দুপুরে খাওয়ার পর তার বিশ্রামের সময়। দিনে ঘুমানোর অভ্যেস তার কোনোকালেই নেই। তিনি তার ইজিচেয়ারটায় শব্দছক নিয়ে বসেন, টুকটুক করে বাংলা ইংরেজি কাগজের শব্দছক দুটো সমাধানের চেষ্টা করেন। অধিকাংশ দিনই সে দুটোই সম্পন্ন করেন, ভাল লাগে, বেশ একটা তৃপ্তি লাগে। আজও সেটা নিয়ে বসলেন। কিন্তু বেশিদূর এগোতে পারলেন না। আসলে মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে আছে। মন বসাতে পারছেন না। হঠাৎ ফোনটা একবার কেঁপে উঠে টুংটুং করে উঠলো। একটা হোয়াটসআপ মেসেজ এসেছে। তুলে দেখলেন শশীকলা, মানে তার আধা আমেরিকান নাতনি, সংক্ষেপে শশী, ইংরেজি নাম স্যাস !
লিখেছে, "মাই ডিয়ার বয়ফেন্ড, তোমাকে অনেক দিন আগে আমি একটা ফেসবুক রিকোয়েস্ট পাঠিয়েছিলাম, সেটা কেন একসেপ্ট করছো না। আমি আমার সমস্ত বন্ধুদের বলেছি যে আমার গ্র্যান্ডপা ম্যাথেমেটিক্স জায়ান্ট, "জন সেড্রিক গ্রিফিথস অ্যাওয়ার্ড" রেসিপিয়েন্ট, আর কেউ সেটা বিশ্বাস করছেনা। প্লিজ ইমিডিয়েট একসেপ্ট করো !"
মৃদু হাসলেন আলোকরঞ্জন, হ্যাঁ এদেশে অঙ্কশাস্ত্রে অবদানের ওপরে বিশ্বস্বীকৃত এই অ্যাওয়ার্ডের কথা আর মূল্য কটা লোকই বা জানে। যখন সেটা পেয়েছিলেন তখন ছিল সাধনার যুগ, সততার যুগ, হুল্লোড়ের যুগ নয়, সস্তা পাবলিসিটির যুগ নয়। কার কত ফলোয়ার, কে ব্যস্ত রাস্তায় টেবিল পেতে বসে সভ্য দেশের নিয়মকানুনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে মদ খেয়ে কত মিলিয়ন লাইক পাচ্ছে বা দিনের মধ্যে কে কতবার অন্তর্বাস বদলানোর সেলফি দিয়ে, বোতল দিয়ে গোপনাঙ্গ ঢেকে ছবি চেপে ফলোয়ারের সংখ্যা বাড়াচ্ছে সেই অন্তঃসারশূন্যতার যুগ ছিলনা সেটা। মফস্বল শহরে বসে তার এই নিরলস সাধনার স্বীকৃতির খবরটা বেরিয়েছিল দেশের কয়েকটা কাগজে। আর অভিনন্দন এসেছিল দেশের ও বিদেশের অতি বিদগ্ধ ব্যক্তিত্বদের থেকে, দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। তিনি নিজেও সেটা ফলাও করে কখনো বলেন নি, তবু খবরের কাগজ দেখে শহরের শিক্ষিত সমাজ তাকে সম্বর্ধনা দিয়েছিল। আর অন্তরঙ্গ মহলে দু চারজন তার স্বীকৃতির গর্বে গর্বী বা গরবিনী হয়েছিল। বাবা, মা, আর অন্নপূর্ণা ! মেডেল নিয়ে বিদেশ থেকে ফেরার রাতে সেটা অন্নপূর্ণার গলায় পরালে সুন্দরী মেয়েটা নাকের পাটা ফুলিয়ে বলেছিলো, "তোমার গরবে গরবিনী হাম--!"
