। বসন্ত-প্রলাপ।

বসন্তে হসন্ত দিয়ে ,
ধমকে আমায় বলে বয়েস-পেয়াদা,
রঙবাজি ছাড়। কলপ সরালে সব চুলগুলি সাদা,
হাঁটু জুড়ে ক্যাঁচকোচ,
ওষুধে যাচ্ছে চলে রোজগার আধা,
তবু মন গদগদ প্রেমে!
কটাদিন পরে ফটোফ্রেমে হবি গাধা!

আমি বলি,
বয়েস রে তুই খানিক বসে নে জিরিয়ে ,
পাশ দিয়ে যায় স্মৃতির ঝোরা
দ্যাখ না কেমন তিরতিরিয়ে,
কৈশোরে সেই পাশের বাড়ি,
শ্রীপঞ্চমীর হলুদ শাড়ি
হোক না যতই সাদা দাড়ি, কিভাবে তা দিই ফিরিয়ে,
বৃদ্ধতে প্রেম নাস্তি হলে, শাস্তি ভারী বিচ্ছিরি এ।

ঘড়িটাকে মেপে নিয়ে,
বয়েস-পেয়াদা বলে ওরে বাবা থাম ,
স্মৃতিদের করা যায় মাফ,
সবই খোলা হলদেটে খাম,
বাজে কথা রাখ।
এক্ষুণি নিতে পারি সেই নাম,
স্মৃতি নয়, যে ঘটমান । বলবো কি, বল বুড়ো ভাম!

চেঁচিয়ে বলি,
খাইসে মাথা, প্রেস্টিজে কি গ্যামাক্সিনই,
নে না ধরে ,
আজ-খরচে ভাবীকালের স্মৃতিই কিনি,
বাইফোকালে রাধার নয়ন
করেই যদি সে সম্মোহন,
ভ্রু কুঁচকিয়ে করবো বারণ, হবে না তা কোনোদিনই,
কঙ্কাবতীর দিন গিয়েছে, প্রেম করে না কলঙ্কিনী।

বয়েস ভেংচি কাটে,
বলে আছে মোট ঋতু ছয়খানা,
রহস্য বল দেখি,
একখানাতেই কেন প্রেমের ঠিকানা?
ফুলেরা কারণ নয়,
বাকি সব ঋতুতেও কুঁড়ি ফোটে নানা,
তবে কেন তোরা সব বাকি পাঁচে হোস রঙকানা?

বুঝবি না তুই,
হেসে বলি, এই যে আয়ু জন্ম থেকে মৃত্যুতে যায়,
কাজের ঠেলায়
প্রেমের জন্য আলাদা আর সময় কোথায়,
পলাশ দেখে থমকে খানিক
পালিশ করে নিই সে মানিক,
যেমন করে ক্লান্ত পথিক ঘাম মুছে নেয় বাসার দাওয়ায়,
বসন্ত সেই শান্তি আনে ফাগুন হাওয়ায় ভালোবাসায়।

কাজেই যতই হই না বুড়ো,
সাধিস না বাধ প্রেমের ভাষায়।

এমনতর যুক্তিজ্বালায় বয়েস জোরে দৌড়ে পালায়..

আর্যতীর্থ

কাছে আই, বুকে আই;
বডড বেশী আদর করি।

ফাগুনে বান ডাকাবো
তুই বেহুলা, ভেলা ভাসাবি!

ভাষা ভোল বদলায়,
ভাষা বার বার ভোল বদলায়,
ভাষা একা একা যায়, ভাষা দলে দলে যায়, ভাষা অদলেও যায়, ভাষা বদলেও যায়
ভাষা রঙ পাল্টায় !
ভাষা তো হাজার জিভে শাখা প্রশাখায়
রোজ, রঙ পাল্টায়
ভাষা রোজ ওল্টায়
ভাষা কায়া পাল্টায়
ভাষা কওয়া পাল্টায়
ভাষা মায়া দিয়ে ছায়, ভাষা কি পোড়া পোড়ায়
ভাষা কি পাঠ পড়ায়, ভাতে কি কি মেখে খায়
সব পাড়া দিয়ে যায়, কিছু হাসি ঠাট্টায় -
ভাষা জিভে জিভে জুড়ে রাখে কী ভালোবাসায়
জোড়ায় জোড়ায়, ভাষা রোজ জন্মায়, সহ-মরণে যায়,
সহ-মরণে যায়-
ভাষা বুকের ভিতর রোজ চেতনা খায়, ভাষা সালটে দেয়, ভাষা পাল্টে দেয়
ভাষা মোকে ভাষা দেয় !

