ফিরিয়ে নাও ফুল
এই মত্ত ঢালাইমেশিন যে'রকম
উগরায় ক্লিংকার

শ্রমঘন দুপুরের পাশে
এসে বসে মৃদু
বিকেলবেলার হাওয়া

চূর্ণ হীরক আর
ঘাসের জঙ্গল থেকে
অনাবৃষ্টির ছাট আসে

উদ্ধত বাবেলের চুড়া
থেকে দেখা যায় —
অধঃপতনের দিকে সামান্য
এগিয়ে এসেছে ফুল

| অপুষ্পক ৪
_________________

|

নিরাময়। আজ অন্য কোন শুশ্রূষার দিকে
এত টেনে নিচ্ছ বকুল, তার উগ্রগন্ধ সহ।
নাকি ফুলেরও লাম্পট্য থাকে? শুনে একা-একা
হেসে ওঠে পান্থপাদপ। আজ শ্যামাসুন্দরীর দিকে
সাঁইসাঁই এত ছুটে যাচ্ছে পিম্পল!
যেন জৈব-মিসাইল উড়ে এসে রক্তাক্ত
করে তুলেছে আমাদের আজকের
এই প্রেক্ষাপট। আজ ক্ষয়ার্ত বকুলের
আভা নিয়ে জ্বলে ওঠ তুমি শ্যামাঙ্গসুন্দর —
দ্যাখো, রক্তপিম্পল ধিকিধিকি ফুটে আছে
কার ত্বকে!

| বকুল
#আন্দালীব

সাভানা, শীত ২০২৪

তাপমান নেমে আসে শীতাতপে
অধরা এ বছর ছিল বর্ষাকালীন ওম
নিঃসঙ্গ বসে আছি হালুম আর সিংহের বনে
আলোকচিত্র শুধু? তাও স্নায়ু আছে টানটান
মানুষই একমাত্র এমন জানে নয়নে নয়ন স্নান
ছয় চিত্রী, অনুপঙ্খে তাদের উলম্ব জিরাফ
শাক্ত কুমির, চিতাহ্, হা হা মাসাইমারা
মনে পড়ে অদ্য দুপুর ... না হওয়া এজাকুলেট
ফিরে গেছে রক্তে নেড়ে কড়া, আহা
আজ সহসা সে এত আদর পটিয়সী অথচ
ঝড়ে দেশ নড়ে, অধুনা এমনই,
আমার বৈকল্য তবুও কী হরফবিহীন ক্লীব অনড়

হরফবিহীন মানে আমাদের কণ্ঠ তো জমা পড়ে গেছে
অচেতন সোশালে, ডামাডোলে, এই অকুস্থলে
খারাপ যদি বা সরোষে বলি, বলি কয়টা চমৎকার?

দেখ এখনই উদ্বোধন হবে ভিন্ন আলোকচিত্রমেলা
এখানে কিছু নেই তবে? সপাট প্রতিকবিতারা?
সুতরাং ... আমার বিমর্ষতা আমাকেই করে অবহেলা
দেখে পিঙ্গল বাদামি জাঙ্গল সাফারি
আসলে কেউ কিছু দেখেনা,
মনে পড়ে বিংশবর্ষীয়া শেরনী এক, ভাসানো দুপুর
সেনসুয়াস বসন্তজাগ্রত ওপেন ক্যানোপি ...
অসমর্পিত ... ক্ষুদ্র সে অরণ্য ত্রিভুজ