মনে পড়তে নিজের মনেই একটু হাসেন আলোকরঞ্জন। শশীকলার মুখের কিছুটা মিল আছে অন্নপূর্ণার মুখের সাথে। খুব ছোটবেলায় কলকাতায় এলে শশীকলা যখন অভিমান হলে রাগ করে ঘাড় ঘুরিয়ে বসতো, অন্নপূর্ণা হেসে ফেলত, বলতো "এইটুকু পুঁচকের রাগ দেখো, আবার আমার মতো ঘাড় ঘুরিয়ে বসা হয়েছে, হু ! তেঁতুরি !" আসলে নিজেকেও অন্নপূর্ণা তেঁতুরি বলতো আড়ালে, সেটা কেবল আলোকরঞ্জন জানেন।
আলোকরঞ্জনের হৃদয়ের গুরুভার সামান্য হলেও একটু কমলো এই সব ভাবতে ভাবতে। তিনি উত্তর দিলেন, "হ্যাঁ, তোমার বয়ফ্রেন্ড একটু বুড়ো হয়েছে তো, তাই একটু স্লো হয়ে গেছে, বাট উইল ডু ইট ইন দি নেক্সট এভেইলেবলে চান্স !" নাতনি গতবারে কলেজ আন্ডারগ্রাজুয়েট প্রোগ্রাম জয়েন করেছে, প্রিয় সাবজেক্ট অঙ্ক ! ব্যাঙ্গালোরে ছোটোছেলের দুই ছেলে, বড়োটাও এবারে হাইস্কুল জয়েনও করবে, সেটাও অংকে তুখোড় ! বংশগতি ! আলোকরঞ্জন সামান্য হলেও বুকে গভীরে একটু সুখ অনুভব করলেন। ছোটো ছেলেটার ক্লাস সেভেন। সেটা এখন থেকেই খুব গম্ভীরবাবা, দেখে বোঝা যায় বড় হলে আলোকরঞ্জনের মতোই চেহারা হবে, শালপ্রাংশু মহাভুজ ! অন্নপূর্ণা আলোকরঞ্জনকে মাঝে মাঝে "শালপ্রাংশু মহাভুজ” বলতো। আলোকরঞ্জন যৌবনে বেশ সুপুরুষ ছিলেন, এখন বয়স হলেও সেটা বোঝা যায়।
আলোকরঞ্জন ইজিচেয়ারটা ছেড়ে উঠলেন, ভাবলেন গদাইকে ডাকেন, তারপর সেটা না করে নিজেই টেবিলের কাছে গিয়ে কম্পিউটারটা খুললেন। বহুদিন ফেসবুকটা খোলা হয়না, প্রায় মাস ছয়েক তো বটেই। তিনি এসব সোশ্যাল মিডিয়ায় খুব একটা থাকেন না। ভাবলেন ফেসবুকটা খুলবেন, কিন্তু কম্পিউটারটা খুলতেই গুগলে গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের ওপরে একটা ইন্টারেস্টিং আর্টিকেল দেখে পড়তে শুরু করলেন, তারপর এই সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক খবরের মধ্যে ডুবে গেলেন।
স্ট্যাটিস্টিক্স বলছে এভাবে মানুষ সৃষ্ট অপরিমিত দূষণ চলতে থাকলে আর মাত্র বছর পঞ্চাশের মধ্যে পৃথিবী এক মহা দুর্যোগের সম্মুখীন হতে পারে। চরম গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের ফলস্বরূপ বায়ুমন্ডলের গড় তাপমান দু থেকে তিন ডিগ্রি বেড়ে যেতে পারে এবং তাতে আর্কটিক বরফের পুরু চাদর গলে জল হয়ে সমুদ্রে মিশে জলতল বেড়ে যেতে পারে, সমুদ্রের তাপমাত্রার হেরফের হতে পারে, তাতে সমুদ্রে থাকা কার্বন ডাই অক্সাইড বেরিয়ে এসে বায়ুমণ্ডলের তাপমান বিপদজনক ভাবে হেরফের হতে পারে, পৃথিবীর উপকূলবর্তী বহু শহর সমুদ্রের তলায় চলে যাবে, ভূমিক্ষয়, সাইক্লোন, এসিড রেইন, কোনো কোনো অঞ্চলে খরা, কোনো অঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত, সমুদ্র স্রোতের দিক পরিবর্তন, জলতল স্ফীতি থেকে সমস্ত ইকোলজিক্যাল ব্যালান্স বিপর্যস্ত হয়ে পৃথিবীতে দুর্ভিক্ষ, মহামারী, হতে পারে । বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইড, মনো অক্সাইড, মিথেন আরো নানারকম বিষাক্ত গ্যাস বেড়ে আমাদের সাধের সভ্যতাকে কয়েক দশকের মধ্যে খতম করে দিতে পারে।
দেশে দেশে বৈজ্ঞানিকরা, পরিবেশবিদরা গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে গেল গেল রব তুলেছেন। কিন্তু কে কার কথা শোনে। তথাকথিত দেশ নায়ক, রাষ্ট্রনায়করা, বড় বড় বিজনেস কংগ্লোমারেটগুলো নিজেদের সংকীর্ণ সাময়িক স্বার্থে অন্ধ, লোভে বধির হয়ে ক্রমাগত বিষিয়ে তুলছে পৃথিবীকে, জল, জমি বাতাসকে। সুইডিশ পার্লামেন্টের বাইরে ধর্ণা দেওয়া একটা বাচ্চা মেয়ে যে কথা বোঝে, এতগুলো পাকামাথা বুড়ো ধাড়ি সে কথা বুঝেও বোঝেনা। হায় কবি, ঠিকই চিনেছিলে এদের, "দাও ফিরে সে অরণ্য, লও এ নগর, লও যত লৌহ লোষ্ট্র কাষ্ঠ ও প্রস্তর, হে নবসভ্যতা ! হে নিষ্ঠুর সর্বগ্রাসী !"