ভাষা মোকে ভাষা দেয়, ভাষা তোকে ভাষা দেয় -
ভাষা মুখে ভাষা দেয় ভাষা মূকে ভাষা দেয় -
ভাষা, না বলা না আঁকা কোটি চিত্রকলায় -
ভাষা রক্তে বাঁচে ভাষা রক্তে নাচে
ভাঙে বন্ধ খাঁচা, ভাষা রক্ত নাচায়,
ভাষা মনের আঁচে পুড়ে উদোম বাঁচে -
ভাষা অশ্বমেধের ঘোড়া দশদিকে ধায় -
ভাষা, রাজধন পায়ে ফেলে বাজারে বিকায়
ভাষা হাঁটু তোলা ভোগা পায়ে রোগা বিডি খায়
ভাষা পায়েতে জড়ায়, ভাষা গলায় পরায়
ভাষা দুই পায়ে চারবার জাত পাত খায়,
- দিনে দুই দশ বার জাতও হারায়
ভাষা উলটিয়ে যায় - ভাষা পাল্টিয়ে যায় –
দুই পা এগিয়ে ভাষা পাল্টে যায় -

ভাষা পাল্টে যায়, তবু একই থাকে
ভাষা ভাষাই থাকে,
ভাষা একই থাকে, ভাষা একটি কথাই বলে নিজের ভাষায়, প্রতিবাদের ভাষায়, ভালোবাসার ভাষায় !
ভাষা ভাষাই থাকে,
লোক পাল্টে যায়।

"আপনি তৈরি স্রেফ কৃমি থেকে তিমিমাছ"

 
আমার যে অংশটা কৃমির দিয়ে দেবো ফিতাকৃমি, সুতোকৃমিদের
অন্ত্রের ভিতরে আহা তাদের মোচ্ছব,
পিঙ্গল সংসার!
যে অংশটা তিমির দিয়ে দেব সুবৃহৎ তাকে, করোটি তার
অতলরাশির তলে, সে কী জানে আমার বিষাদের
রমরমা কী কারবার! হে হে, এই অব্দি শুনে
সুতপা সুহাসিনী, নৌকার বৈঠা ছেড়ে, বলেছিল, কি ফেরত
দেবে হে আমার?
তাহার যে অংশটা বৈকালিক স্বর্ণবিন্দু রোদ্দুর দিয়ে দেবো
ফেরত আর আমি নেব শ্যামল সাঁঝের স্বেচ্ছা আন্ধার
ফেরত দিয়ে দেব তার কাঁচ-ভাঙা হাসি, সুতানুটির
পাকদন্ডীতে তার কোমল ছায়ার চরণ কার কোন অংশ
থেকে নিয়েছিলো সে? রাতের চায়ের লিকারে
পিরিচে পেয়ালায় তার আঙুলের পিয়ানো, যদি আহা
উহ্য থাকতো এ অলপ্পেয়ে জীবনে, কী যে কাকে ফেরত
দেবো, ভেবে দেখি আহা মরণ ফেরত চেয়েছে আমারে
ব্যাখাবিহীন শূন্যতার রেতঃসায়রে ............

পলাতকা গাঢ় হলে তাকে ফিকে রঙ দিও
অলকচূর্ণ তার শিকড় মেলতে চাইলে তাকে দিও উচাটন কাঁকই
মনের লিরিকবাগানের দুরূহ পালকে ঢাকা সে কোয়েলিয়া
আহা এখন তো রিমঝিম বিকালের পড়ে আসা গান
আর ফেরারী মোরাম রাস্তা জুড়ে আজনবী ধুলো
এত ধূসর হয়েছে এই পুরাতন দেহ, আয়নাও চেনেনা আর

পলাতকা কি যে নিয়ে গেছে! সাবেক সালতামামিও বেকার!
এখন বদলের ফেরে ঘোরে গ্রহ, এখন তো জনতা মানে
কবিতা মানে কথকতা, ল্যাবের অবাক চিরাগ
পলাতকা, শিখিয়েছিল এই দুই নয়নের মেঘলা ব্যবহার, আরো কত
এলোমেলো অঘটনে ঝরে গেছিল পতঝর, ঝিমধরা
সাতনদী, পৃথিবীর হিমসুখে ঘুমানো বকুলবাগান
পলাতকা, সে মাটি নয়, সে সোনা নয়
বরাঙ্গে তার একই সাথে কী ভীষণ হেসেছিল খেলেছিল
দুর্মর যত কবিতার সঞ্চয় আর অথৈ অপচয়

