয়ে গেল

সুমন্ত রাহা's picture
তারপরে বলি, এটির মাধুর্য,

সুমন্ত রাহা 3 সপ্তাহ 3 দিন আগে

তারপরে বলি, এটির মাধুর্য, আপাত ও অন্তর্নিহিত, ভারি চমৎকার

পারিজাত রায়'s picture
"এটির মাধুর্য, আপাত ও অন্তর্নিহিত, ভারি চমৎকার" ... @সুমন্ত রাহা

পারিজাত রায় 3 সপ্তাহ 2 দিন আগে

অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
লিখেছেন, "এটির মাধুর্য, আপাত ও অন্তর্নিহিত, ভারি চমৎকার" !

এটি মানে কোনটি? ধরে নিলাম আমার লেখাটা। তাহলে অন্য সব কবিতাংশ গুলো? আমি কিন্তু অনেক অনেক কিছু আশা করেছিলাম। ঢাকা শহরে শোনা একটা প্রবাদ মনে এলো, "কোথায় আগর তলা, আর কোথায় চকির তলা"।

la pata's picture
darun parijatvai

la pata 2 সপ্তাহ 5 দিন আগে

darun parijatvai

তপেশ চট্টরাজ's picture
আমার ব্যথিত ইতিহাস

তপেশ চট্টরাজ 2 সপ্তাহ 5 দিন আগে


আমার ব্যথিত ইতিহাস আর তোমার উচ্ছ্বাস গীতবিতান
পাতায় পাতায়
চাঁদের আলোতে অবাধ্য হয়ে তুমি ভিজেছিলে
জলদ ঝুমকোর ছল ছলে কথকতা নিয়ে, না হয় ধরেই নাও
আমাদের সেই সর্বস্ব বানানো
অলীক হ্রদের কিনারে, যেখানে এখন তুমি নাই,
তোমার জরির পাড় যেন এখনো তবু ঘুরে ঘুরে বালুদের
আদ্র কথা কয়, ঝিনুক শঙ্খ কণা কুড়োতে যায় বিষাদী গোধূলি বেলায়
যেখানে আমি হাঁটু গেঁথে বলি,
হে প্রণয়িনী ঈশ্বরী, তুমি যাবে যদি যাও।

অসামান্য রোমান্টিক আবেদন, মুগ্ধ করলেন কবি

তপেশ চট্টরাজ's picture
যাবো আমি শতাব্দী শিখরে

তপেশ চট্টরাজ 2 সপ্তাহ 5 দিন আগে


যাবো আমি
শতাব্দী শিখরে, যেখানে তুমি নাই, তোমার করতলের
আলপনা অঙ্কন ছিলো একদিন পাথরের গায়ে,
এই জলাধারে বালুকা বারান্দায় তোমার আদ্র পদছাপ

Transcendental যেন, আপনাকে সেলুট জানাই

পৃথা's picture
পারিজাত, খুব সম্ভবতঃ

পৃথা 2 সপ্তাহ 5 দিন আগে

পারিজাত, খুব সম্ভবতঃ অপূর্বতম কিছু পড়লাম



নতুন মন্তব্য পাঠান

  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <b> <font color> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <small>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • You may use [inline:xx] tags to display uploaded files or images inline.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.
  • You may use <swf file="song.mp3"> to display Flash files inline