আমরা যদি মেশিন ল্যাংগুয়েজটা শিখে নিতে পারি
তাহলে সূর্যাস্তের মুখে পাখির বিষণ্ণতাকে ডিকোড করতে পারবো
আয়েশা বলেছিল, অতঃপর হেঁটে যেতে থাকি
বরফসঙ্কুল এক বাগানের দিকে, সেখানে বিজাকুব ফলের আধিক্য
সম আলোচনা নেই, শুধু মুগ্ধ নয়নের ঝাঁক গগনবিদারী ওহ্
দ্রাঘিমা ছুঁয়ে টেমোটিড পাখির ফ্লক সহসা চলে আসে
আকাশের টানেলে, আয়েশার বি এফ, স্বচ্ছ হ্যান্ডস্ক্রিনে হেসে বলে
এ. আই! আমি তো সামান্য মসৃণতার দাস, আয়েশার!
নিজের রক্তে শুঁকে দেখি কিভাবে তিব্বতী ঝাড়লণ্ঠন দুলে ওঠে
সহস্য আপেল আর আঙুরের রঙে হেসে ওঠে দশ অঙ্গুলি তার
সুরেলা কুন্তলে সে নিজস্ব নখর চালিয়ে বলে, হে লাবণ্যবান
যা কিছু ডিকোড করি, দেখি ভিতরে ভিতরে আসলে বোরিংসমান! Sad

শোন , কোথাও যেও না যেন সুগার বেড়েছে
ফলগুলো খেও,
সব কিছু রাখা আছে ওষুধ সরঞ্জাম
সেদিনের পাঞ্জাবী দেরাজে রয়েছে পরিপাটি
চার পাঁচ সেট, বলা আছে সব
খুব ভোরে চিরতা ভেজানো,ডাইনিং ঘরে আর যা যা
রুটিন মাফিক, চা - দুধ, চিনি ছাড়া'

দেবে কে ,
আমি তো রয়েছি ------'

মোতিকে বলেছি আটা রুটি জলে ফেলে গরম গরম
সব্জির সাথে , ওহ্ প্রাণায়াম মনে পরে গেল
ভূড়ি যা বেড়েছে, সিটাপ পঁচিশ বার খাটে বসে
গুণে গুণে সারাদিন দশ গ্লাস জল,খালি পেটে
ঠিক পাঁচটা ত্রিশে মনে রেখ,
রৌদ্রে যেও না বেড়ে যাবে হার্টবিট, বিকেলে বেড়িও

যতই দূরত্বে যাও , তোমারই যে আমি

কেন এত চাপ নাও বল

কিছুটা সময় আমাকেও দিও
ধূসর মেঘ আকাশ ছড়ালে জানো মন্দ্রিত তুমি সেই
ছন্দের শ্লোক গুলো ঘন নি:শ্বাসে
আমার প্রত্যঙ্গে খেলা করে , বৃষ্টি আঁকে নিভৃত কোলাজ
মূর্ত হয় পুনর্বার জন্মান্তর ক্ষণ ! ফেলে গেছ ভুলে যা যা
জীবন্ত ভীষণ ,ওড়নায় ঝড় এসে ঘোমটা পরালে
দাপাদাপি বুকের ভেতর ,সবটাই জানো
শৈশবের খেলাগুলো মূর্ত ভীষণ ডাকে এই জৈবিক বেলা !

সেই ঋণ ফেরত এসেছে দেবে না স্বীকৃতি ,
সে কি শুধু খেলাঘর, ভেঙেছে বজ্রাঘাত কোন শর্ত
পারে না কি দিতে প্রতিকার ?

সত্য বল এককণা এর কিছু ঝাঁঝরা করে না
দু চোখ ঢাকো না আজও
নি:শব্দ কম্পনে ! ধোঁয়াশায় মিশে গেছে সব
অন্য কারো বিদগ্ধ বাগানে, সত্য বল
সে নির্য্যাস পাও কি সেখানে ---------- ?

কিছুটা তরঙ্গ থাকে কিছুকাল উজ্জীবিত হয়ে
ধরে নাও বাঁক নিয়ে এদিকে এসেছে
পুরানো বিষাদ কেন পারোনা
ভাসাতে
উর্ধমুখী ফেনিল জোয়ারে
বারংবার খোলাটি ভরিয়ে এ উদ্যম রেখে দেব
আমাদের ঝিঁনুক বেলায়

বিন্দু বিসর্গ ফেলে দাও মহাক্ষণ থেকে
গভীর ধূলায় ঢেকে গেছে সম্ভাষণ , আজও প্রদূষণ
চতুর্দিক ছেয়েছে কালোয়
আর বলো পালাবে কোথায় , দিকশূণ্যে ফের
দাক্ষিন্যের বরমাল্য পরাবো এইবার।