 
রাফ স্ক্রিবল্

পাতার হৃদয় জুড়ে বাড়তে থাকা উপশিরা বিকেল জুড়ে পড়ে রইলো। ক্লাসরুমে অনির্বচনীয় শান্তি, নৈরাশ্য ও ঔপনিবেশিক দোলাচল। যে আস্তিন লুকিয়ে রাখে সমবেত সামগান, যে পিউকাহা তটিনীর বেনোজলে ডুবে যায় বসন্তে, তার পাদদেশে বসে থাকি। নিতান্তই স্বপ্ন, অথবা ঘুমের মত আদিগন্ত জ্যোৎস্নায় আবিল পাকদন্ডী। সেটা ধরে খানিক যাওয়ার পর নাটুকে সংলাপ, নিশাচর যাত্রাপালার শব্দ পুরাণের মত লাগে। এই উত্তাপ শুয়ে ছিল বাতায়নে, ঘরের স্বস্তি তাকে শীতল এক থার্মোমিটার উপহার দিলো। সিলিংয়ের ঝুলকালি পাপের মত বাড়তে বাড়তে মেঝেতে ঝরে পড়ে। ইহকাল ফুরিয়ে আসে মৃতপ্রায় মর্টিনের মত। শ্যাওলা কুরে খায় জরদ্গব পাঁচিলের দেহপট। এভাবে আমরা অনিকেত হয়ে উঠি। অথবা ঘর ফিরে পায় সমভূমির আদিম সন্তানেরা। সপুষ্পক হয়ে ওঠে বিটপী। চাঁদের আলোয় বিজ্ঞাপন মুছে যায়।

। কাঁচামাল।

আজ অবধি যত প্রাণী আয়ু শোধ হলে মরে গেছে,
তাদের সে দেহগুলো গিয়েছে কোথায়?

আইনস্টাইনের সূত্র ই ইকুয়াল টু এম সি স্কোয়ার ধরলে,
তারা শক্তি হলে পৃথিবী এতদিনে হাজার তারার সমান জ্যোতিপূর্ণ হতো।
তা যখন হয়নি,
সূর্যের তিননম্বর গ্রহটি আজও যখন তারই সৃষ্টিনক্ষত্রের আলো-প্রত্যাশী,
সুতরাং ধরে নেওয়া যেতে পারে আজকের জৈব অনুতে
সেইসব গতায়ু প্রাণীদের ডি এন এ
নতুন অবতারে মিশে আছে অযুত জীবিত কোষে কোষে,
অতীতের প্রোটোপ্লাজম
বর্তমানের বাতাস জল মাটিতে পুষ্টি জোগাচ্ছে আগামীর চারাদের,
অজৈব’র হাত ঘুরে আবার
একই কার্বন, হাইড্রোজেন অক্সিজেন নাইট্রোজেন
ঢুকে পড়ছে নতুন জীবনের ধারায়।

তার মানে এই যে আপনি অমুক চন্দ্র তমুক
অথবা অমুকা রাণী তমুকা,
আপনাদের শরীরের প্রতিটি কোষের কাঁচামাল
পৃথিবীর প্রথম এককোষী প্রাণীটির থেকে ধার নেওয়া।
আপনার মধ্যে ঠিক কতটা গাছ
আর কতটা ডাইনোসর,
আদিম শ্যাওলা ও অনতি-অতীতে লুপ্ত হওয়া ম্যামথের অনুপাত কত,
কেউ জানে না।

হতে পারে আপনি যে ধর্মকে গালাগালি দেন,
সে ধর্মের প্রবর্তকের কিছু জৈব অনু
আপনার মগজের কোষে,
আপনি যে দেশের নাগরিককে শত্রু ভাবেন,
তার সাথে আপনার শরীর ভাগ করে নিয়েছে
ধূসর অতীতে হারানো কোনো প্রাগৈতিহাসিক অরণ্যচরের জৈব-অংশ,
যার দেহাংশ আজ অবধি আবিষ্কার হয়নি।

মোটকথা, আপনি যিনিই হোন,
যেখানেই থাকুন আর যাই কাজ করুন,
আপনি তৈরি স্রেফ কৃমি থেকে তিমিমাছ,
অধুনা-লুপ্ত শত গাছ,
পোকা, পাখি, হরিণ, শুয়োর, গরু , ছাগল ..
এমন লক্ষ লক্ষ মৃতদেহের মিশ্রণে,
আপনার উপাদানের পুরোটাই ধার করা অতীতের থেকে,
আবার আপনিও
আগামী জীবনের কাঁচামাল ছাড়া আর কিছু নন।

তার পরেও আপনি দেশ, জাতি, ধর্ম, ভাষা..
আরো না জানি কত খোপে মানুষজনকে বেঁটে চলেছেন রোজ!