আর্টিকেলের শেষে কমেন্টসগুলো পড়ছিলেন, দেশে বিদেশে অনেকে নিজের মতামত জানিয়েছে, কেউ ভদ্রভাবে, কেউ চাঁচাছোলা ভাষায়, কেউ বা উগ্র বিদ্রুপে ঘৃণা উগরে দিয়েছে সেই সব মাথামোটা অপরিণামদর্শী বালখিল্য অপরিণত মস্তিস্ক রাষ্ট্রনায়ক আর মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলোর ওপর। হঠাৎ একটা কমেন্টে এসে চোখ আটকে গেলো। এ কয় কি ! সাজিয়ে গুছিয়ে যা লিখেছে তার মর্মার্থ এই যে এই সুন্দর পৃথিবীটা কারো বাপের সম্পত্তি নয় যে তারা সেটাকে ইচ্ছে মতো নোংরা করবে, জঞ্জালে ভরবে, আর তার ফল ভুগতে হবে সমস্ত প্রানিকুলকে, সেই অপোগন্ড মূর্খদের ভণ্ডামি আর বোকামির মূল্য চোকাতে হবে আগামী প্রজন্মের মানুষ আর তাবৎ জীবজগৎকে প্রাণ দিয়ে ! যথেষ্ট হয়েছে আবেদন নিবেদন আর কাকুতি মিনতি, এবার এই মাথামোটাদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণার সময় হয়েছে ! না, সে যুদ্ধ কোনো রকম হিংসাশ্রয়ী সশস্ত্র, রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ নয়, কারণ তা কেবল এই ধ্বংস যজ্ঞে আরো ইন্ধন জোগানো হবে। সে যুদ্ধ অন্য রকম যুদ্ধ ! অত্যন্ত সিস্টেমেটিক ভাবে, ধাপে ধাপে কমেন্টকারী তার যুদ্ধের সব স্টেপগুলো বর্ণনা করেছে।
তার মতে, অনেক পন্থার মধ্যে ইন্ডিয়ার দেখানো পথ হলো শ্রেষ্ঠ পথগুলোর একটা। যেমন সত্যাগ্রহ আর অসহযোগ। এখন কমুনিকেশনের যুগ, শহরে গ্রামে নগরে প্রান্তরে আবালবৃদ্ধ বনিতাকে দিকে দিকে জানাও এই বিষময় দূষণের ফল কি হয়েছে এবং অদূর ভবিষ্যতে কি হতে পারে। জনচেতনা জাগ্রত করো। আন্দোলন করো যেন সমস্ত পণ্যে বাধ্যতামূলক ভাবে লেখা থাকে সেটা তৈরি করতে কতখানি বিষ ঢালতে হয়েছে প্রস্তুতকারীকে এবং তাতে কি কি ক্ষতি হয়েছে পরিবেশের। বয়কট করো সে সমস্ত পণ্য আর পণ্য প্রস্তুতকারীকে যারা সেই তথ্য লুকোবে, দেবেনা বা ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে। যেখানে প্রকৃতিকে ধ্বংস করে, প্রাকৃতিক সম্পদকে নির্বিচারে লুঠ করে মানুষের লোভ তার নিষ্ঠুর রথ চালানোর চেষ্টা করবে, সেখানে তৈরি করো হাজার হাজার, লক্ষ মানুষের মানব শৃঙ্খল।
হাতে হাত ধরে প্রতিজ্ঞা কর, যতক্ষন দেহে একবিন্দু রক্ত থাকবে, জঙ্গল তো দূরস্থান, একটি গাছের প্রাণও আহুতি দেব না, পুকুর, হ্রদ বা নদী বোঁজাতে দেবোনা, নির্বিচারে প্রাণীহত্যা হতে দেব না। উদাহরণ দিয়েছে ইন্ডিয়ান চিপকো আন্দোলনের। আজ থেকে পঞ্চাশ বছর আগে যদি গাড়োয়ালের তথাকথিত নিরক্ষর আদিবাসী মহিলারা শুধুমাত্র ইচ্ছেশক্তি দিয়ে, স্রেফ মনের জোরে জঙ্গলের গাছগুলিকে জড়িয়ে ধরে গাছ কাটতে না দিয়ে, নিরস্ত্র যুদ্ধে, একফোঁটা রক্তক্ষয় না করে একটা গোটা রাষ্ট্রশক্তির বিরুদ্ধে গিয়ে জয় ছিনিয়ে আনতে পারে, তাহলে, আজ এতো বছর পরে যখন গোটা বিশ্বের কমুনিকেশন ব্যবস্থা এতো উন্নত, দেশে দেশে জনচেতনা এতো জাগ্রত, তখন কি আমরা শুধু এই সব সোশ্যাল সাইটে কমেন্ট লিখেই আমাদের দায়িত্ব সারব ?