। অরণ্য আর আমরা।

মোবাইল সিগন্যালটা চার থেকে তিন.. দুই.. এক..
নো নেটওয়ার্ক,
আশেপাশে ঘন হয়ে আসা গাছেদের সারি ইশারায় বুঝিয়ে দিলো,
বাইরের সাথে আর যোগাযোগ করা যাবে না,
এটা আমাদের এলাকা।
উশকোখুশকো অরণ্য অন্যমনস্ক ভাবে বলে
উঠলো,
‘ চেনা চেনা লাগছে। বলি আসার পথে
বৃষ্টিকে কোথাও দেখেছো?
বলেছিলো আসবে, এখনো পৌঁছালো না,
খুব চিন্তায় আছি।

আমাদের গাড়িতে এসি , বাইরের রুক্ষ প্রকৃতি, গাছেদের আধাখ্যাপা বিনা-স্নান রূপ
ভেতরের থেকে ভারী সেলফি-যোগ্য মনে হয়,
অরণ্য তাই সেরকম পাত্তা পেলো না।
ঈষৎ বিরক্তিতে বলে উঠি , আলাপটা পরে হবে,
ঘরগুলোতে শীতাতপনিয়ন্ত্রণ আশা করি ঠিক আছে,
এখানে কারেন্ট যায় কিনা জানা দরকার।
আর হ্যাঁ, কোনখানে গেলে একটু টাওয়ার পাবো,
বলতে পারো?

অরণ্য বিষণ্ণ মুখে ঘুরে দেখে ইঁটকাঠে গাঁথা আধুনিক ইমারতগুলোকে,
কান পেতে শোনে জেনারেটরের ঘটরঘটর আওয়াজ,
উঁকি মেরে দেখে লাঞ্চের বড় টেবিলগুলোর চারদিকে বসা মানুষের ক্যালরম্যালর,
তারপর , আমাদের দিকে একটুও না তাকিয়ে
ইতস্তত ছড়িয়ে থাকা বাগানের যত্নে বেড়ে ওঠা
বেচারি শাল নিম সেগুন চারাগাছগুলোর দিকে তাকিয়ে
বিরক্তমুখে বলে,
চলি রে, গোটা এলাকায় এটুকুই শুধু আমার নয়।

আমরা কোথাও এক চিলতে টাওয়ার পেয়ে হইহই করে বলতে থাকি
‘হ্যালো হ্যালো, হ্যাঁ পৌঁছেছি, জায়গাটা ভালোই বুঝলে,
কিন্তু নেটওয়ার্ক…’

হঠাৎই বৃষ্টি আসে। আকাশ ভেঙে বাজ-বিদ্যুৎ সহকারে উপুরঝুপুর বৃষ্টি,
মোবাইল আসার আগে যে বৃষ্টি এলে বন্ধ ছাতায় চুপচুপে হয়ে বাড়ি ফিরতাম,
সে কতকালের কথা, মনে হয় একজন্ম আগে ।
এখন দৌড়ে দাঁড়াই বাংলোর বারান্দায়,
নিরাপদ শুকনো থেকে দেখি
বৃষ্টির ফোঁটাগুলো ঝমর ঝমর করে কথা বলছে সামনে জঙ্গল অবধি বিছিয়ে থাকা হ্রদের সঙ্গে,
আর তার ওইইপাশে একটা ছোট্ট মেয়ের মতো ঝাঁপিয়ে পড়েছে অরণ্যের সবুজ কোলে।

গুরুগুরু মেঘের গর্জন ,
বাংলোর নকল টালির ওপর টাপুরটুপুর
হঠাৎই একসাথে ডেকে ওঠা হাজার ব্যাঙের
ঘ্যাঙর ঘ্যাং-এর উল্লাসের আওয়াজ ছাপিয়ে
আমরা পরিষ্কার শুনতে পাই,
অরণ্য তার গাছেদের মাথা ঝাঁকিয়ে স্নেহ গলায় ঢেলে বলেই চলেছে
‘ এদ্দিনে এলি মা! ‘