ছোঃ! কাঁচামাল নিয়ে এত কেউ করে নাকি খোঁজ?

আর্যতীর্থ

এই কি তোমার সময় হল হাতের ওপর হাত রাখার
উষ্ণ গরম! ঘামছ ভীষণ!
চাই কি সময় একলা থাকার!

ওভাবে ছুঁস না আমায়, কেমন যেন ভয় করে
এভাবে পোড়াস কেন পাগলীরে তুই
গহন ওমের শীত জ্বরে?

এ কি! তোমার কাঙাল হাতে শিকড় বাকড় বটের ঝুরি—
অক্ষি গোলক কোন কোটরে!
কোন গহ্বরে বসায় ছুরি?

তোর ঠোঁটও তো জলবিছুটি, বড্ড জ্বালায় অন্তঃপুরে
যে ভাবে বৃষ্টি আসার গন্ধ নামে
বাদলা পোকার শরীর জুড়ে—

এখনো কান্না পেলে আকাশ দেখো তেমন করে!
এখনো বুকের হাড়ে নির্নিমেষে
পান্না ধোয়া জ্যোৎস্না ঝরে!

ওভাবে বলিস না তুই; অন্য মানুষ, বন্য স্বভাব- রিক্ত স্বরে
এখনও কণ্ঠ আমার কীর্তিনাশা
আত্মজকে পণ্য করে
বেচে দিই শরীর, শোণিত, অন্ত্র এবং শ্বাসের বায়ু অবসরে
অবশেষ আয়ু আমার
ঘুণের পোকা খাচ্ছে কুরে –

সে তুমি বণিক হলে, কিংবা শুধুই ভুল বকেছ ধুম জ্বরে
এখানে দাঁড়াও খানিক বৃক্ষ তলে
মুখ রেখে দাও আমার বুকে
যেভাবে সদ্য শাবক গো-শিশুটি ওষ্ঠ রাখে মাতৃ গাভীর বৃন্ত সুখে
অথবা সন্ন্যাসী হয় যে নদীটি পূর্ণ শশীর শীৎ জোয়ারে
সেভাবেই ঋদ্ধ কর আগন্তুক এক জাতিস্মরে—।।

। শেকল।

কে বেশি ভ্রমণে সক্ষম ?
তোমার আদিম পূর্বজ, বল্কল-সজ্জিত পাথুরে অস্ত্রজীবী গুহার মানুষ
নাকি তুমি, ফোনে যার মেক মাই ট্রিপ , উবের আর ওলা,
হুট বললেই চলে যেতে পারো হুউশ?

প্রশ্নটা বোকার মতো মনে হচ্ছে?
চাকা আবিষ্কারের আগের সময় বনাম জেট-যুগের
তুলনাই তো ভুল !
পকেটে পয়সা আর মনে যদি থাকে সেই ইচ্ছে,
এখন ব্রেকফাস্ট লাঞ্চ ডিনার তিনটে আলাদা মহাদেশে করা সম্ভব।
কোথায় আমরা ,
আর কোথায় সেই ফলপাকুড় খোঁজা ম্যামথের তাড়া খাওয়া জরদগব!

দাঁড়াও, জি পে আর মেক মাই ট্রিপ নিয়ে ঘোরা পথিকবর।
তিষ্ঠ ক্ষণকাল.. ভালো করে বলো দেখি ভেবে,
শেষ কবে ‘ মনে হলো , চলে গেলাম’ বলে গিয়েছো কোনখানে?
সংখ্যায় নগন্য হিসেবে,
গেলেও ব্যবস্থা করে যেতে হয় স্থায়ী আস্তানাটার,
পড়শিকে চাবি দিয়ে বলে যেতে হবে গাছে কবে জল দরকার,
কাজ হলে ছুটি নিতে হবে .. সি এল ই এল ইত্যাদি করা অ্যাপ্লাই.
ব্যবসায় আরো চিত্তির, সেখানে তো দিন খাই দিন সাপ্লাই,
ক্লায়েন্ট না চটে যেন, মাল যেন না দিয়ে যায় ভেন্ডর..
এরকম কত না থাকে জীবনের দাবী..
মোটকথা, যেইখানে যাও,
তোমার কোমরে গোঁজা ঘর বলে ভাবা এক ঠিকানার চাবি।