কমেন্টের শেষে দিয়েছে তার মেইল আইডি আর যোগাযোগের বন্দোবস্ত। বলেছে বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে প্রাকৃতিক পরিমণ্ডলের ওপর মানুষের পরিকল্পিত ধ্বংসলীলার খবর যেন যতখানি আগে সম্ভব তাদের দেওয়া হয়, তাদের সংস্থা সাধ্যমতো চেষ্টা করবে তা রুখতে। এও বলেছে যে, তাদের বিশ্বাস, জনগণই তাদের শক্তি, তাই তাদের সাংগঠনিক শক্তিকে যেন কেউ খাটো করে না দেখে। কোনো রাজনৈতিক দল বা সংকীর্ণ স্বার্থের বশবর্তী না হয়ে তারা তলে তলে অনেক সংঘবদ্ধ। পৃথিবীর নানা দেশে অসংখ্য সচেতন প্রকৃতিপ্রেমিক তাদের সভ্য। তারা কোনো নিরর্থক শোম্যানশিপে বিশ্বাস করেনা, তাই সভা সমিতি করে প্রচারের চাইতে তারা কাজ করে দেখাতেই বেশি আগ্রহী।
গোটাটা পড়ার পর আলোকরঞ্জনের বিশ্বাস হলোনা এই রকম কোনো সংস্থা আছে বা থাকলেও তারা এই মফস্বলে একটা সামান্য পার্ক বা বটগাছ কাটা বন্ধ করার ব্যাপারে উৎসাহী হবে। কমেন্টবক্সে গিয়ে কমেন্টকারীর নাম দেখলেন, স্যান্ডি , ছেলে বা মেয়ে কিছু বোঝা গেলোনা। তবে দেখলেন লাইকের সংখ্যা ইতিমধ্যে প্রায় হাজার চল্লিশ।
আজ খুব সকালেই ঘুম ভেঙে গেছে আলোকরঞ্জনের ! গদাইয়েরও বয়স হয়েছে, আলোকরঞ্জন ভাবলেন, রাত্রে বেডরুমের পর্দা পুরো টেনে দিতে ভুলে গিয়েছিল, তিনি নিজেও খেয়াল করেন নি। সকালে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে ঘুম গেছে তার। সকালের প্রথম রোদ্দুরে ঘর ধুয়ে যাচ্ছে। এখনো গদাই ওঠেনি, মালতি তো আসবে সেই নটা নাগাদ। আলোকরঞ্জনের চা তেষ্টা পেয়েছে, রান্নাঘরের দিকে চললেন তিনি। চা নিয়ে যখন বারান্দায় বসলেন তখন আওয়াজে গদাই উঠে পড়েছে। ধমক দিয়ে বললো, আলোকরঞ্জন কেন তাকে ডেকে তোলেন নি। আলোকরঞ্জন মৃদু হাসলেন, গদাইয়ের ধমক তিনি আজকাল খুব এনজয় করেন। কেউ একজন তো আছে যার আলোকরঞ্জনের ওপর এতো অধিকার ! গদাই জানে কি করতে হবে এরপর, ঘর থেকে সিগারেট আর লাইটারটা এনে রাখলো টেবিলের ওপর, গজগজ করে বললো, ডাক্তার বলেছে গোটা দিনে পাঁচটার বেশি না, আর আলোকরঞ্জন পঞ্চাশটা সিগারেট টানছেন ! কি ভাবেন তিনি, দেখার কেউ নেই ? তারপর আরো গজগজ করতে করতে বাংলা আর ইংরেজি সংবাদপত্র দুটো সামনের টেবিলে ধপ ধপ করে ফেললো। চশমাটা পাঞ্জাবির কোন দিয়ে একটু পুঁছে নিয়ে বাংলা পেপারটা খুললেন আলোকরঞ্জন, আর খুলেই স্তম্ভিত হয়ে গেলেন।