আমাদের মন থেকে শহর খসে পড়ে ।
সেলফি তুলবে বলে কেউ নড়ে না।

আর্যতীর্থ

তেমন স্টেশন এলে আর ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করে না
অসংযমী নাম হলেও মনে হয়
গেড়ে বসি।
আকাশের দিকে চাইতে চাইতে দৃষ্টিও
ধূসর হয়। ঝাপসা...
জল-অল্পতায় ভোগা রগচটা মেঘের মত
রাগী ট্রেন চলে যেতে চায়, মানুষ আটকে থাকে
টুকরো দৃশ্যে
টুকরো টুকরো ব্যবধানে। তারকাঁটার ছকবাজিতে
দু দন্ডের আত্মীয়তা ভারী পড়ে
এক জীবনের গল্পে।
শুকনো চোখে বৃষ্টি তবুও আসে কই?
আলটপকা ছেঁড়া কথাদের গন্ধে
ম ম করে দো পহরি আশকারা
বোকা আয়না, রূপকথা বলে ওঠে আচমকা
ছুঁড়ে ছুঁড়ে দেয় অমৃত পল হরিলুঠের বাতাসার মত।

যারা ফাঁকি দেয়,
যারা ভালোবেসে ফাঁকি দেয়
তারা মিথ্যে গোনে, যেন তাসের পাতা।
হরতন, রুইতন, চিড়িতন, ইস্কাপন
রানী আর রাজায় মারামারি হয়
জোকার ফিরে যায় দূর বিদেশে পালতোলা জাহাজে
দু হাতে কবুতর স্মৃতি আর খোলা চুলের গন্ধ নিয়ে
ঢেউ এসে চুমু খায়,
দিগন্তে সূর্যরাগ, দিগন্তে আদরের রং
দিগন্তে সমভিব্যহারের স্বপ্ন আর গুনগুন গান

বৃষ্টি আসবো আসবো করেও আসে না আর
হাঁপিয়ে ওঠা শহরের বুকে ছাই ওড়ে
কারা যেন এসেও চলে যায়
সমান্তরাল পথে।
সেই সব গল্পরা দোল খায় এদিকে বা ওদিকে
যাদের ক্লাইম্যাক্স পূর্ব নির্ধারিত।
ট্রেনের হুইসল বেজে ওঠে।
ব্যাটারি বদলে জেগে ওঠে বন্ধ হওয়া দেয়াল ঘড়ি।
তবু
তেমন স্টেশন এলে আর ছেড়ে যেতে ইচ্ছে করে না।
কিন্তু যেতে হয়।
স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম নিজেই হেঁকে বলে

অনেক হয়েছে। এবার এসো...

নষ্ট কিছু পচে যাওয়া আকাঙ্ক্ষার শবদেহে শব্দের সৎকার
সমস্ত বৃক্ষের গায় অন্ধ কবি হেলেন অফ ট্রয় - বিষণ্ণ রোজের মৈথুন
নিজে নিজে ভেঙে পরে সভ্যতার সমস্ত মহাকাব্য - ভাঙি - অসম্ভব
এই মাটি, জল, এই বিস্তীর্ণ দীনতার, বিমুখ শবের ঘ্রান, নারী, অহংকার
হেলমেট ভেদ করে - ঘিলুর প্রদর্শনী - বালি শুষে নেয় সব বিমুখ চিৎকার !
ট্রয় ভেঙে ভেঙে পড়ে, নিশ্চুপ কেঠো হয়বাবু - মৃদু হেসে পাশ ফিরে শোয় !