আর সেই আদিম মানব? তার ঘর অরণ্য গিরি কন্দর,
সাগরের বেলাভূমি, নদীদের তীর
সংক্ষেপে ,মালিক সে গোটা পৃথিবীর।
তল্পিতল্পা কিছু নেই। রোজ ভোরে উঠে সে ইচ্ছে মতন হাঁটে যেই দিকে দুচোখ তার যায়,
ফেরার ভাবনা নেই, সামনে এগোনো শুধু, কাউকে বলবারও নেই কোনো দায়,
সঙ্গীরা চলমান তার সাথে সাথে, যাত্রা ও বসত সব ইচ্ছানুসারী,
দরকারে বাড়ি ভাবা জায়গাকে স্থায়ীভাবে ছেড়ে, হুট করে দিতে পারে পাড়ি।

ওহে মেক-মাই- ট্রিপ-ধারী, যাওয়ার উপায় আছে বলে,
সত্যি কি যেতে পারো?
বাঁধা তুমি ‘বাড়ি’ বলে ভাবা এক ভ্রমের শেকলে।

‘হাজার বছর আমি পথ হাঁটিতেছি’..
কোনো আধুনিক কবি নয়,
এ পংক্তি-রচয়িতা অনেক প্রজন্ম আগে পূর্বজ যাযাবর কেউ আসলে।

আর্যতীর্থ

১) অরোরা ঘ্রাণ
যদি একফালি আলো এনে বুনে দিতে পারো তার পিঠের ওঠোনে
সেটা লজ্জিত হয়ে মুখ লুকোবে অবারিত জোছনার রাজত্ব দেখে
এমনই এক প্রান্তর তার বিরল পাখা মেলে বসে থাকা কতো প্রজাপতি !
সেই উদ্ধৃতি উচ্চারণ করে
করতল দিয়ে নরম পরশ পেলে মহুয়া মহুয়া ঘ্রাণ সেই উদ্যানে
উড়ে এসে ধুয়ে দিতো সেদিনের সব দুঃখ, কষ্ট, যাতনা বেদনা
যেন হাজার বছর ধরে মুখ গুঁজে বসে থাকা যেতো সেই যাতনা ভাঙা
বড় পিঠ খোলা জামার আদলে, কোনো শব্দ নেই, নিঃশ্বাসের বাণী শুধু
ঘুরে ঘুরে
বয়ে আসে অরোরা অরোরা ঘ্রাণ তার আসমুদ্র হিমাচল জুড়ে!

২) প্রবীণ নাবিক
এ্যাতো দিন পরে আমার লেখা কবিতার সব শব্দ গুলো যদি সত্যি হয়ে যায়
যদি রৌদ্র ক্যাপ খুলে মাথা নত করে এক সপ্ততল পৌরাণিক জাহাজের প্রবীণ নাবিক
দূরের কোনো এলাচের দ্বীপ থেকে তুলে আনা একলক্ষ জোনাকি যদি দেয় ছড়িয়ে
তার পুরাতন ভাঙা পাটাতন খুলে, বিষণ্ণ জল ভেঙে সমুদ্র বেয়ে
তোমার বন্দরে আসা তারকার সর্বনাশী ম্যাপ খুলে দ্যায়,
তোমাকে দ্যাখায় সেই রোদে পোড়া লবণাক্ত ক্ষত বিক্ষত বিদগ্ধ শরীর
যদি তাতে প্রাণ পেয়ে আলোকিতা হয়ে জেগে ওঠে তোমার ভূমিকা,
এলাচের ঘ্রাণে ঢলে পড়ো তুমি, ঘোরে বিঘোরে অনামিকা খুলে খুলে যায়
তোমার আঁধার মঠে হাঁটু গেঁথে যদি সে প্রদীপ জ্বালিয়ে করতল জুড়ে
সুরাহ্ মন্ত্র ইত্যাদি ভুল ভাল উচ্চারণ করে তার বাসনা প্রকাশ করে
তাহলে কেমন হবে? হে মায়াবী নাক্ষত্রিক তুমি, তুমি তখন তাকে
তোমার চাতালে ময়ূর আসন পেতে দেবে? তোমার বা্রান্দা ঝোলানো লেখা
‘প্রবেশ নিষেধ’ সাইনটা তুলে নিয়ে বেতের মোড়ায় বসে ঝরিয়ে দেবে কি বলো
অশ্রু ভেজা জলসিঁড়ি নদীর দুটো শাখা প্রশাখা? হাতে ধরা কম্পিত সোনালি
পেতল থালা সঘন প্রসাদ, মুখে সেই এলাচের ঘ্রাণ মাখা অনাবৃত জিভে না-বলা
ভুলে যাওয়া সেই সাতমহলা লালাভ ডগার ক্ষণে উৎসারিত উন্মন
আমন্ত্রণ? একটা পলকে এক ঝলক এসে যাবে কোজাগরী চন্দ্র স্মরণ …!!