শিরস্ত্রাণ ফুঁড়ে বস্ত্রহীন রূপসী চন্দ্রালোক ভালোবাসা খোঁজে
দীনহীন অন্ধ কবি ইলিয়াড গাবে - - মানুষকে মানুষ দেখেছে
বিবস্ত্র চাঁদের আলোয় - সুতরাং মাটি ফুঁড়ে রক্তের সাথে কিছু শব্দের নাচ
রক্ত শেষের কথা বলে ক্লান্ত হলে - শিরোস্ত্রাণে - রক্তের ঘ্রান
ধুয়ে যায় - অন্ধকার - অন্ধকার ফুঁড়ে - জেগে ওঠে মহাকাব্যের গাথা
মৃত কবির মুখ, ছিঁড়ে খায়, চতুর জম্বুক, কিন্তু ফ্যাকাশে বাতাসে কথা ওড়ে !

সমস্ত শব্দ চরাচরে শোষিত নিশ্চল, নতজানু হত একিলিস হেসে নেয় -
উদ্ধত কাঠের পেটে ষড়যন্ত্র, চাঁদ অস্তাচলে গেলে- হত্যার প্রহরে
ডিফারেন্সিয়াল না মেলা সমীকরণের তালে ঊর্ধমুখ উন্মুখ শিয়াল ফুকরে,
এখানে রক্ত রক্ত আঁকে জ্যামিতির বিষণ্ণ ফলায়, বিবর্ণ রাতের বেলায়
অসামান্য তৃষ্ণার গোপন গহ্বর থেকে সভ্যতার এভিনিউয়ে - বর্মগুলি ছেড়ে সহজ ত্রিকোণমিতি
দোতলা ত্রিভুজের ইউক্লিডিয়ান বাহু ছেড়ে ধরে নেয় অন্য চতুর্বর্গ ঘনতল, হাত পেতে -

অঙ্কে অংক মেলে কিনা - এর উত্তর কেউ কখনো রাখেনি ওডিসিতে !

চূর্ণ চকিত গান যত; তারা জানে
ধাতু নিগ্রহ, জানে হাপরের ছল
...’

শুক্রবার ২৩, শোনো ডায়ারি, এই জীবন আজকাল চূড়ান্ত নিষ্প্রভ লাগে। কোন কপর্দকের বিনিময়ে ঔজ্জ্বল্য ও বৈচিত্র ফিরে আসতে পারে? অনঙ্গ দেহ? পুনরায় শিশুর বিস্ময় থেকে যাত্রাশুরু করে আবার শেষ সুখদ যন্ত্রণার সিসিফাস অবতারে? জানো, কিড আজ বলছিল, ষষ্ঠশ্রেণীতে ধাত্রী আবার ফিরে এসেছে। বললাম, তো কি। ‘আবার শ্রেয়া ওর সাথে ভিড়ে যাবে, আমার সাথে কথা বলার টাইম-ই পাবেনা।’ হে প্রিয়তম কিড, সম্পর্করা পরিবর্তনশীল। এই কসমস যেমন। কবিতার মতো। তাহলে কি এইচআইভি আর কর্কট বোথ? আচ্ছা, টেস্টের প্যাকেজ কত? টাকাটা ব্যাপার না, মন ভাল করা রিপোর্ট দেবেন আপনারা? সঙ্গীতা বলছিল, তুমি মিউচুয়াল ফান্ড বোঝো? না শুধু মিউচুয়াল ৬৯ বুঝি, শুধু ব্রথেল বুঝি, বুঝি এ শহর আমার না, এই ছন্দ, এই না-ছন্দ, এই কোবতে কোনো কিছু আমার না, বুঝি প্রকৃতকবিরা একদিন হয় কচ্ছ না গুজরাট কি যেন না হয় মাসাইমারা চলে যায় অথবা ফের ঢুকে পড়ে সংসারের অবরূদ্ধ সার্কিটে। ওর সুইসাইড অ্যাটেম্পটের কাহানীগুলো শুনলাম। একটি সূর্যগ্রহণের দিনে আমিও তো নিজের ধমনীশিরায় ধীরে ধীরে গেথে দিচ্ছিলাম, মরফিয়া! সাহসী ছিলাম তখন, এখন ক্লিষ্ট ক্লিন্ন ইন্দুর। হে শাহেনশা, হে ক্যারট, ক্যাটস্ কুমস্, কার সাথে কি কি করেছিলাম? মননকে রেতসুখে নিঙরে দিতে দিতে ... এ কি এসটিআই? আরো ভয়ংকর কিছু? কালো মৃত্যুঅশ্বের হ্রেষা শুনতে পাই। হে সঞ্চারিনী, অসংখ্য ড্রাগনফ্রুটের বাগানে রোদ্দুর ভেদ করতে পারছেনা তোমার সানস্ক্রিন। দীঘল পায়ের আর তনুবিভঙ্গের সেইসব পশ্চার হিল্লোল কেন বিগত? উফফ, এ মোনোক্রোম থেকে মুক্তি কোথায়? এক প্রেম থেকে আরেক প্রেম, যা কিনা আদতেই প্রেম নয়, মৃত্যু শোনাতে থাকে তার মীড় আর সপ্রানো, এই জীবনতরঙ্গের মধ্যে আছাড়িপিছাড়ি না খেলে তুমি বা তোমরা বুঝবেনা আমার ওয়েভলেন্থ। কোনো কিছুর আশা জাস্ট জিরো পারসেন্ট করে দেওয়ার নাম জীবন, নাম মরণ! সঙ্গীতা যে রিলে তোমার, পোস্ট করলাম বেভুলা কমেন্ট, সে কোন বেনোজলে ভেসে গেল ... ‘हर रिश्ते का नाम हो जरूरी नहीं। कुछ बेनाम रिश्ते भी रुकी हुई जिंदगी को साँस देते हैं ...’

 

ফিরে আসি, এ শহরের পাকদন্ডী বেয়ে যে আলো তার অকিঞ্চিতে ...
জানো, তমসার ঢাকা খুলে সঙ্গীতা দেখালো যে কুহেলী পর্বত, ইশারার
নজরানা নিয়ে বয়ে চলা নদী, অনেক আবান্তর শস্য যেখানে মানুষের
বুকে ঘুমিয়েছে, নিভন্ত প্রতিজ্ঞারা বলে দিয়ে গেছে আসলেই
অধরা কোনো সম্পর্কের মানে, মানে নেই তবুও ক্ষয়ে যাই ত্রয়ী
আর আমি, যে ত্রয়ী চেনেনা একে অপরকে, অথচ আমরা
ছিলাম
অনেক নক্ষত্র আগে অচেনা গোলাপের গ্রহে চেনা হাত
ছুঁয়ে, চেনা কামনারা, চেনা নিষ্কাম, ধুলোর ঐরাবতেরা ভাঙে গড়ে
নিজেদের, দুর্বোধ্য সানাই কেন লিখে রাখে অযথা প্রলাপ
শাওনে শাওনে পল অনুপল ধারায় ধারায়, ফিরে আসি কার কাছে?
পায়ে পায়ে মৃত ছন্দ, মৃত কবিতার সৌন্দর্যময় স্তূপ, অনন্ত
পতঙ্গজীবন নিয়ে নিজেরই শবাধারে বয়ে চলি এইআমিউজবুক ...
বিগত স্পৃহার পাশে মুহ্যমান পঙক্তিরা অশক্ত অথর্ব ভাঙা আজ
মনে পড়ে ক্যাটস্ কুমস্ ক্যারট সে যৌথ জীবনযৌবনপ্রহর
সব স্বর্ণালী একদিন শুধু শেডস্ অফ গ্রে, সব মেয়ে আর ছেলেরা
একদিন বুঝে যায় আসলেই নিষ্ফল সব কোহল আর কোলাহল
কারা যেন ওরা ছিল? ভার্যা, বান্ধবী, তৃতীয়া আহা সে ত্রিশূল
বিদ্ধ করে রেখেছে এই জিহ্বা, এই কণ্ঠ, এই পরাহত লাশ, যত অঙ্গীকার
মিথ্যে জেনে উদ্বায়ী মৃত্যুতে সফল হব এবার? না যাবো কারো
ঘরে, কারো বাতায়নে আর, কবিতা বুঝিনি কোনোদিন হে নারীরা
বুঝিনি কবিতা কোন সে সম্পর্কের দাহ্য সারাৎসার ...

 
কপিরাইটবিহীন অসম্পূর্ণ খসড়া, চূড়ান্ত ব্যক্তিগত

কিংখাবে রাখ প্রেম। বিরহ তোমার।
আজ রণক্ষেত্রের দিকে উড়ে যায়
চূর্ণ চকিত গান যত; তারা জানে
ধাতু নিগ্রহ, জানে হাপরের ছল
কতটা ধরে রাখে যুযুৎসা আমার।
যদি হননের রাত আসে, যদি ক্রূর হাসে
আকরিকের ফলা; তবে স্থানু হও,
নতজানু হও। বৃশ্চিকসূর্যের নিচে
আজও কারা গান গায় এমন পেগান?

_হাওয়ালেখঃ ১০

___________

ওঠো আজ, অনাবিষ্কারে চল।
স্তূপাকার পড়ে আছে যেখানে
জংধরা জাহাজের শব। উদগার শেষে
ফিরে আসা যুদ্ধাস্ত্রের গায়ে লেগে আছে
আজও বহু যুদ্ধের তাপ, বহু
স্খলনের চিহ্ন। আর যত ওই
ধাতব আকাশ, যতটা আলকালির সমুদ্র
তুমি লিখে রাখো খাতায়, চিরকূটে;
সেই সব মুছে যাবে। স্ফুলিঙ্গ রবে শুধু,
অগ্নিকুণ্ড রবে। যত কামারশালার গান,
হাপরের শব্দ চিরকাল রয়ে যাবে
হৃদয়ে আমার।

_হাওয়ালেখঃ ৯
#আন্দালীব

অদ্ভুত এ বিষাদে

বহুদিন কবিতা লিখি না !
খাপছাড়া পংক্তি ছুঁয়ে দেখি না ,
কোথায় কিভাবে শুকিয়ে গেছে টলটলে দীঘি !
উদ্বাস্তুর মতো মেঘেরা কোনদিকে হারিয়ে গেছে !
আজকাল শুধু ছন্নছাড়া হয়ে ঘুরে বেড়াই !
সঙ্গহীন মুহূর্তগুলো যেন সেতারের ছেঁড়া তার ,
সুর তোলে না !
অথচ এরই মধ্যে নিয়ত বৃষ্টি ঝরে চলেছে !
নূপুরের মতো বৃষ্টির ফোঁটা ছুঁয়ে দিচ্ছে
শুকনো জমি !
ব্যাঙ আর রাজহাঁসের দল দখল করেছে পুকুর !
রোজকার সকালে স্বর্ণচাঁপা ফুটে ওঠে ,
গন্ধে ভাসিয়ে দেয় ভেতরে লুকিয়ে রাখা তোমাকে !
এসব ভেবেও বহুদিন কবিতা লিখতে পারিনি বলে ,
গলায় পরায়নি কেউ গৌরবের মালা !
অপাপবিদ্ধ জীবনে এই ব্যর্থতা ছুঁয়ে ছুঁয়ে ,
গাঢ় হয়েছে রাত !
আর আমি কর্কশ চিৎকারে বারবার বলে উঠেছি ,
হে ঈশ্বর , তোমাকে আমি চাই না !
হে ঈশ্বর , ভালোবাসার ঊর্ধ্বে তুমি কোথাও নেই !
হে ঈশ্বর , ভাতের থেকে বড়ো হয়ে ওঠোনি তুমি !

বিশ্বাস করুন , বার বার বুঝেছি ,
মানবিক স্বরলিপি কেড়ে নিয়েছে সময় তার নিজস্ব খেয়ালে !
বারবার বুঝেছি ,
বিষাদের জোলো জমিতে ঈশ্বর কখনো নামেন না !
রুটির যুদ্ধে হাঁসফাঁস করতে থাকা মানুষের জন্য ,
ঈশ্বর কোনদিন বাড়ান না তার হাত !

হেইগং .. মণিপুর .. 22/06/2024